সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে মাত্র ৫০ টাকার জন্য আ’ন্দোলন করছেন মাংস ব্যবসায়ীরা

মাত্র ৫০ টাকার জন্য আ’ন্দোলন করছেন সিলেটের মাংস ব্যবসায়ীরা। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) গরুর মাংসের দাম ৬০০ টাকা ধার্য্য করে দিয়েছে। গরুর মাংসে আরো ৫০ টাকা বাড়তি এবং খাসি সাড়ে ৯শ’ টাকা ধার্য্য করে দিলে তাদের লোকসান দিতে হবে না। কিছুটা হলেও লাভ হবে।তবে নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা একবার দাম বাড়ালে আর কমাবে না। যদি তারা কথা দেন, যখন দাম কমবে, তখন মাংসের মূল্য কমিয়ে দেবেন, তবেই তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা যেতে পারে। অন্যথায় ধার্য্যকৃত দামের চেয়ে বেশি রাখলে জ’রিমানা গুনতে হবে।

এমনটি জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মক’র্তা ডা. মো. জাহিদুল ইস’লাম শ্যামল সিলেট’কে বলেন, মাংস ব্যবসায়ীরা আ’ন্দোলনে যাওয়ার আগে সিসিক মেয়র বরাবরে ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখতে পারতেন। মূলত রোজায় নগরীর রিকাবিবাজারে ৭২০ টাকা করে গরুর মাংসের দাম রাখায় ৩টি দোকানকে জ’রিমানা করা হয়েছিল। এ কারণে তারা আ’ন্দোলনে গেছেন। রমজানে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে পরে আর কমাবেন না। সিসিক থেকে গরুর মাংস ৬শ’ এবং খাসি ৮০০ টাকা ধার্য্য করে দেওয়া হয়েছিল। ২০/৩০ টাকা বাড়তি দাবি করলে সেটা বিবেচনা সা’পেক্ষ ছিল। যেখানে রাজশাহীতে গরুর মাংস ৬৩০ টাকা ধার্য্য করে দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ৫০ টাকা বাড়তি নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তাব দিতে পারতেন। তবে তারা যদি কথা দেন যখন গরুর দাম কমবে, তখন তারাও মাংসের দাম কমাবেন, তখন বিবেচনা করা যাবে।

সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক শ্যামল সিলেট’কে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ঢাকা-চট্রগ্রামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। কিন্তু তা না করে নগর কর্তৃপক্ষ বলছে ৬০০ টাকায় গরু এবং খাসি ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে। তাদের ধার্য্যকৃত দামের চেয়ে গরু ৬৮০ কিংবা ৬৫০ টাকা এবং খাসি সাড়ে ৯শ’ টাকা ধার্য্য করে দিলে আম’রা কোনো মতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবো। অন্যথায় সিসিকের ধার্য্যকৃত দামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাংস বিক্রি করতে গেলে ভিটেমাটি বিক্রি করে এনে জনগণকে মাংস খাওয়ানো লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘আম’রা কখনো আ’ন্দোলনে যাইনি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।যে কারণে আ’ন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।ব্যবসায় লোকসান দিতে গিয়ে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ বিদেশ চলে গেছেন।কেউবা ব্যবসা ছেড়ে অন্যের দোকানে কাজ করে দিনাতিপাত করছেন।নগর কর্তৃপক্ষ তথা মেয়র অন্তত একটু সুনজরে দেখলে ক্ষতি থেকে রক্ষা পাই। কেননা, এখন দাম দিয়ে গরু-ছাগল কিনে এনে জবাই করতে হচ্ছে। নগরীর প্রায় অর্ধশতাধিক মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের ১১৮ জন সমিতির সদস্য। নয়তো আম’রা শনিবার পর্যন্ত দেখবো। রোববার থেকে প্রয়োজনে সব দোকানপাট গুটিয়ে নেবো। আ’ন্দোলনে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাইনি।’

ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘রেস্তোরাগুলোতে মাংসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রেস্তোরা মালিকরাও বার বার ফোন দিয়ে যোগাযোগ করছেন। কেননা, তারা গরু জবাই করে রেস্তোরায় মাংস বিক্রি করলে কেজি হাজার টাকায় গিয়ে পড়বে। তারপরও পোষাবে না। এ অবস্থায় যদি রেস্তোরাগুলো গরুর মাংসের দাম বাড়তি রাখে, নগর কর্তৃপক্ষ তাদের বি’রুদ্ধে কিন্তু ব্যবস্থায় যাবেন না।’

নগরীর আতাউল্লাহ মিট শপের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘নগরীর সব দোকানগুলো মিলিয়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি গরু জবাই হয়। এক দোকানে গরু জবাই হলে তিন দোকানে ভাগবাটোয়ারা করে বিক্রি করে। নগর কর্তৃপক্ষও জবাই করা গরু প্রতি ১০০ টাকা করে পান। কিন্তু আম’রাতো অল্প লাভে তুষ্ট। সীমান্ত দিয়ে গরু না আসায় চড়া দাম দিয়ে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। মূলত আমাদের কেউ মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। তাই দাবির পক্ষে কেউ কথা বলছেন না। তাদের আবদার ছিল গরুর মাংসের কেজি ৬৮০/৭০০ টাকা। তবে মেয়র ৬৫০ টাকা এবং খাসি খাসি ৯৫০ দর ধার্য্য করে দিলেও আম’রা বিক্রি করবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর প্রায় ৭০টি মাংসের দোকান ছিল। অনেকে পেশা ছেড়ে দেওয়াতে এখন ৪২টি মাংসের দোকান রয়েছে। এরমধ্যে সমিতির সদস্য রয়েছেন ১১৮ জন। তাও এক দোকানে একাধিক সদস্য আছেন। ব্যবসা ছেড়ে দেওয়াদের তালিকায় আছেন অন্তত ৩০ জন। তাদের কেউ বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। কেউবা অন্যের দোকানে চাকরী করছেন। কেউ পেশা ছেড়ে দিয়ে রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করছেন।

ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বলেন, ‘দেশে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দু’র্নীতি হয়, সিন্ডিকে’টের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আম’রা মাত্র ৫০ টাকা বাড়তি চাচ্ছি। আমাদের উপর ছু’রি চালানো হচ্ছে।’

পবিত্র রমজান মাসে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তক মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় আ’ন্দোলনে যাচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এক জরুরি বৈঠকে সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ গোশত বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) থেকে গরু ও ছাগলের গোশত বিক্রি করছেন না মহানগরী এলাকার ব্যবসায়ীরা। নিজেদের লোকসান স্বীকার করেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তারা আ’ন্দোলনে অটল রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: