সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হত্যাকাণ্ডে ‘অংশ নিয়েও’ স্বাভাবিক ছিলেন তারা

একজন নারীকে কে’টে ছয় টুকরাে করে হ’ত্যার পরও হ’ত্যাকা’ন্ডের স্থলের পাশেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন অ’ভিযু’ক্তরা। আতঙ্কের কোনো ছাপ ছিল না তাদের চেহারায়। এ তো সিনেমা বা নাট’কের গল্পকে হার মানায়।

এমন ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার ওষুধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নি’খোঁজ হয়েছিলেন এক সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী’। পরদিন পৌর শহরের একটি তালাবদ্ধ ফার্মেসি থেকে ওই নারীর ছয় টুকরা ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িত থাকার অ’ভিযোগে মা’মলার প্রধান আ’সামি ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ গোপ (৩০) সহ তিনজনকে গ্রে’প্তার করে ঢাকার অ’প’রাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় হ’ত্যাকা’ণ্ডের কারণ।

জড়িত তিনজনের মধ্যে জিতেশ ঘটনার পর পলাতক ছিলেন। তাকে গো’পন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় গ্রে’প্তার করে সিআইডি। অ’পর গ্রে’প্তারকৃত অনজিৎ গোপ ও অসিত- এ দুজন বীভৎস এই হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন নিজ নিজ দোকানে।

রোববার জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নি’হত নারীর ম’রদেহ উ’দ্ধারের সময় ফার্মেসির পাশেই নিজ মুদি দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন অনজিৎ গোপ। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। তার মতো স্বাভাবিক ছিলেন পাশের দোকানের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীত গোপও। শুক্রবার রাতে দুজনকে সিআইডি পু’লিশ ধরে নিয়ে যায়। হ’ত্যাকা’ণ্ডে এ দুজন জড়িত এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হতবাক হয়ে যান ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ম’রদেহ উ’দ্ধারের সময় ফার্মেসির পাশেই মুদি দোকানে অনজিৎকে দেখেছি একদম স্বাভাবিক। জিতেশ ঘটনার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে তার দোকান থেকে আলু কিনে নিয়ে গেছে বলে অনজিৎ জানান আমাদের। এ খু’নের ঘটনায় অনজিৎও জড়িত শুনে হতবাক আমি। কী’ করে এমন নৃ’শংস হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িত থেকেও মানুষ অ’তি স্বাভাবিক থাকতে পারে!

গোবিন্দ নামের এক ব্যবসায়ী জানান, লা’শ উ’দ্ধারের সময় অসীত তার ওষুধের দোকানে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। একটি বীভৎস হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটিয়ে এত স্বাভাবিক থাকতে পারা বিশ্বা’সই হয় না। এমন ঘটনায় সিনেমাকেও হার মানায়।

জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন জানান, লোম’র্হষক এ হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িতদের ফাঁ’সি দাবি করছি।

প্রসঙ্গত, ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে অ’ভি মেডিক্যাল হল নামের ফার্মেসিতে ওধুষ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নি’খোঁজ হন গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন। গৃহবধূর ভাই হেলাল মিয়া তার বোন বাসায় ফেরেননি জানতে পেরে ওই ফার্মেসিতে যান বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। তখন ফার্মেসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মোবাইলে কল দিলে তিনি জানান, তার বোন ওষুধ না পেয়ে চলে গেছেন। বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অন্য এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি (নি’হত নারী) সিলেট ওসমানীতে আছেন। সেখানে যোগাযোগ করেও তার সন্ধান মেলেনি। পরে পু’লিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে শাহনাজের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও শাহনাজের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিন জগন্নাথপুর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইস’লামের উপস্থিতিতে জগন্নাথপুর থা’নার পু’লিশ অ’ভি ফার্মেসির তালা ভেঙে অ’ভিযান চালায়। এ সময় দোকানের রোগী দেখার টেবিলের নিচে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ওই নারীর ছয় টুকরো ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়।

হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনায় নি’হতের ভাই হেলাল মিয়া বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন বৃহস্পতিবার রাতে।

এদিকে ঘটনার পর জিতেশ পালিয়ে যাযন। গত শুক্রবার জিতেশ চন্দ্রকে ঢাকায় এবং জগন্নাথপুর পৌর এলাকা থেকে অনজিৎ ও অসীতকে সিআইডি গ্রে’প্তার করে। গ্রে’প্তারকৃত জিতেশ চন্দ্র কি’শোরগঞ্জের ইটনার গ্রামের যাদব চন্দ্র গোপোর ছে’লে, একই এলাকার মৃ’ত রসময় চন্দ্র গোপের ছে’লে অনজিৎ চন্দ্র গোপ (৩৮) ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের পতিত পাবন গোপের ছে’লে অসীত গোপ (৩৬)। তারা দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকায় বসবাস করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানিয়েছে, জগন্নাথপুর উপজে’লার নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী’ শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহরে দুই ছে’লে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে নিজের বাসায় বসবাস করছিলেন। ওষুধপত্র কেনার সুবাদে শহরের অ’ভি মেডিক্যাল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে তাঁর সুস’ম্পর্ক গড়ে ওঠে। জ্যোৎস্না কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জ্যোৎস্নার মায়ের র’ক্তচাপ মাপতে জিতেশ তাদের বাসায় যান। তখন জ্যোৎস্না তার শারীরিক সমস্যার কথা জানালে জিতেশ তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলেন। পরদিন বিকেলে জ্যোৎস্না জিতেশের দোকানে গেলে কাস্টমা’র রয়েছে বলে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার কক্ষে অ’পেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এদিকে রাত বেড়ে যায়। পরে জ্যোৎস্নাকে একটি ঘুমের ওষুধ খেতে দেন জিতেশ। এতে জোৎস্না তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তখন জিতেশ তার দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপকে নিয়ে ধ’র্ষণের পরিকল্পনা করেন। এরপর গভীর রাতে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে গেলে তিনজন তাকে ধ’র্ষণ করেন। জোৎস্না ধ’র্ষণের কথা সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার হু’মকি দিলে জিতেশ ও তার দুই বন্ধু মিলে তাকে শ্বা’সরোদ্ধ করে হ’ত্যার পর ফল কা’টার ছু’রি দিয়ে ম’রদেহ ছয় টুকরা করে দোকানে থাকা ওষুধের কার্টুন দিয়ে ঢেকে রাখেন। পরে খণ্ডিত ম’রদেহ পাশের একটি মাছের খামা’রে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় সেটি তারা করতে পারেননি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: