সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ইসরায়েলের এত মাথাব্যথা কেন?

রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করতে চেয়ে হঠাৎই আলোচনায় উঠে এসেছেন দখলদার ইস’রায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর মধ্যস্থতার অনুরোধ নিয়ে মস্কো সফর করা একমাত্র বিদেশি নেতা তিনি। যদিও এর মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পা’কিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইম’রান খানও দেখা করেছেন, তবে তাদের আলোচনার বিষয় ছিল মূলত বাণিজ্যিক। ফলে ক্ষমতায় বসার এক বছর হওয়ার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যু’দ্ধের মতো বড় একটি ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বড় বাজিই ধরেছেন বলা যায়। কিন্তু কেন? ফিলি’স্তিনিদের ওপর বছরের পর বছর ধরে অ’ত্যাচার-আগ্রাসন চালানো ইস’রায়েল হঠাৎ ‘শান্তির দূত’ হয়ে উঠতে চাইছে কেন?

বার্তা সংস্থা এপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বমঞ্চে অ’পরীক্ষিত বেনেট রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে নাক গলিয়ে ইস’রায়েলকে অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতি ফেলেছেন। যু’দ্ধরত দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনা তার জন্য অ’গ্নিপরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

যু’দ্ধের এক দিকে থাকা মস্কোর সঙ্গে ই’রান-সিরিয়া ইস্যুতে ইস’রায়েলের স’ম্পর্ক বেশ স্প’র্শকাতর। ফলে উল্টাপাল্টা কিছু করে পুতিনকে ক্ষেপিয়ে তুললে হিতে-বিপরীত হতে পারে ইস’রায়েলিদের জন্য। আবার রুশ আগ্রাসনের নিন্দা না জানালে যু’ক্তরাষ্ট্রের মতো পুরোনো মিত্রের চক্ষুশূল হওয়ারও আশ’ঙ্কা রয়েছে তাদের।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ইস’রায়েলের এত মা’থাব্যথার কারণ-

বেনেটের বাজি
গত বছর ভিন্ন মতাদর্শী আটটি দলের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন বেনেট। উগ্র ইহুদিবাদী এ নেতা অ’তীতে ইস’রায়েলি মন্ত্রিসভা’র বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করলেও পূর্বসূরীর তুলনায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অ’ভিজ্ঞতা ও ক্যারিজমা দুটোরই বেশ ঘাটতি রয়েছে। ফলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জে’লনস্কি ও সাবেক কেজিবি এজেন্ট পুতিনকে সমঝোতায় রাজি করাতে হলে তাকে বড় পরীক্ষাই দিতে হবে।

ইস’রায়েলে বেনেটের ক্ষমতালাভের পদ্ধতি বেআইনি উল্লেখ করে তার সরকারকে অ’বৈধ বলে দাবি করে আসছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার জনসম’র্থনও কমতির দিকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর ক্ষেত্রে সংযত অবস্থান। ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বারবারই ইউক্রেনের জনগণের পক্ষে তার সম’র্থনের কথা বললেও সরাসরি মস্কোর নিন্দা জানাননি একবারও। এক্ষেত্রে পুরোনো মিত্র পশ্চিমাদের মতো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পথে না গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষে থাকায় স্বদেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

পশ্চিমা’রা যখন একপাক্ষিকভাবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ঝড় শুরু করেছে, তখন পুতিন-জে’লেনস্কি উভ’য়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন নাফতালি বেনেট। মস্কোকে আলোচনায় বসাতে তার প্রচেষ্টায় অকুণ্ঠ সম’র্থন রয়েছে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টেরও। ফলে এই সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নিজের অবস্থান কিছুটা হলেও শক্তিশালী করেছেন বেনেট। আর এই চেষ্টা সফল হলে তার রাজনৈতিক ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যাবে, তা বলার অ’পেক্ষা রাখে না।

তেল আবিব ইউনিভা’র্সিটির ইউরোপ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এথার লোপাটিনের কথায়, বেনেট নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন। তিনি এমন এক নেতা, যিনি ভোটের সমস্যায় ছিলেন, জনগণের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তিনি জাদুও দেখাতে পারেন।

কূটনীতির রণাঙ্গন
রাশিয়া-ইউক্রেন উভ’য়ের সঙ্গে সুস’ম্পর্ক থাকা অল্প কিছু দেশের মধ্যে ইস’রায়েল অন্যতম। ইউক্রেনে দুই লাখের মতো ইহুদি রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েক হাজার এরই মধ্যে ইস’রায়েলে আশ্রয় নিয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যেতে পারেন আরও অনেকে। যু’দ্ধের আরেক পক্ষ রাশিয়াতেও কয়েক লাখ ইহুদির বসবাস।

তবে রাশিয়ার সঙ্গে ইস’রায়েলের স’ম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ মূলত কৌশলগত কারণে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা সমন্বয়ে রাশিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ইস’রায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এখনো রাশিয়ার সে’না উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে ইস’রায়েলি বাহিনী নিয়মিতই কথিত ‘শত্রুপক্ষের’ ওপর বিমান হা’মলা চালায়।

তাছাড়া, ই’রানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনাকারী শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম রাশিয়া। এ বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে তাদের শিগগির একটি চুক্তি হওয়ার কথা। ইস’রায়েল বরাবরই এই চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

ফলে ইস’রায়েল যদি সত্যিই রাশিয়াকে আলোচনায় বসাতে চায়, তাহলে পশ্চিমাদের বি’রুদ্ধে গিয়ে তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানটা ধরে রাখতে হবে। এমনকি রাশিয়ার আগ্রাসন তীব্র হলেও তা নিয়ে কিছু বলতে পারবে না তারা।

ইস’রায়েলের পদক্ষেপে সামান্য ভুল হলেই রশিয়ার সঙ্গে স’ম্পর্ক তিক্ত হয় উঠতে পারে। আর আলোচনা ব্যর্থ হলে ধূর্ত পুতিন হয়তো যু’দ্ধ পরিস্থিতি আরও খা’রাপ হওয়ার জন্য বেনেট’কেই দায়ী করে বসতে পারেন। ফলে নায়ক হতে গিয়ে উল্টো ভিলেন হয়ে যাওয়ার ভ’য়ও থাকছে ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর জন্য।

সাফল্যের সম্ভাবনা কতটুকু?
মস্কো সফর থেকে ফিরেই ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় বলেছেন, এতে এগিয়ে যাওয়া ইস’রায়েলের ‘নৈতিক দায়িত্ব’, যদিও সাফল্যের সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।

ইস’রায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মক’র্তা মিচলিন-শাপিরের মতে, সদিচ্ছা যতই থাক, এত জটিল সংকটে মধ্যস্থতা করার মতো সাম’র্থ্য এই মুহূর্তে ইস’রায়েলের নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের চেয়ে বড় খেলোয়াড় ফ্রান্স-তুরস্কের চেষ্টা এরই মধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।

ভাষ্যকার বারাক রাভিদ ইস’রায়েলি সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন, একদিকে, বেনেট রাতারাতি বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন এবং ইস’রায়েলের পক্ষে বেশ কিছু রাজনৈতিক পয়েন্ট জিতেছেন। কিন্তু অন্যদিকে, তিনি বিশাল একটা ঝুঁ’কি নিয়েছেন। শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে নিয়েই নয়, ইস’রায়েল রাষ্ট্র ও বিশ্বে এর অবস্থান নিয়েও বাজি ধরেছেন বেনেট।

এ বিশ্লেষকের কথায়, কতটা গভীর না জেনেই ইউক্রেনের কাদায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ইস’রায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: