সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে উভয় সংকটে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা

ওয়েছ খছরু: উভ’য় সংকটে পড়েছেন সিলেটের জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি তেলও তারা পাচ্ছেন না। নিজেদের উদ্যোগে বেশি দামে আশুগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল থেকে তেল এনে বিক্রি করেও চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। প্রায় দেড় বছর ধরে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এর বাইরে সিএনজি পাম্পের মালিকরাও দেখছেন চোখ রাঙানি। সড়কে গাড়ি বাড়ার কারণ নির্ধারিত হারের বেশি পরিমাণ সিএনজি তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। ওভা’রলোডের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্নের আশ’ঙ্কায় রয়েছেন তারা। সার্বিক বিষয় নিয়ে তারা জে’লা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করেছেন।

আগামীকাল বুধবার থেকে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের পাঁচটি সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিয়মতান্ত্রিক আ’ন্দোলনে নামছে। সিলেট বিভাগে সিএনজি ও পেট্রোল মিলিয়ে পাম্পের সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। এরমধ্যে সিলেট জে’লায় এর সংখ্যা প্রায় ৮৫টি। বেশিরভাগ পাম্প সিএনজি বিক্রির পাশাপাশি পেট্রোল- ডিজে’ল বিক্রি করে থাকে। সিলেটে প্রতিদিন জ্বালানির চাহিদা প্রায় ১০ হাজার লিটার। কিন্তু এখন তারা সরবরাহ পাচ্ছেন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটার। ঘাটতি পূরণে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে অ’তিরিক্ত গাড়ি ভাড়া প্রদান করে আশুগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল থেকে তেল এনে বিক্রি করছেন। কিন্তু এতে লাভের মুখ দেখেন না ব্যবসায়ীরা। সিলেটে জ্বালানি তেল অর্থাৎ পেট্রোল, ডিজে’লসহ অন্যান্য জ্বালানির বেশির ভাগ চাহিদা পূরণ করতো সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কৈলা’শটিলা গ্যাসক্ষেত্র। প্রায় দুই বছর আগে নিম্নমানের তেল আখ্যা দিয়ে ওই গ্যাসফিল্ড বন্ধ করে দেয়া হয়। বিএসটিআইয়ের তরফ থেকে সেটি করা হয় বলে জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। এরপর থেকে জ্বালানি হয়ে পড়ে চট্টগ্রামনির্ভর। ওখান থেকে ট্রেনের ওয়াগনে করে তেল নিয়ে আসা হতো সিলেটে। দুই-তৃতীয়াংশ চাহিদা পূরণ করা যেতো সিলেটে। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে ফেঞ্চুগঞ্জে জ্বালানি তেল বহনকারী ওয়াগন দুর্ঘ’টনায় পড়ার কারণে নিয়মিতভাবে ওয়াগন আসে না সিলেটে। স্থানীয় ডিপো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদার অর্ধেক তেলও তারা পাচ্ছেন না। এর বাইরে তেলবাহী ওয়াগান নিয়ে ট্রেনও নিয়ম মেনে আসে না। ফলে চাহিদা অনুপাতে সংকট সবসময়ই থাকছে। সিলেটের পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, সিলেটের কৈলা’শটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত তেলের মান ভালো। এরপরও সেটি বন্ধ করে দেয়ায় এই সংকট তীব্র হয়েছে। সংকট কা’টাতে হলে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নিয়ে গো’লাপগঞ্জে তেল বিক্রি করতে হবে। এর বাইরে চট্টগ্রাম থেকে ওয়াগন বাড়িয়ে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন তেল নিয়ে আসতে হবে সিলেটে। এই জায়গা থেকে সরবরাহ করা গেলে সিলেটে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। চলতি সপ্তাহে যমুনা ডিপোতে তেল সরবরাহ কম থাকায় সিলেটে পেট্রোলের তীব্র সংকট হয়। সংকটের কারণে তেল বিক্রি করতে না পারায় অনেক জায়গায় ক্রেতাদের রোষানলে পড়তে হয় পাম্প মালিকদের। রমজানের আগেই এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চান তারা। এজন্য বিষয়টি জে’লা প্রশাসককে অবগত করেছেন। এদিকে, সিএনজি পাম্প মালিকরা ভুগছেন আতঙ্কে। লোড বাড়াচ্ছে না জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের এমডি শোয়েব আহম’দ পেট্রোবাংলার আদেশের বিষয়টি সামনে তুলে আনছেন। এ কারণে কয়েকদিন আগে ওভা’রলোডে গ্যাস বিক্রির কারণে একটি সিএনজি পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে অবশ্য স্বাভাবিক করা হয়।

সিএনজি পাম্প মালিকদের বক্তব্য দু’টো। একটি হচ্ছে- তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ অ’তিরিক্ত চাহিদার কথা বিবেচনা করে লোড বাড়িয়ে দিয়েছে। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকে তিতাসের মতো লোড বাড়ানোর সিদ্বান্ত নিতে হবে। নতুবা গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। এখন গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে ১২ ঘণ্টায় দিন ও ২৬ দিনে মাস ধরেন। তবে, সিএনজি পাম্প মালিকদের সরকারের বিধি নিষেধে থাকা ৫ ঘণ্টা ছাড়া বাকি ১৯ ঘণ্টায়ই সিএনজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে ১৯ ঘণ্টায় দিন ৩০ দিনে মাস ধ’রার দাবি সিএনজি পেট্রোল পাম্প মালিকদের। তারা জানিয়েছেন, যে পরিমাণ সিএনজি ব্যবহার করা হচ্ছে; তার তো দাম দেয়া হচ্ছে। এখন লোড বাড়ালে সিকিউরিটি দেয়া হবে। আর তিতাসের পক্ষ থেকেও সেটি করা হয়েছিল। এদিকে, জ্বালানির এই সংকটের কারণে সিএনজি পেট্রোল পাম্প মালিকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। গত শনিবার জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট ৫ সংগঠনের নেতারা যৌথ সভা করেন। আর ওই সভায় সিদ্বান্ত নিয়েছেন, বুধবার থেকে তারা শান্তিপূর্ণ আ’ন্দোলন কর্মসূচি শুরু করবেন। এই প্রস্তুতি এখন রয়েছে। একসঙ্গে আ’ন্দোলনে থাকা ৫টি সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভা’র্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস্‌ এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ ট্যাংক লরি ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি এবং সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প সিএনজি এলপিজি, ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।’ এ পরিষদের শীর্ষ নেতা সিএনজি ওনার্স এসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আমিজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। গ্যাস, তেল উভ’য় ক্ষেত্রেই সংকট তীব্র। এ সংকটের কারণে প্রায় সময় সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্রাহকের সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে চাহিদা পূরণ করলে সমস্যা থাকবে না বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহম’দ চৌধুরী জানিয়েছেন, আম’রা বাধ্য হয়ে আগামী ৯ই মা’র্চ সিলেটের রাস্তায় ট্যাংক লরি দাঁড় করিয়ে বি’ক্ষোভ প্রদর্শন করবো। এরপরে আসবে কঠোর আ’ন্দোলনের ডাক। এর বাইরে আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: