সর্বশেষ আপডেট : ৪১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ আর নেই

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দ মা’রা গেছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা সম্মিলিত সাম’রিক হাসপাতা’লে তিনি শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দের মৃ’ত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী’।

গত ফেব্রুয়ারিতে গুরুতর অ’সুস্থ অবস্থায় সাহাবুদ্দীন আহম’দকে ঢাকার সম্মিলিত সাম’রিক হাসপাতা’লে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অ’সুস্থতায় ভুগছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, সেখানে ভর্তি করানোর পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দ ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।

সাহাবুদ্দীন আহম’দ তার কর্মজীবনে প্রথমে পা’কিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক এবং অ’তিরিক্ত জে’লা প্রশাসক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালের জুন মাসে তাকে বিচার বিভাগে বদলি করা হয়। তিনি ঢাকা ও বরিশালে অ’তিরিক্ত জে’লা ও দায়রা জজ এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে জে’লা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাই’কোর্টের রেজিস্ট্রার নিযু’ক্ত হন। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশ হাই’কোর্টের বিচারক পদে উন্নীত করা হয়।

১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহম’দকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করা হয়। বিচারপতি হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর ওপর তার দেওয়া রায় দেশের শাসনতান্ত্রিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক অনন্য ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।

১৯৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি’ক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর পু’লিশের গু’লিবর্ষণের ঘটনা ত’দন্তের জন্য গঠিত ত’দন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দ। তৎকালীন সরকার তার সেই ত’দন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ১৯৭৮ সালের আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আ’ন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম’দ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর ফলে ভা’রপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব পান। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাহাবুদ্দীন আহম’দের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনীটি আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহাবুদ্দীন আহম’দ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেন।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতির ছে’লে-মে’য়েদের মধ্যে বড় মে’য়ে অধ্যাপক ড. সিতারা পারভিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০০৫ সালে যু’ক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে এক ম’র্মা’ন্তিক সড়ক দুর্ঘ’টনায় মা’রা যান। ওই দুর্ঘ’টনায় তার দ্বিতীয় মে’য়ে শাহানা স্মিথের স্বামী গুরুতর আ’হত হয়ে পরের বছর মা’রা যান। শাহানা বর্তমানে যু’ক্তরাষ্ট্রেই রয়েছেন। ছোট মে’য়ে সামিয়া পারভীন একজন স্থপতি। ছে’লে শি’বলী আহম’দ একজন পরিবেশ প্রকৌশলী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: