সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

শাবি যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী, বসবেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে শুক্রবার সিলেটের শাহ’জালাল বিজ্ঞান ও প্রযু’ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ক্যাম্পাসে পৌঁছে তিনি আলোচনা করবেন আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। মন্ত্রীর একান্ত সচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রওনা হবেন। শাহ’জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে তিনি আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

সিলেটের জে’লা প্রশাসক (ডিসি) মুজিবর রহমানও শিক্ষামন্ত্রীর সফরের বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি সন্ধ্যায় বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর সহকারী ফোনে জানিয়েছেন কাল তারা সিলেট আসার প্ল্যান করছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত শিডিউল পাইনি।’

অন্যদিকে, আ’ন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ নিউজবাংলাকে জানান, অধ্যাপক মুহম্ম’দ জাফর ইকবালের মাধ্যমে তারা তথ্যটি জেনেছেন।

মন্ত্রীর এই সফরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অ’পসারণের ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

মোহাইমিনুল রাজ বলেন, ‘কাল (শুক্রবার) শিক্ষামন্ত্রী আমাদের ক্যাম্পাসে আসবেন। জাফর ইকবাল স্যারের মাধ্যমে এ তথ্য আম’রা জেনেছি। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মন্ত্রীর আসার কথা জানানো হয়েছে।

‘শুনেছি তিনি দুপুরের দিকে আসবেন। তবে ঠিক কখন আসবেন তা এখনও জানি না।’

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিতে বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে বৈঠকে বসছেন আ’ন্দোলনকারীরা।

মোহাইমিনুল রাজ বলেন, ‘আম’রা সংবাদ সম্মেলন করে আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে শাবিতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আম’রাও তার অ’পেক্ষায় আছি। তিনি এলে উপচার্যের পদত্যাগসহ আমাদের দাবিগুলো পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

অধ্যাপক মুহম্ম’দ জাফর ইকবালের আশ্বা’সে গত ২৬ জানুয়ারি অনশন ভেঙেছিলেন উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আ’ন্দোলনরত সিলেট শাহ’জালাল বিজ্ঞান ও প্রযু’ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরকারের উচ্চ’মহল থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হবে- এমন আশ্বা’স দেয়া হয়েছে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন জাফর ইকবাল।

ওই দিন বিকেলেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভা’র্চুয়াল বৈঠকে তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বা’স দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

সেই আশ্বা’সের ১৬তম দিন পেরোতে চলছে বৃহস্পতিবার। তবে এখনও পূরণ হয়নি শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি। স্বপদে বহাল আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। নিজ কার্যালয়ে না গেলেও বাসা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে আলোক প্রজ্বালন করেন তারা। বুধবার বিকেলে তারা ‘দাবি আদায়ের মিছিল’ করেন।

শাবিতে শিক্ষার্থীদের আ’ন্দোলনের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বি’রুদ্ধে অসদাচরণের অ’ভিযোগ এনে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আ’ন্দোলনে নামেন হলের ছা’ত্রীরা।

এই দাবিতে আ’ন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যকে অব’রুদ্ধ করে রাখেন তারা। ওই দিন সন্ধ্যায় পু’লিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লা’ঠিচার্জ করে।

লা’ঠিচার্জের পর দুই পক্ষে সং’ঘর্ষ বেধে যায়। এরপর রাবার বুলেট এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে উপাচার্যকে মুক্ত করে বাসায় নিয়ে আসে পু’লিশ।

ওই রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের পরদিন দুপুরের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য। এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আ’ন্দোলন শুরু করেন।

পরদিন থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে টানা অবস্থান নেন তারা। সেখানে অনশনও শুরু করেন ২৮ শিক্ষার্থী। ২০ জানুয়ারি উপাচার্য ভবনের ফট’কে ব্যারিকেড দিয়ে বাইরের কারও প্রবেশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা।

গত ২৬ জানুয়ারি সকালে শাবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মুহম্ম’দ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী’ অধ্যাপক ইয়াসমিন হকের আশ্বা’সে শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে উপাচার্যের বাসভবনের ফট’কের ব্যারিকেড তুলে নেন।

অনশন ভাঙানোর পর অধ্যাপক জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমা’র সঙ্গে সরকারের উচ্চ’মহল থেকে কথা হয়েছে। তারা আমাকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বা’স দিয়েছেন। তাদের আশ্বা’স পেয়েই আমি এখানে এসেছি।

আমি তাদের অনুরোধ করব, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো যেন রক্ষা করেন। আমি আর এই ছাত্রদের ভেতর কোনো পার্থক্য নেই। আমাকে দেয়া কথা না রাখলে সেটা কেবল আমা’র সঙ্গে না, এই দেশের সমস্ত প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।’

অনশন ভাঙার পর জাফর ইকবাল ও ইয়াসমিন হকের হাতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য তুলে দেন।

দাবিগুলো হলো- উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগসহ ছাত্র উপদেশ পরিচালক অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ ও প্রক্টরিয়াল বডির অ’পসারণ, ক্যাম্পাসের সবগুলো আবাসিক হল সচল রাখার বিষয়ে উদ্যোগ, আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অর্থ সাহায্য দেয়া পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর জামিন, অ’জ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বি’রুদ্ধে করা মা’মলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং অনশনরত শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের নির্দেশে পু’লিশের হা’মলায় আ’হত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ভা’র বহন।

এর মধ্যে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক পদ থেকে অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হয়। যদিও অ’সুস্থতার কারণে তাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়। রেজিস্ট্রারের সই করা এক আদেশে জহির উদ্দিনের বদলে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আমিনা পারভীনকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়।অনশন ভাঙার ১৫ দিন পর বুধবার মোহাইমিনুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফর ইকবাল স্যার আমাদের বলেছিলেন তাকে (উপাচার্য) সরানোর প্রক্রিয়ার দু-তিন মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হবে। তাই আম’রা দ্রুত সময়ে তার পদত্যাগ চাই।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: