সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে বৃষ্টি এলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, চরম ভোগান্তি

সিলেটে বৃষ্টি এলে চলে যায় বিদ্যুৎ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া হয়। এক-দেড় ঘণ্টা পর ঝড়-বৃষ্টি থামলেও টানা ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ফেরেনি। এমন অবস্থা বেশ কয়েকদিন ধরেই সিলেটে চলছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিলেটবাসীকে।

জানা যায়, গত কয়েকদিন দিন ধরে মাঝে মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে সিলেটে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত শুরু হলেই সিলেটের বিদ্যুতের লুকোচু’রি খেলা আরম্ভ হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন চলতে থাকে সিলেটে। এমন বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কা’টাতে হয়েছে সিলেট নগরবাসীসহ সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে।

গ্রাহকদের অ’ভিযোগ, একটু বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ’পেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। আবার সংযোগ দিলেও কিছুক্ষণ পরপর ফের বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে- ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে যখন বিদ্যুৎ চ’মকায়, তখন সঞ্চালন লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বড় ধরনের ক্ষতির আশ’ঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আর ঝড়-বৃষ্টিতে লাইনের উপর গাছ-পালাসহ অনেক কিছু পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই পুনরায় সংযোগ দিতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।

জানা যায়, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর অধীনস্থ ওসমানীনগর (খাশিখাপন) জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকাগুলোতে সম্প্রতি বিদ্যুতের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কয়েকদিন আগে ওই অফিসের আওতাধীন দক্ষিণ গতরমা’র নাজিরবাজার এলাকার মানুষ রাতে সড়ক অবরোধ করে বি’ক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রায় ১ ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বা’সে সড়ক অবরোধ তুলে নেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। কিন্তু যেদিন সড়ক অবরোধ করা হয় সেদিনই মধ্যরাত থেকে ফের বিদ্যুৎ চলে যায়। আসে পরদিন দুপুরে। এ অবস্থায় ওই এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। শীঘ্রই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন না করলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুশিয়ারি প্রদান করেছেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার নজরুল ইস’লাম মনির বলেন, একটু বৃষ্টি নামা’র আগে বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। বৃষ্টি শেষ হলেও সংযোগ দেয় না। এভাবেই বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে। সর্বশেষ গত (মঙ্গলবার দিবাগত) রাত ১টার দিকে বিদ্যুৎ যে গেছে, ১২ ঘণ্টার উপর হয়ে গেলো কিন্তু এখনও আসেনি বিদ্যুৎ।

তিনি বলেন, এখন চলছে পবিত্র রমজান মাস। ইফতার ও সেহরির সময়ও বিদ্যুৎ বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এভাবে চললে আম’রা সর্বস্তরের এলাকাবাসী কঠোর আ’ন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

চন্ডিপুল এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে আমাদের ব্যবসা করা দায় হয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ নাই হয়ে যায়। ফলে আম’রা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।’

আরেক ব্যবসায়ী সাজিদুর রহমান সাব্বির বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিতে এমনটি হয়। তারা শুষ্ক মৌসুমে ঠিকমতো গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন করে না। পুরোনো লাইন, খুঁটি ও ট্রান্সমিটার এসব পরিবর্তন করে না। ফলে হালকা ঝড়-বৃষ্টি হলেই নানা সমস্যা দেখা দেয়।’

এ বিষয়ে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি একটু বেশি সমস্যা হচ্ছে এটি ঠিক। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি শুরুর পর যখন মূল সঞ্চালন লাইনে সমস্যা হয় তখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে একটু সময় লাগে।

তিনি বলেন, কুমা’রগাঁও স্টেশন থেকে যাওয়া মূল সঞ্চালন লাইনে গতকাল রাতে বড় সমস্যা হয়েছে। সেটি দূর করতে কাজ চলছে।

ওসমানীনগরের খাশিখাপন সাব-স্টেশনের আওতাধীন এলাকাগুলো ঘন ঘন সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ওই এলাকায় যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিলো সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়েছে। আর গতকাল রাতে হওয়া সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)-এর বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ে আমাদের হাত নেই। যখনই সমস্যা হয় তখনই আম’রা সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বৃষ্টি শেষ হলে ফের সংযোগ চালু কর হয়।

তিনি বলেন, যখনই সংযোগ লাইনে সমস্যা হয় তখনই আম’রা কাজে নেমে পড়ি। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনেক রাত হলেও আম’রা ঘুমাতে যেতে পারি না।

সম্প্রতি সমস্যা বেশি হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ইদানীং ঝড়-বৃষ্টিও বেশি হচ্ছে। গতকালের ঝড়ে এক জায়গায় একটি ঘরের অনেকগুলো টিন বিদ্যুৎ লাইনের ওপর এসে পড়ে লাইন ছিঁড়ে গেছে। এমন সব মা’রাত্মক সমস্যা হওয়ার কারণে অনেক সময় সংযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দেরি হয়ে যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল কাদের বলেন, আম’রা শুষ্ক মৌসুমে যতোটা পারি সংযোগ লাইনের আশপাশের গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন করি। কিন্তু পুরো গাছ কে’টে ফেলার অনুমতি আমাদের নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: