সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

শাহ সুলতান কো-অপারেটিভ সোসাইটি ২০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

নরসিংদীতে গ্রাহকদের শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রকল্প থেকে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে জেলার চার উপজেলার কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন নেওয়া এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পর এখন প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন হাজারও গ্রাহক।

শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের ওই সমিতির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম মো. শাহ আলম। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর চরভাসানিয়া এলাকার মৃত হাসান আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, ২০১০ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া এলাকার একটি মার্কেটের ২য় তলায় প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ব্যবসায়িক প্রকল্পের মাধ্যমে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ শুরু করে। প্রথম দিকে চুক্তি ও শর্ত অনুযায়ী গ্রাহকদের নির্ধারিত মুনাফাও দিতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে শাহ সুলতান টেক্সটাইল মিল, শাহ সুলতান প্রোপার্টিজ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে লাভজনক প্রলোভন দেখানোর কারণে বাড়তে থাকে তাদের গ্রাহক সংখ্যা। পরে পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার পাশাপাশি পলাশ, শিবপুর ও মনোহরদী উপজেলায়ও গড়ে তোলা হয় প্রতিষ্ঠানটির শাখা অফিস।

গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়গুলোতে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত ও এলাকায় বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিত লোকজন। তারা গ্রাহকদের প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। প্রতি মাসে ব্যবসায়িক মুনাফা পাওয়ায় অনেকে প্রবাসে আয় করা টাকা, জমি বিক্রির টাকা, এমনকি অন্যান্য ব্যাংকে রাখা টাকাও উত্তোলন করে বিনিয়োগ করেন এখানে। জেলাজুড়ে অন্তত শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর গত জানুয়ারি মাস থেকে লাপাত্তা প্রতিষ্ঠানটি। করোনা পরিস্থিতির অজুহাতে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার ঘোষণার নোটিশ টানিয়ে উধাও হয়ে গেছেন সমিতির পরিচালনা পরিষদে থাকা লোকজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা লোকজনও লাপাত্তা। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এখানে বিনিয়োগ করা হাজারও গ্রাহক। আমানতের টাকা ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় সমবায় দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিতে শুরু করেছেন গ্রাহকেরা।

সমিতির সদস্য হাবিবুর রহমান নামের একজন কলেজ শিক্ষক জানান, শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ভালোই চলছিল। গ্রাহকদের পাওনা মুনাফা সময়মতো পরিশোধ করা হতো। তারা জমিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে এসব মুনাফা দিত। এখন শুনছি, এসব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির নামে না করে কিছু ব্যক্তির নামে করা হয়েছে। জানা মতে, আমার আত্মীয়স্বজনসহ শুধু শিবপুরের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও জানান, আমার নিজের ও স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম এই সমিতিতে। বর্তমানে সমিতির কাউকেই খুঁজে পাচ্ছি না, কার্যালয়ও তালাবদ্ধ।

সুশান্ত দেবনাথ নামের একজন প্রবাসী গ্রাহক জানান, প্রবাস জীবনের সঞ্চয় করা ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগের কয়েক মাস পর একটা লভ্যাংশ পেয়েছিলাম। এখন সব কার্যক্রম বন্ধ করে সমিতির লোকজন পলাতক। এ নিয়ে আমার সংসারে অশান্তি চলছে।

বুরুজ মিয়া নামের আরেকজন গ্রাহক জানান, তার একমাত্র জমি বিক্রির ২৭ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। সমিতির লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় তিনি এখন নিঃস্ব।

আজিজুল হক নামের আরেকজন জানান, নিজের ছয় লাখ ও স্ত্রী সন্তানের নামে আরও দুই লাখসহ আট লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। বর্তমানে সমিতির লোকজন লাপাত্তা, তাদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ। আমরা অনুমান করছি জেলা থেকে ২০০ কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আমিসহ অনেক গ্রাহক জেলা প্রশাসক, সমবায় দপ্তরসহ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে সমিতিটির চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। কিন্তু প্রতিবারই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সালমান ইকবাল জানান, বিধি অনুযায়ী এসব সমিতি বড় লেনদেন করতে পারে না। নিয়মিত অডিটের সময় এই সমিতি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখন তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আসছে আমাদের উপজেলা কার্যালয়গুলোতে। গ্রাহকদের দেওয়া এসব অভিযোগ জেলা কার্যালয়ে আসার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সমিতির নিবন্ধন বাতিল করাসহ সমিতির সম্পদ লিকুইড করে সদস্যদের মধ্যে বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: