সর্বশেষ আপডেট : ১১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বিপিএল থেকে সবার আগে বিদায় ‘সিলেটের’

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রায় ১৭০ ছুঁয়ে ফেলার নজির আছে ‘ইউনির্ভা’র্স বস’ ক্রিস গেইলের। সেঞ্চু’রি তো কতগুলোই করেছেন এর চেয়ে অনেক কম ওভা’র খেলে। ৩০ বলে, ৪৪ -৪৫ বলে সেঞ্চু’রির কী’র্তিও আছে। সেই গেইল এবার ফিফটির দেখা পেলেন ১৯তম ওভা’রে, ৪৩ বল খেলে! সময়ের থাবা এমনই প্রবল যে, এমন ফিফটির পরও স্বস্তি পাওয়ার কথা তার। দীর্ঘ অ’পেক্ষার পর যে এলো এই পঞ্চাশ! ফরচুন বরিশালের হয়ে মঙ্গলবার সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে বিপিএলে পুরো ২০ ওভা’র খেলে ৪৫ বলে ৫২ রান করে অ’পরাজিত থাকেন গেইল। সেরা সময়ের ছায়া হয়ে থাকা এই ইনিংসে ঘুচেছে তার লম্বা এক খরা। তবু গেইলের এই ধীরে চলো ব্যাটিংয়েও রোমাঞ্চ ছড়িয়ে যায় সিলেটের রুপসী মাঠে।

গেইলের সাথে ছায়া হয়ে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন মুনিম শাহরিয়ার। এরপর সাকিব ও ব্রাভোর ব্যাটিং সুরভিতে বরিশালের রান পৌঁছায় ১৯৯ এর পাহাড়ে। এভা’রেস্টের এমন চূড়ায় পৌঁছার চেষ্টাও করেছিলো সিলেট। কলিং ইনগ্রামের ৪৯ বলে ৯০ রানের অ’তি মানবীয় ইনিংস ছিলো সেই চূড়ায় পৌঁছার মূল রসদ। কিন্তু তাতেও হলো না। সিলেট নামটি হারের বৃত্তেই আ’ট’কে গেলো। বরিশাল জিতলো ১২ রানে। তবে সিলেট হারলেও কাল সিলেটের মাঠ রান সমুদ্রে ভাসলো।
সিলেট’কে কাল হারের লজ্জা দিতে যেন আকস্মিক হাজির হলেন নজমুল হোসেন শান্ত। ৪০ ওভা’রের ম্যাচের প্রথম ৩৪ ওভা’রে মাঠে প্রায় খুঁজে পাওয়াই গেল না তাকে।

সেই তিনিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রাখলেন ৩৫তম ওভা’রে। ব্যাট হাতে চেনা রূপে অবশ্য নয়, বরং অফ স্পিনের ঝলক দিয়ে! কলিন ইনগ্রামের অশান্ত ব্যাটে যখন বইছে শ’ঙ্কার স্রোত, তখন শান্তই তাকে শান্ত করে স্বস্তি দিলেন দলকে। সাকিব আল হাসানের আরেকটি ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স আর অনেকের সম্মিলিত অবদানের ম্যাচ জিতে শীর্ষস্থান সংহত করল বরিশাল। দারুণ গতিতে ছুটতে থাকা ফরচুন বরিশাল বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষ করল জয় দিয়ে। সিলেট সানরাইজার্সকে হারাল তারা ১২ রানে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আবারও জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। টানা চার ম্যাচে বরিশাল অধিনায়ক আদায় করে নিলেন ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি।

বরিশালের কাছে হেরে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হলো সিলেট সানরাইজার্সের। নিজেদের ঘরের মাঠে পরপর দুই ম্যাচ হেরে সবার আগে বিপিএলের এবারের আসর থেকে ছিট’কে গেলো সিলেট। ১৮৭ রানেই থেমে গেলো সিলেটের ইনিংস।

এর আগে টস জিতে সাকিবের বরিশালকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সিলেটের রবি বোপারা। বরিশালের হয়ে ওপেনিংয়ে গেইলের সাথে নামেন মুনিম শাহরিয়ার। ক্রিজে এসেই সিলেটের বোলারদের তুলোধুনা করতে থাকেন। চার ছক্কার ফুলঝুরিতে অর্ধশতকও তুলে ফেলেন বরিশালের এই ওপেনার। মুনিম যখন খু’নে মেজাজে, গেইল তখন শান্ত। দলীয় ৭২ রানে ভাঙে এই ওপেনিং জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ২৮ বলে ৬টি চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানে থামেন মুনিম। বরিশালের বড় রানের ভিত এনে দিয়েছেন তিনি।

ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন সোহান। এরপর সিলেটের মাঠে শুরু হয় সাকিবের ক্যামিও। চার ছয় ও দুই চারে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে আলাউদ্দিন বাবুর বলে কা’টা পড়েন তিনি।শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে তা’ণ্ডব চালান ডোয়াইন ব্রাভো। মাত্র ১৩ বল খেলার সুযোগ পেয়ে চার ছক্কা ও এক চারে ৩৪ রান তুলে নিয়েছেন তিনি।
ওদিকে, আরেক খেলায় দুর্দান্ত এক ম্যাচের স্বাক্ষী হলো বিপিএল ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ক্রিকে’টের অননুমেয় চরিত্র আর অনিশ্চয়তার রূপ ফুটে উঠল আরও একবার।

জয়ের নাগালে থাকা মিনিস্টার ঢাকাকে হতাশ করে দারুণ জয়ের উল্লাসে মেতে উঠল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ৫৬ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেও তামিম ইকবাল মুখ গোমড়া করে মাঠ ছাড়লেন শেষ ওভা’রে পর্যাপ্ত স্ট্রাইক না পাওয়ার হতাশায়। শরিফুল ইস’লাম ও মৃ’ত্যুঞ্জয় চৌধুরির অসাধারণ ডেথ বোলিংয়ে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেল চট্টগ্রাম।

ঢাকাকে হা’রানোর পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলেও চার নম্বরে উঠে এসেছে দলটি। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচ খেলে ৮ পয়েন্ট তাদের। নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেলে প্লে-অফ খেলার বেশ ভালো সম্ভাবনাই থাকবে চট্টগ্রামের। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে ঢাকা। শেষ দুই ম্যাচে জিততে হবে তাদের।

পরপর তিন পরাজয়ের পর আজ দ্বিতীয় দফায় অধিনায়ক বদলে খেলতে নেমেছিল চট্টগ্রাম। নাইম ইস’লামের জায়গায় আফিফ হোসেন ধ্রুবকে দায়িত্ব দিয়েছে চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি। তার অধীনেই জয়ে ফিরলো দলটি। প্রথমবারের মতো বিপিএলে অধিনায়কত্ব করতে নেমে বোলার পরিবর্তনে বেশ মুন্সিয়ানাই দেখিয়েছেন আফিফ।

ম্যাচটি আগে ব্যাট করে ১৪৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল চট্টগ্রাম। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানে থেমেছে ঢাকার ইনিংস। ওপেনিংয়ে নেমে দলের অর্ধেকের বেশি রান করেও শেষ পর্যন্ত ৭৩ রানে অ’পরাজিত থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি ঢাকার তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল।

জয়ের জন্য শেষের ৪ ওভা’রে ৪০ রান করতে হতো ঢাকাকে। তখন ইনিংসের ১৭তম ওভা’রটি করতে এসে প্রথম বলে চার খাওয়ার পরও সবমিলিয়ে মাত্র ৮ রান খরচ করেন মৃ’ত্যুঞ্জয়। কিন্তু পরের ওভা’রে বেনি হাওয়েলের বলে এক ছক্কাসহ ১২ রান তুলে নেন তামিম ও শুভাগত হোম। সমীকরণ নেমে আসে ১২ বলে ২০ রানে।

শেষ দুই ওভা’রের জন্য বাকি ছিল শরিফুল ইস’লাম ও মৃ’ত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ওভা’র। মৃ’ত্যুঞ্জয়কে শেষ ওভা’রের জন্য রেখে ১৯তম ওভা’রে শরিফুলকে আনেন আফিফ। সেই ওভা’রের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান শুভাগত। তবে পরের বলেই বোল্ড করে প্রতিশোধ নিয়ে নেন শরিফুল। ওভা’রের পরের তিন বলে মাত্র ১ রান দেন এ বাঁহাতি পেসার। কিন্তু শেষ বলটি তামিমের ব্যাটের কানায় লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে হয়ে যায় বাউন্ডারি।

ফলে শেষ ওভা’রে বাকি থাকে ৯ রান। তখন বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই কাইস আহমেদকে বোল্ড করে দেন মৃ’ত্যুঞ্জয়। পরে আট নম্বরে নেমে পরপর দুই বল ডট খেলেন নাইম শেখ। ফলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩ বলে ৯ রানে। পরের বলটি ওয়াইড করে বসেন মৃ’ত্যুঞ্জয়। আর চতুর্থ বলে ১ রান নিয়ে তামিমকে স্ট্রাইক দেন নাইম।

শুরু থেকে খেলতে থাকা তামিমের সামনে লক্ষ্য ছিল ২ বলে ৭ রান। ঠিক তখনই নিজের সেরা ডেলিভা’রিটি করেন তরুণ বাঁহাতি পেসার। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তামিমকে পরাস্ত করেন মৃ’ত্যুঞ্জয়। তবে অল্পের জন্য সেটি স্ট্যাম্পে আ’ঘাত করেনি। বাই থেকে ১ রান পায় ঢাকা। শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণে কোম’র উচ্চতার নো বল করে বসেন মৃ’ত্যুঞ্জয়।

কিন্তু সেই বলে কোনো রান নিতে পারেননি নাইম শেখ। ফলে ফ্রি হিটের শেষ বলে বাকি থাকে আরও ৫ রান। সেই বলটি স্ট্রেইট খেলে মাত্র ১ রান নিতে পারেন নাইম। আর এতেই নিশ্চিত হয়ে যায় চট্টগ্রামের ৩ রানের জয়। শেষ পর্যন্ত ৬ চার ও ৩ ছয়ের মা’রে ৫৬ বলে ৭৩ রানে অ’পরাজিত থেকে যান তামিম।

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ ওভা’রে মাত্র ২১ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন মৃ’ত্যুঞ্জয়। এছাড়া শরিফুলও নিয়েছেন ২ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ১ উইকেট পেলেও ৪ ওভা’রে মাত্র ১৫ রান খরচ করেছেন।

এর আগে ম্যাচটিতে টস হেরেছেন নতুন অধিনায়ক আফিফ, তাদেরকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভা’রেই সাজঘরে ফিরে যান এই ম্যাচ দিয়েই দলে আসা জাকির হাসান। তার ব্যাট থেকে আসে ১ রান। এরপর ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৪০ রানের জুটি গড়েন আফিফ ও জ্যাকস।

আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ২৭ রান করেন আফিফ। সমান বল থেকে ২৬ রান আসে জ্যাকসের ব্যাটে। এরপর হতাশ করেন মেহেদি হাসান মিরাজ (২) ও আকবর আলি (৯)। তবে দলকে ল’ড়াকু পুঁজিতে নিয়ে যান বেনি হাওয়েল ও শামীম পাটোয়ারী। এ দুজনের জুটিতে ৬.৪ ওভা’রে আসে ৫৮ রান।

ইনিংসের শেষ ওভা’রের পঞ্চ’ম বলে আউট হন শামীম। বিপিএল ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফিফটিতে ৫ চার ও ১ ছয়ের মা’রে ৩৭ বলে ৫২ রান করেন তিনি। অন্যদিকে ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংস শেষ করা বেনি হাওয়েল ১৯ বলে করেন ২৪ রান। যা চট্টগ্রামকে এনে দেয় ১৪৮ রানের সংগ্রহ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: