সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

প্রায় এক মাস ধরে নি’খোঁজ সিলেটের চার যুবক, কোথায় গেলেন তারা…

সিলেটের লিডিং ইউনিভা’র্সিটির ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র শেখ আহম’দ মামুন। জে’লার ওসমানীনগর উপজে’লার দয়ামীরে তার বাড়ি।

গত ১৫ নভেম্বর সকালে বাজারে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হন মামুন। এরপর আর ফিরেননি। একমাস ধরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।

মামুনের সঙ্গে নি’খোঁজ একই গ্রামের আরও তিন যুবক। তারা প্রত্যকে তাবলিগে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। তাদেরকেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।

নি’খোঁজ অন্য তিনজন হলেন হাসান সায়িদ, সাইফুল ইস’লাম ও সাদিকুর রহমান। পু’লিশ বলছে, এই চারজনের কেউই তাবলিগে যাননি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি পু’লিশ।

দয়ামীর এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বছর দুয়েক ধরে এই চার যুবক একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। গ্রামের ম’সজিদে তারা একটি গো’পন পাঠচক্র চালু করেছিলেন। সেখানে তরুণদের ‘উগ্রবাদী বই’ পড়াতেন।

ছে’লের খোঁজ না পেয়ে গত ২৭ নভেম্বর ওসমানীনগর থা’নায় সাধারণ ডায়েরি করেন নি’খোঁজ মামুনের বাবা শেখ শামসুল হক স্বপন। ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৫ নভেম্বর সকালে বাজারে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয় সুমন।

এরপরে কানে আসে গ্রামের আরও ৩ জনের সঙ্গে সে তাবলিগ জামাতে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সে ফিরে আসেনি। তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।

শেখ শামসুল হক স্বপন রোববার বলেন, বেলা ১১ টার দিকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে সে ঘর থেকে বের হয়। দুপুরে খাওয়ার সময় আমি মোবাইলে কল দিতে গিয়ে দেখি তার নাম্বার বন্ধ। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।

স্বপন বলেন, ‘আমা’র ছে’লে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করত। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করত। কোনো বাজে অভ্যাস ছিল না।’ মামুনের সঙ্গে নি’খোঁজ হওয়া হাসান সাঈদ পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছেন। তিন বছর আগে ঢাকার মাদ্রাসা থেকে টাইটেল পাস করেন তিনি। এরপর থেকে গ্রামেই থাকতেন। তার নেতেৃত্বেই ম’সজিদে গো’পন পাঠচক্র চালান হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

হাসান সাঈদের বাবা ছোরাব আলী হাসান বলেন, ‘বিদেশ থেকে আসা তাবলিগের একটি দলের সঙ্গে যু’ক্ত হওয়ার কথা বলেছিল সে। আমি মনে করেছি বিদেশ থেকে যেহেতু এসেছে, তারা নিশ্চয়ই বাংলায় কথা বলতে পারে না। আরবিতে কথা বলবে। মানুষ আরবি বুঝবে না। সে অনুবাদ করে দেয়ার কাজে গেছে। তাই আ’পত্তি করি।’

নি’খোঁজ অন্য দুজনের মধ্যে মাদ্রসায় পড়া সাদিকুর রহমান জিম ইনস্ট্রাক্টরের কাজ করতেন আর সাইফুল ইস’লাম তুহিন দারোয়ানের কাজ করতেন। তুহিনের বাবা ময়না মিয়া বলেন, ‘আমা’র ছে’লের মেবাবাইল ফোন নেই। কিন্তু অন্য তিনজনের মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি।’

সাম্প্রতিক সময়ে ছে’লের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি জানিয়ে ময়না মিয়া বলেন, সে কাজ শেষ করে সরাসরি বাড়িতে আসত। কোনো বাজে অভ্যাস ছিল না। এই গ্রামের এক কি’শোর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, সন্ধ্যার পর দয়ামীর ম’সজিদে সাঈদ, মামুনসহ অন্যরা গ্রামের শি’শু-কি’শোরদের ক্লাস করাতেন।

‘নবীকে নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করেন, যারা কোরআন অবমাননা করেন তাদের বি’রুদ্ধে যেনো আম’রা বড় হয়ে প্রতিশোধ নেই এসব কথা বলতেন। ইস’লাম, বেহেস্ত, জাহান্নাম স’ম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়াতেন।’

চার যুবক নি’খোঁজের তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট ওসমানীনগর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন বলেন, ‘তাদের একসঙ্গে নি’খোঁজ হওয়ার বিষয়টি র’হস্যজনক। তাদের প্রত্যেকের বয়স ২৩ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে। পু’লিশ তাদের সন্ধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি বলেন, তাদের তাবলিগ জামাতে যাওয়ারও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাবলিগ জামাতের সিলেটের দুটি মা’রকাজ আছে। তাদের কেউও এ ব্যাপারো কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে জানিয়ে সিলেটের পু’লিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আম’রা বিভিন্ন প্রন্থায় তাদের খোঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তারা কাদের সঙ্গে মিশতেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, তাদের অ’তীত কর্মকা’ণ্ড এসবও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: