সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কবর থেকে তোলা হবে হারিছ চৌধুরীর লাশ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হা’মলা মা’মলার যাব’জ্জীবন দ’ণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আ’সামি হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে শেষ পর্যন্ত ডিএনএ টেস্টে যাচ্ছে পু’লিশের অ’প’রাধ ত’দন্ত বিভাগ-সিআইডি। আ’দালতের অনুমতি নিয়ে কবর থেকে তোলা হবে সেই লা’শ। তবে এরপর ম’রদেহ থেকে আলামত নিয়ে হারিছের আপন ভাই ও সন্তানের চুল বা কোনো আলামত নিয়ে তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। সংস্থাটি বলছে, এতে হয়তো সব স’ন্দেহ আর র’হস্যের জট খুলবে। সিআইডির একজন উচ্চপদস্থ কর্মক’র্তা গতকাল সমকালকে এ তথ্য জানান। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণের আগে আন্তর্জাতিক পু’লিশ সংস্থা ইন্টারপোলে হারিছের নামে যে রেড ওয়ারেন্ট ঝুলছে তা সরছে না।

বাংলাদেশ পু’লিশের হয়ে ইন্টারপোলের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে কার্যক্রম সমন্বয় করে পু’লিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এনসিবির সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইস’লাম সমকালকে বলেন, সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হারিছ চৌধুরীর নামে রেড নোটিশ জারি করা হয়। তার মা’রা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে সিআইডিকে চিঠি দিয়েছিলাম আম’রা। সপ্তাহ তিনেক আগে এর জবাবও আমাদের কাছে এসেছে। তবে সিআইডি যে জবাব দিয়েছে তাতে হারিছের মৃ’ত্যুর বিষয়টি অস্পষ্ট। তাই আম’রা সিআইডিকে দ্বিতীয় দফায় চিঠি দিয়ে বলেছি, প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে জানাতে। মা’রা যাওয়ার বিষয়টি তারা শতভাগ নিশ্চিত না করলে রেড নোটিশ তোলা যাবে না।

সিআইডির অ’তিরিক্ত ডিআইজি ই’মাম হোসেন বলেন, হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে আ’দালতের অনুমতি নিয়ে কবর থেকে লা’শ তোলা হবে। ডিএনএ টেস্টে সব র’হস্যের জট খুলবে।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে হারিছ চৌধুরী তার নাম-পরিচয় গো’পন করে মাহমুদুর রহমান সেজেছেন। ওই পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী হারিছ সব গোয়েন্দার চোখে ধুলা দিয়ে প্রায় ১১ বছর ঢাকায় অবস্থায় করছিলেন। ঢাকার এভা’রকেয়ার হাসপাতা’লেই গত ৩ সেপ্টেম্বর তার মৃ’ত্যু হয়। এসব খবরে মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে হারিছকে ঢাকার সাভা’রের বিরুলিয়া ইউনিয়নের জালালাবাদের কমলাপুর এলাকায় জামিয়া খাতামুন্নাবিয়ীন মাদ্রাসার কবরস্থানে ৪ সেপ্টেম্বর দাফন করা হয় বলেও দাবি করা হয়। গণমাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশের পর গতকাল পর্যন্ত পু’লিশ নিশ্চিত হতে পারেনি মাহমুদুর রহমানই হারিছ চৌধুরী। তবে পরিচয় নিশ্চিত হতে শুরু হয়েছে নানামুখী ত’দন্ত। শিগগির কমলাপুর এলাকার ওই কবরস্থান থেকে তোলা হবে মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে দাফন করা সেই ম’রদেহ। এ ছাড়া কী’ভাবে আরেকজনের তথ্য ব্যবহার করে হারিছ চৌধুরী নিজের পরিচয় গো’পন করে এনআইডি তৈরি করলেন তা নিয়ে ত’দন্ত শুরু হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে হারিছের মৃ’ত্যুর খবর আসে। কোথাও বলা হচ্ছিল হারিছ করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মা’রা গেছেন। কোথাও বলা হয়, হারিছ মা’রা গেছেন লন্ডনে।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে গতকাল বিকেলেও ভিজিট করে দেখা যায়, হারিছের জন্ম ১৯৫২ সালের ১ নভেম্বর। জন্মস্থান সিলেটের কানাইঘাটের দর্পণ নগরে। সিআইডির একজন উচ্চপদস্থ কর্মক’র্তা সমকালকে বলেন, প্রথম এনসিবির যে চিঠির জবাব তারা দিয়েছেন তখন তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। এখন বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা ডিএনএ টেস্ট করাবেন। এরপর এনসিবিকে জানাবেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হা’মলা মা’মলা’টি ত’দন্ত করেছিল সিআইডি। ওই সংস্থার আবেদনের পর হারিছ চৌধুরীসহ ওই মা’মলার পলাতক কয়েক আ’সামির বি’রুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয় ইন্টারপোলে। সংস্থাটি যাচাই-বাছাই শেষে ছবিসহ রেড নোটিশ তাদের ওয়েবসাইটে দেয়।

যে ঠিকানা ব্যবহার করে মাহমুদুর রহমান অ্যাপোলো সেজে হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যু সনদ নেওয়া হয়েছে সেটি হলো রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর একটি বাসা। তবে বাসার এবি-২ নম্বর ফ্ল্যাটের মালিকের নাম মাহমুদুর রহমান। তিনি পেশায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। পৈতৃকভাবে তিনি ফ্ল্যাট পান। এখনও মাহমুদুর রহমান জীবিত আছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মক’র্তা জানান, মাহমুদুর রহমান নামে হারিছ চৌধুরী পাসপোর্ট ও এনআইডি তৈরি করে বছরের পর বছর ঢাকায় আত্মগো’পন করে থাকার খবরটি বিস্ময়কর। পাসপোর্টের তথ্য এসবি ত’দন্ত করে থাকে।

কিছুদিন আগে হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যু নিয়ে তার চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরী ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত দিলেও সরাসরি কিছু বলেননি। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মা’রা গেছেন। এরই মধ্যে হারিছ চৌধুরীর মে’য়ে সামীরা তানজীন চৌধুরী (মুন্নু) জানান, তার বাবা গত ৩ সেপ্টেম্বরে ঢাকার একটি হাসপাতা’লে মা’রা যান। হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যু, দাফন ও ঢাকায় আত্মগো’পনে থাকাসহ নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভ’য়াবহ গ্রেনেড হা’মলায় ২৪ জন নি’হত হন। এতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বহু নেতাকর্মী আ’হত হন। ওই হা’মলার ঘটনায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর আ’দালত ১৯ জনকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও ১৯ জনকে যাব’জ্জীবন এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দ দেন। দ’ণ্ড পাওয়া এ আ’সামিদের মধ্যে হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জন ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আত্মগো’পনে চলে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: