সর্বশেষ আপডেট : ৫১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, চক্রের ফাঁদে ৪৪ নার্স

চক্রের সদস্যরা দেখতে স্মা’র্ট। পরনে থাকে ফরমাল পোশাক। কথা বলে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে। মানুষের সঙ্গে দ্রুত সখ্য গড়ে তোলার কৌশলে পারদর্শী তারা। পরিচয় দেয় বিভিন্ন সরকারি অফিসের বড় ক’র্তা হিসেবে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে তাদের আনাগোনা বেশি থাকে। সেখানেই চক্রের সদস্যরা নিজ থেকে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হয়। চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলো’ভন দেখায়।

সখ্য গড়ে বিশ্বা’সযোগ্যতা বাড়ায়। তারপর কৌশলে বিভিন্ন খরচের খাত দেখিয়ে টাকা দাবি করে। চাকরিপ্রার্থীরাও চক্রের সদস্যদের প্রলো’ভনে প্রভাবিত হয়ে টাকার লেনদেন করে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভু’য়া নিয়োগপত্রসহ যাবতীয় সবকিছুই তারা চাকরিপ্রার্থীদের সরবরাহ করে। কিন্তু প্রার্থীরা চাকরিতে যোগদানের সময় আসল র’হস্য বের হয়ে আসে। সংশ্লিষ্ট ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিয়োগপত্র দাখিল করলে সেটি ভু’য়া বলে প্রমাণিত হয়। ততক্ষণে চক্রের সদস্যরা চ’ম্পট দেয়।

চলতি বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতা’লের (বিএসএমএমইউ) সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্ন কৌশলে তারা চাকরিপ্রার্থী ৪৪ জন নার্সের সঙ্গে পরিচিত ও পরে সখ্য গড়ে তুলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে। এসব নার্সকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে নিশ্চিত চাকরি দেয়ার কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় টাকা নিয়েছে। পরে ভু’য়া নিয়োগপত্র সরবরাহ করেছে। কিন্তু নার্সরা ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতা’লে যোগদানের জন্য গেলে বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ না করে নিয়োগপত্রগুলো ভু’য়া বলে জানান। পরে নার্সরা বুঝতে পারেন তারা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। ভুক্তভোগী নার্সরা প্রতারিত হয়ে পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অ’ভিযোগ করেছেন।

শাহবাগ থা’নায় সাদিয়া খাতুন নামের এক নারীর করা মা’মলায় বিশেষ অ’ভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রে’প্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রা’ইম বিভাগ। উপ-কমিশনার মোহাম্ম’দ তারেক বিন রাশেদের দিকনির্দেশনায় অ’তিরিক্ত উপ-পু’লিশ কমিশনার ফজলুর রহমানের তত্ত্বাবধানে অর্গানাইজড ক্রা’ইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম লিডার অ’তিরিক্ত উপ-পু’লিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে অ’ভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অ’ভিযানে শনিবার বিকালে বাংলা মোটরের রুপায়ন ট্রেড সেন্টার ও ফার্মগেট এলাকা থেকে এম’রান হোসেন (৪১) ও আহম্ম’দ উল্লাহ ফয়সাল (২৭)কে গ্রে’প্তার করা হয়। এম’রানের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়া এলাকায়। সে ওই এলাকার মৃ’ত ইব্রাহিম ও মাসুদা বেগম দম্পতির ছে’লে। আর গ্রে’প্তার ফয়সাল চাঁদপুরের সোবহানপুর এলাকার রহমত উল্লাহ শেখ ও আসমা বেগমের ছে’লে। গ্রে’প্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতা’লের ভু’য়া নার্স নিয়োগপত্রের ফটোকপি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে দেড় লাখ টাকার রসিদ উ’দ্ধার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাদিয়া খাতুন শাহবাগ থা’নার মা’মলায় উল্লেখ করেছেন, তিনি রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতা’লে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্ম’রত আছেন। নিয়োগ বি’জ্ঞপ্তি দেখে বিএসএমএমইউতে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে চাকরির আবেদন করেছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে এম’রান হোসেন ওরফে মো. কাইয়ুম হোসেন ওরফে ইমন হাসান রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে তখন নিজেকে ওই বিএসএমএমইউ হাসপাতা’লের অনকোলজি বিভাগে কর্ম’রত আছে বলে পরিচয় দেয়। পরে তার মোবাইল নম্বর থেকে সাদিয়ার স্বামীর মোবাইল নম্বরে জানায় বিএসএমএমইউতে সাদিয়াকে চাকরি দিতে পারবে। এ জন্য তাকে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। তার কথা বিশ্বা’স করে সাদিয়া চলতি বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি ৩৫ হাজার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ৫০ হাজার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ৩০ হাজার, ২০শে ফেব্রুয়ারি আরও ১৫ হাজার টাকা দেন। এ ভাবে তিনি সর্বমোট দেড় লাখ টাকা এম’রান হোসেন নামের ওই ব্যক্তিকে দেন। সেই টাকা বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে এমন স্বাক্ষর করা রিসিট প্রদান করে এবং এর সঙ্গে নিয়োগপত্রের একটি ফটোকপিও সাদিয়াকে দেয় এম’রান। পরে সাদিয়া ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালটির রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে বলা হয় নিয়োগপত্রটি সঠিক নয় ভু’য়া। পরে সাদিয়া এম’রানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রা’ইমের অ’তিরিক্ত উপ-পু’লিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক মানবজমিনকে বলেন, যেসব চাকরিপ্রার্থী টাকা দিয়ে চাকরি পেতে চায় তাদের নিজেদেরও দুর্বলতা আছে। চাকরি হবে মেধার ভিত্তিতে। আম’রা মানুষকে সবসময় সচেতন হতে বলি। চাকরির জন্য কখনো টাকা লেনদেন করা যাবে না। এটা একটা অ’প’রাধও বটে। কিন্তু মানুষ নিজেই প্রতারক চক্রের কাছে ধ’রা দেয়। না বুঝে তাদের ফাঁদে পড়ে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তারের অ’ভিযোগের ভিত্তিতেই আম’রা ওই দুই প্রতারককে গ্রে’প্তার করেছি। এটি একটি চক্রের কাজ। চক্রে আরও অনেক সদস্য আছে বলে ধারণা করছি। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রে’প্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া রি’মান্ড আবেদন করেছি। রি’মান্ডে এনে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঠিক কতজনের সঙ্গে তারা এরকম প্রতারণা করেছে আর কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা জানা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: