সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

জগন্নাথপুরে গাছ পড়ে তিনজনের মৃ’ত্যু, এক বিছনায় থেকেও বেঁচে গেলো সেলিনা

বেঁচে আছি বিশ্বা’স হচ্ছিল না। আমা’র পাশেই মামি ও মামাতো ভাইবোনের নিথর দেহ পড়ে ছিলো। কিভাবে মৃ’ত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলাম বুঝতেই পারিনি।

এমনটি বলছিলো কালবৈখাশী ঝড়ের তা’ণ্ডব থেকে বেঁচে যাওয়া স্কুল শিক্ষার্থী সেলিনা বেগম (১৩)।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে জগন্নাথপুর উপজে’লার পাটলী ইউনিয়নের সোলেমানপুর গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় বসতঘরের খাটে শোয়া অবস্থায় তিনজন মা’রা যান। নি’হতরা হলেন মৌসুমী বেগম (৩৫), হোসাইন মিয়া (১) ও মাহিমা বেগম (৪)। ওই খাটেই মামী ও মামাতো ভাইবোনদের সাথে শুয়ে ছিলো সেলিনা।

সে বলে, সেহরি খেয়ে আম’রা ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও একের পর এক বিকট বজ্রশব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমা’র ও মামির। তখন ভয় কাঁপছিলাম। হঠাৎ একটি গাছ আমাদের ঘরের খাটের ওপর আছড়ে পড়ে। গাছের মূল অংশ মামি ও দুই শি’শুর ওপর পরে। এতে ঘরটিও দুমড়ে মুচড়ে যায়। গাছ পরার পর কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিলো না। জ্ঞান ফিরে আসার পর চি’ৎকার করতে থাকি। বাঁ’চার চেষ্টা করি।

সেলিনা বলে, মামি ও তার দুই সন্তানের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে ছিলো। কিছুক্ষণ পর সামান্য ফাঁকা জায়গা পেয়ে ঘর থেকে কোনমতে বেরিয়ে আসি। গাছ ও চাল আমা’র শরীরের সামান্য ওপরে ছিল।

নিজে বেঁচে গেলেও মা হারা সেলিনা মামির কাছে মায়ের আদরেই ছিল। তাকে ও তার সন্তানদের হারিয়ে কা’ন্নায় ভেঙে পরে সে।

মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেলিনা ছোট’কালে তার মাকে হারিয়ে মামা হারুন মিয়া ও নানা ইয়াংরাজ ও নানী নুরজাহানের কাছে বেড়ে উঠে। তাদের গ্রামের বাড়ীর নেত্রকোনা জে’লার কেন্দুয়া উপজে’লার চকবানিয়াপুর গ্রামে। তার বাবা দিলু মিয়া গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। নানা, নানী ও মামা’র সঙ্গেই জগন্নাথপুরে বসবাস করে সেলিনা। স্থানীয় পাটলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।

সেলিনার নানা ইয়াংরাজ উল্লা জানান, ঝড়ের সময় আমি ও আমা’র স্ত্রী’ পাশের একটি কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ করেই আমাদের পাশের আরেকটি কক্ষে গাছ পড়ে আমা’র ছে’লের বউ, নাতি ও নাতনি ঘটনাস্থলেই মা’রা যায়। আম’রা ঝড়ের মধ্যে বের হয়ে তাদেরকে উ’দ্ধারের চেষ্টাকালে দেখতে পাযই সেলিনা কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেলেও বৌমা ও নাতি ও নাতনির মৃ’ত্যুতে আমি বাকরুদ্ধ।

এদিকে স্ত্রী’ ও দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় সেলিনার মামা হারুন মিয়া। তিনি জানান, ঝড়ে আমা’র সব শেষ হয়ে গেছে। আমি কেন বাঁচলাম। তাদের সঙ্গে ম’রে গেলাম না কেন, বলে কাঁদতে থাকেন। ঝড়ের সময় তিনি ফজরের নামাজের জন্য অন্য একটি কক্ষে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জগন্নাথপুরের সোলেমানপুর গ্রামের যু’ক্তরাজ্যপ্রবাসী বুলু মিয়ার বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে নেত্রকোনা জে’লার কেন্দুয়া উপজে’লার চকবানিয়াপুর গ্রামের হারুন মিয়া তার স্ত্রী’ ও দুই শি’শুসন্তান নিয়ে থাকতেন। তিনি প্রবাসীর বাড়ি দেখাশোনার পাশাপাশি স্থানীয় মিনহাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খন্ডখালিন শিক্ষকতা করতেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় কাঁচা বসতঘরে হারুনের স্ত্রী’ ও দুই শি’শু সন্তানের মৃ’ত্যু হয়। সুত্রঃ সিলেট টূডে

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: