সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৮ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

২১ বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভ’য়াবহ বো’মা হা’মলার পার হতে চললো ২১ বছর। আট বছর আগে হা’মলার ঘটনায় হ’ত্যা মা’মলার রায়ে আটজনের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও ছয়জনের যাব’জ্জীবন কারাদ’ণ্ডের আদেশ দেন আ’দালত। তবে একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক আইনের মা’মলার বিচারকাজ শেষ হয়নি এখনো।

বিস্ফোরক আইনের আ’লোচিত এ মা’মলা’টি ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভুইয়া জাগো নিউজকে বলেন, রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বো’মা হা’মলার ঘটনায় বি’স্ফো’রক আইনে করা মা’মলায় ৮৪ জনের মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। আগামী ২০ এপ্রিল মা’মলা’টির যু’ক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। এরপরই রায়ের দিন ধার্য হবে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মা’মলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য হবে। রায়ে সব আ’সামির সর্বোচ্চ শা’স্তি প্রত্যাশা করছি আম’রা।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ এপ্রিল মা’মলা’টির যু’ক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। আ’সামিপক্ষের আইনজীবীরা মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফকে আবারও জেরা করার আবেদন করেছিলেন। আ’দালত তা নামঞ্জুর করায় উচ্চ আ’দালতে যেতে আ’দালতের কাছে সময় প্রার্থনা করে আ’সামিপক্ষ। পরে আ’দালত আবেদন মঞ্জুর করে যু’ক্তি উপস্থাপনের জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

আ’সামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বো’মা হা’মলার ঘটনায় বি’স্ফো’রক আইনের মা’মলা’টির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। এ মা’মলার যু’ক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছি।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ ১৪০৮ বঙ্গাব্দ) ভোরে রমনার বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে দুটি বো’মা পুঁতে রাখা হয় এবং পরে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে সেগুলোর বি’স্ফোরণ ঘটানো হয়। ওইদিন বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে একটি ও ১০টা ১৫ মিনিটের পর অন্য বো’মাটি বি’স্ফোরিত হয়। নিষিদ্ধঘোষিত জ’ঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নৃ’শংস ওই বো’মা হা’মলায় প্রা’ণ হারান ১০ জন। আ’হত হন আরও অনেকেই। এ ঘটনায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আ’সামি করে ওইদিনই রমনা থা’নার পু’লিশ বাদী হয়ে হ’ত্যা ও বি’স্ফো’রক আইনে আলাদা দুটি মা’মলা করেন।

মা’মলার বিবরণে বলা হয়, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান ‘ইস’লামবিরোধী’ বিবেচনা করে ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বো’মা হা’মলা চালানো হয়। হা’মলায় ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃ’ত্যু হয়। পরে হাসপাতা’লে মা’রা যান একজন।

২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর শীর্ষ হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অ’ভিযু’ক্ত করে সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ আ’দালতে হ’ত্যা ও বি’স্ফো’রক আইনে আলাদা দুটি সম্পূরক অ’ভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অ’তিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মুফতি হান্নান, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মা’ওলানা তাজউদ্দিনসহ আটজনের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড এবং ছয়জনকে যাব’জ্জীবন কারাদ’ণ্ড দেন বিচারক।

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আ’সামিরা হলেন—মা’ওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), মা’ওলানা আকবর হোসাইন, মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক), হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মা’ওলানা আবু বকর, মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক) ও আরিফ হাসান সুমন। দ’ণ্ডপ্রাপ্ত এ আট আ’সামিকে মৃ’ত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁ’সিতে ঝুলিয়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন আ’দালত। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদ’ণ্ড দেওয়া হয়।

এ মা’মলায় যাব’জ্জীবন কারাদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামিরা হলেন হাফেজ মা’ওলানা আবু তাহের, মা’ওলানা সাব্বির, হাফেজ ইয়াহিয়া, মা’ওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মা’ওলানা আব্দুর রউফ ও মা’ওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল। ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের যাব’জ্জীবন সশ্রম কারাদ’ণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদ’ণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ’ণ্ড দেওয়া হয়।

বি’স্ফো’রক আইনে করা মা’মলায় ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন মা’মলার অন্যতম আ’সামি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেন।

এ মা’মলায় অ’ভিযু’ক্তরা হলেন মুফতি আব্দুল হান্নান, মা’ওলানা আকবর হোসাইন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মা’ওলানা আবু বকর, মুফতি শফিকুর রহমান, মা’ওলানা তাজউদ্দিন, আরিফ হাসান সুমন, হাফেজ মা’ওলানা আবু তাহের, মা’ওলানা সাব্বির, হাফেজ ইয়াহিয়া, মা’ওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মা’ওলানা আব্দুর রউফ ও মা’ওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নানের ফাঁ’সি কার্যকর হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হা’মলার দায়ে তাকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দেওয়া হয়। ফলে বি’স্ফো’রক আইনের এ মা’মলা থেকে অব্যাহতি পান হরকাতুল জিহাদের এ শীর্ষ নেতা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: