সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা বলে ঢাকায় নিয়ে ‘ধর্ষণ’

গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে এক নারীকে ধ’র্ষণের অ’ভিযোগে করা মা’মলায় চারজনকে গ্রে’প্তার করেছে রেব।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

রেব জানিয়েছে, রাজধানীর রামপুরা ও হাতিরঝিল থেকে গ্রে’প্তার চারজন সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা হলেন চক্রের হোতা কা’ম’রুল আহমেদ, খালেদ মাসুদ হেলাল, তোফায়েল আহমেদ ও মো. জামাল।

গ্রে’প্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ২৭টি পাসপোর্ট, একটি মনিটর, একটি সিপিইউ, একটি মাউস, একটি কী’-বোর্ড, একটি ইউপিএস, ভু’য়া ভিসার ১০০টি কপি, ১২৫টি ভু’য়া টিকেট, চারটি মোবাইল, কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার দুইটি ফরম এবং একটি প্রিন্টার উ’দ্ধার করে রেব।

সংবাদ সম্মেলনে রেব-৩ অধিনায়ক আরিফ মহিউদ্দিন জানান, একজনের অ’ভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩ জানতে পারে, রামপুরা এলাকায় মানবপাচার ও প্রতারক চক্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রলো’ভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওই চক্রের সদস্যরা ভুয়া ভিসা ও টিকেট দিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক বেকারদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে।

তিনি জানান, বিদেশ যাওয়ায় ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ভুয়া ভিসা ও টিকিট নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর বিপাকে পড়েন। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা ও টিকিট জাল হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে অনেককে।

নারীকে উ’দ্ধার যেভাবে

রেব কর্মক’র্তা মহিউদ্দিন জানান, কিছু সুনির্দিষ্ট অ’ভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩-এর একটি দল চক্রের সদস্যদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া ত’দন্ত শুরু করে। ১২ এপ্রিল চক্রটি মৌলভীবাজার থেকে একজন নারীকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে পাঠানোর প্রলো’ভন দেখিয়ে রামপুরা এলাকার কা’ম’রুলের বাসায় নিয়ে আসে। ওই বাসায় আ’ট’ক রেখে তোফায়েল নারীকে ধ’র্ষণ করেন।

ওই নারী মোবাইলে সাহায্য চাইলে র‍্যাবের দল ১৩ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে রামপুরা এলাকায় অ’ভিযান চালায়। সে অ’ভিযানে নারীকে উ’দ্ধার করা হয়।

কী’ভাবে দালালের কাছে

জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী রেবকে জানান, তিনি সাইফুল ইস’লাম শান্ত নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর সাইফুল যৌতুক বাবদ ধাপে ধাপে ৫ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায়।

ওই নারী আরও জানান, মে’য়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার বাবা যৌতুকের টাকা ধারদেনা করে জোগাড় করেছিলেন। পাওনাদাররা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকলে তিনি গ্রামের দালাল তোফায়েলের শরণাপন্ন হন।

ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তোফায়েল তাকে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব পাঠানোর প্রলো’ভন দেখান। তিনি সৌদিতে যেতে রাজি হন। এরপর সৌদি যেতে হলে আরবি ভাষার ট্রেনিং করতে হবে বলে তাকে ঢাকায় কা’ম’রুলের বাসায় এনে আ’ট’ক রেখে ধ’র্ষণ করা হয়।

রেব জানায়, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে ওই নারীকে রামপুরা থা’নায় পাঠানো হয়। নারী বাদী হয়ে রামপুরা থা’নায় নারী ও শি’শু নি’র্যা’তন দমন আইনে মা’মলা করেন।

আ’সামিদের দেয়া তথ্য

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আ’সামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে রেব জানায়, আ’সামিদের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স নেই, কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানির নামে অ’বৈধভাবে ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে লোক পাঠাত। এ ছাড়াও চক্রটি মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে জনশক্তি পাঠানোর প্রলো’ভন দেখিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক বেকারদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিত। বিনিময়ে ভুয়া ভিসা ও ভুয়া টিকিট ধরিয়ে দিত ভুক্তভোগীদের হাতে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ভুক্তভোগীরা ভু’য়া ভিসা ও টিকিট নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরে এসে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়, কিন্তু তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এভাবে গত দুই বছরে চক্রের সদস্যরা আটবার বাসার ঠিকানা পরিবর্তন করে।

গত পাঁচ বছরে চক্রটি অ’বৈধভাবে শতাধিক লোককে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠায়। তারা বিদেশ গিয়ে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

যেভাবে গড়ে ওঠে প্রতারক চক্র

র‍্যাব জানায়, চক্রের হোতা কা’ম’রুল নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। তার নির্দিষ্ট পেশা নেই। প্রতারণা ও মানবপাচারই তার কাজ।

২০১৯ সালে কা’ম’রুল ভ্রমণ ভিসায় সংযু’ক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যান। তারপর সেখানে মানবপাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দুবাইয়ের রেসিডেন্স ভিসা পান তিনি। সেখানে একটি প্রাইভেট’কার কিনে নিজে ড্রাইভিং করে অর্থ উপার্জন করেন।

করো’নার প্রাদুর্ভাব হলে প্রাইভেট’কারটি বিক্রি করে ২০২১ সালের মে মাসে দেশে ফিরে এসে আবার প্রতারণা ও মানবপাচার শুরু করেন কা’ম’রুল। তিনি বিভিন্ন ট্যুরস ও ট্রাভেলসের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ’বৈধভাবে ভ্রমণ ভিসায় বিভিন্ন দেশে লোক পাঠাতেন।

র‍্যাব আরও জানায়, ভুয়া টিকিট সরবরাহ করে পাঁচ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা। কা’ম’রুলের নামে চট্টগ্রাম কোর্টে একটি চেক জালিয়াতির মা’মলা এবং মৌলভীবাজার কোর্টে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ১৮ লাখ টাকার একটি মা’মলা রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৮ লাখের বেশি টাকা আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: