সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

অনলাইনে ‘মুশকিল আসান কেন্দ্র’ খুলে ৩ বছরে হাতিয়েছে কোটি টাকা

স্বল্পশিক্ষিত সারোয়ার হোসেন। নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘চিকিৎসক ও মা’ওলানা’ হিসেবে। বেশভূষায়ও অবিশ্বা’সের সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে চালাতেন প্রচারণা। সব ধরনের ‘মুশকিল আসান’-এর কথা বলে গেল তিন বছরে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সম্প্রতি দুই সহযোগীসহ এই চক্রের মূল হোতাকে গ্রে’প্তার করেছে রেব।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের (ডিএমপি) দক্ষিণখান থা’নাধীন ফায়দাবাদ কোটবাড়ি বাজার এলাকার একটি বাসায় অ’ভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রে’প্তার করা হয়। রেব বলছে, এ চক্রের অন্যতম মূলহোতা মো. সারোয়ার হোসেন (২৭)। তার সহযোগী দুই জন হলো মোহাম্ম’দ লাজু পারভেজ (২৭) ও আব্দুর রহমান (২৪)।

গ্রে’প্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উ’দ্ধার করা হয় একটি পাসপোর্ট, একটি চেক বই, সাতটি এটিএম কার্ড, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি প্রেস আইডি কার্ড, একটি ল্যাপটপ, দুটি কলার মাইক্রোফোন, একটি ক্যামেরা, তিনটি ক্যামেরা স্ট্যান্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম ও নগদ লক্ষাধিক টাকা।

রেব বলছে, গ্রে’প্তারকৃত সারোয়ার হোসেন তার দুই সহযোগীসহ দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। প্রতারণার ফাঁদ তৈরির প্রথম ধাপ হিসেবে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল খোলে এই চক্রটি। পরবর্তী সময়ে ‘জিন তাড়ানো’, ‘জাদুটোনা’, ‘ব্ল্যাকমেইল’, ‘বদনজর’, ‘কুফুরি কালাম’ ও ‘বান’ ইত্যাদির প্রভাবে মানুষের যে ক্ষতি হয় তার সমাধান করতে পারে বলে নিয়মিত প্রচার করতে থাকে। তাদের বিজ্ঞাপন দেখে আরোগ্য লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হতদরিদ্র মানুষ এছাড়া শারীরিক ও মানসিকভাবে অ’সুস্থ নারী ও পুরুষ তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসতেন। পরবর্তী সময়ে কবিরাজি চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছে এই চক্রটি।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রে’প্তারকৃত সারোয়ার রেবকে আরও জানায়, তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পেশাগত জীবনে গাজীপুর এলাকায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছিল। সে কোনোদিন কোনও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেনি। এমনকি চিকিৎসাবিদ্যার ন্যূনতম প্রশিক্ষণও নেই। তারপরও সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুরে আস্ত লতিফপুর এলাকায় অসহায় নিরীহ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতারণার স’ম্পর্কে জানার আগেই অবস্থান পরিবর্তন করে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় এসে পুনরায় একইভাবে মানুষকে প্রতারিত করতে থাকে।

রেব-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি একটি চক্র ‘কাগজ হয়ে যাবে টাকা’ ও ‘অ’সুস্থ হলে সুস্থ করে দেবে জিন’—এমন তথ্য প্রচার করে সাধারণ মানুষদের নানা কৌশলে প্রতারিত করে আসছিল। এছাড়া স্বল্পসময়ে স্বাবলম্বী করার প্রলো’ভন দেখিয়ে এবং রোগমুক্তির বিভিন্ন বিষয় অনলাইন মাধ্যমে প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রলো’ভনে পড়ে তাদের শরণাপন্ন হতো। একপর্যায়ে মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণে টাকা দাবি করতো। প্রলো’ভনে পড়ে অনেকেই তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে কিংবা সরাসরি দেখা করে টাকা দিয়ে যেতো। ভুক্তভোগীর অ’ভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রে’প্তার করা হয়েছে।

এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে না পড়তে মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রেবের এই কর্মক’র্তা বলেন, শুধু প্রলো’ভনের কারণে অনেকেই হাজার হাজার, লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন। কেউ কারও ভাগ্য ঠিক করে দিতে পারে না, এগুলো সবই প্রতারণা।

এসব থেকে সাধারণ মানুষদের সচেতন থাকার পরাম’র্শ দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: