সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে জীবন বীমার ৩০ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

কাউসার চৌধুরীঃ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা কর্পোরেশনের সিলেট আঞ্চলিক অফিস থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩০ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মক’র্তা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ও গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে চক্রটি এই অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় চক্রটির বি’রুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৯টি মা’মলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (২২ মা’র্চ) জীবন বীমা’র সিলেটের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিনসহ ৬ কর্মক’র্তা-কর্মচারীর বি’রুদ্ধে আরেকটি মা’মলা দায়ের করেছে দু’র্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুদক সমন্বিত জে’লা কার্যালয় সিলেটের উপ-পরিচালক মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, জীবন বীমা’র সিলেটের আঞ্চলিক অফিস থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অনেক অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের ত’দন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসে। অনেকগুলো মা’মলাও দায়ের করা হয়েছে।

চক্রটির সদস্যদেরকে দুদক গ্রে’প্তারও করে। প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিতের পর গতকাল মঙ্গলবার আরও একটি মা’মলা দায়ের করা হয়। তবে, মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা এখনো নিয়োগ করা হয়নি।

জানা গেছে, সিলেট আঞ্চলিক অফিসে কর্ম’রত থেকে উচ্চ’মান সহকারী ওয়াহিদুর রহমান মজুম’দার ২২টি পলিসির মাধ্যমে ৮৮ হাজার ১০৯ টাকা, ওয়াহিদুর রহমান মজুম’দার ও দেলোয়ার হোসেন মিলে ১টি পলিসির ৩ হাজার ৪৪৫ টাকা, ওয়াহিদুর রহমান মজুম’দার ও জাবেদুল ইস’লাম মিলে ১টি পলিসির ৩ হাজার ৬০ টাকা, দেলোয়ার হোসেন ৩টি পলিসির ৪৯ হাজার ৭২ টাকা, ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন ১৩০ পলিসির ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৫০১ টাকা, আমিরুল ইস’লাম ৮টি পলিসির ৯৯ হাজার ৩৩৮ টাকা ও ফিরোজ আলম মিলে ২টি পলিসির ৮ হাজার ৪৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়াও কর্মক’র্তা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ও ওয়াহিদুর রহমান মজুম’দার মিলে ৫৭০টি পলিসির ১ কোটি ২১ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৯ টাকা, আব্দুল লতিফ চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন মিলে ৬১টি পলিসির ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫১৪ টাকা, আব্দুল লতিফ চৌধুরী ও আমিরুল ইস’লাম মিলে ১টি পলিসির ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং আব্দুল লতিফ চৌধুরী ও নুরুল ইস’লাম ২টি পলিসির ৪৭ হাজার ১৫৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মানি লন্ডারিং ই/আর নং-৪২/২০২০ এর অ’ভিযোগ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট টিম অনুসন্ধান করে। দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এই টাকা আত্মসাতের পুরো কাহিনী ধ’রা পড়ে।

প্রাথমিক ত’দন্তে সত্যতা নিশ্চিতের পর গতকাল মঙ্গলবার জীবন বীমা’র সিলেট আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিনসহ ৬ জনের বি’রুদ্ধে দ’ণ্ডবিধি আইনের ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সনের দু’র্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মা’মলা’টি দায়ের করা হয়।

মা’মলায় চাঁদপুর জে’লার মতলব দক্ষিণ থা’নার পয়ালী গ্রামের আব্দুর রব মিয়ার পুত্র জীবন বীমা’র ম্যানেজার মো. গিয়াস উদ্দিন, কুমিল্লা সদরের লালবাগ গ্রামের আলীম উদ্দিন মজুম’দারের পুত্র উচ্চ’মান সহকারী ওয়াহিদুর রহমান মজুম’দার, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মাহুতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র জুনিয়র অফিসার মো. ফিরোজ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কুড়িগ্রামের মৃ’ত নুরুল হকের পুত্র নিম্নমান সহকারী মো. দেলোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জের ছাতকের কাইতকোনা গ্রামের হারিছ আলীর পুত্র উচ্চ’মান সহকারী আমিরুল ইস’লাম ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ছোটধুশিয়া গ্রামের সিরাজুল ইস’লামের পুত্র নিম্নমান সহকারী মো. নুরুল ইস’লামকে আ’সামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, আসামীরা জীবন বীমা কর্পোরেশনে কর্ম’রত থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অ’পব্যবহারপূর্বক ১ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ১২ টাকা আত্মসাৎ করেন। ত’দন্তকালে আত্মসাতের সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক সিলেটের সমন্বিত জে’লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে মা’মলা’টি দায়ের করা হয়।

এদিকে, ভু’য়া লোককে বীমা গ্রহীতা সাজিয়ে ভু’য়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব খুলে প্রকৃত বীমা গ্রহীতাদের জমানো ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা কর্মক’র্তা-কর্মচারীরা আত্মসাৎ করেন। একসময় এই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে এলে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় ২০১৪ সালে জীবন বীমা কর্পোরেশনের সিলেট অঞ্চলের ৩৩ কর্মক’র্তার বি’রুদ্ধে পৃথক ২৬টি মা’মলা দায়ের করে দুদক।

ওই মা’মলাগুলোর আ’সামিরা হলেন- বীমা পলিসি কর্মক’র্তা মো. আব্দুল লতিফ চৌধুরী, ফিরোজ আলম, মো. দেলোয়ার হোসেন, ওয়াহিদুর রহমান, আমিরুল ইস’লাম, মো. গিয়াসউদ্দিন, রবিউল ইস’লাম, মো. নুরুল ইস’লাম, মো. আনিসুজ্জামান খান রশিদ, শফিকুল ইস’লাম পাটোয়ারি, মো. আবদুল হালিম মোল্লা, জামিল আহমেদ, শাহিন আহমেদ, গো’লাম শরিফুল ইস’লাম চৌধুরী, মো. শোয়েব আহম’দ, আবদুল কাদের, ফয়সুরুল গনি, সৈয়দ এনামুল ইস’লাম, মো. আবুল ফাত্তাহ ফজলু, একে শায়েখ খান, ইয়াসিন আলী ও রহিমা বেগম বানু। ২০১৭ সালে তাদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগপত্র দেয়া হয়। বর্তমানে আ’দালতে মা’মলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৫ সালের ২৫ মা’র্চ বীমা কর্মক’র্তা আব্দুল লতিফ চৌধুরীকে নগরীর আম্বরখানার শামস সুপার মা’র্কেটস্থ জীবন বীমা কর্পোরেশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে গ্রে’প্তার করে দুদক।

২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আব্দুল লতিফ চৌধুরীসহ জীবন বীমা’র ১১ কর্মক’র্তা-কর্মচারী মিলে ৫ হাজার ৮৫৮টি প্রিমিয়াম জালিয়াতি করে ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪২ হাজার ৩০২ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এছাড়াও আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাবেক নিম্নমান সহকারী দিলোয়ার হোসেন, উচ্চ’মান সহকারী ওয়াহিদুর রহমান মজুম’দার ও জুনিয়র অফিসার ফিরোজ আলম মিলে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৬ সালের শুরুতে আত্মসাতের এ ঘটনাটি ধ’রা পড়ে। এ ঘটনায় জীবন বীমা’র আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই কোতোয়ালি থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন। মা’মলা নম্বর -১০। মা’মলা দায়েরের পর ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাগবাড়ী থেকে গিয়াস উদ্দিনসহ ৪ জন দুদকের হাতে গ্রে’প্তার হন।
এদিকে, বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অন্যতম হোতা আব্দুল লতিফ চৌধুরী মা’রা গেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। সৌজন্যঃ সিলেটের ডাক

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: