সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সাগরপথে মানব পাচার

প্রথমে মানি লন্ডারিংয়ের সব তথ্য তুলে ধরে মানব পাচারের গডফাদার বলে অ’ভিযু’ক্ত করে পু’লিশের অ’প’রাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে মা’মলার চার্জশিট থেকে সেই গডফাদারকেই বাদ দিয়েছে সংস্থাটি।

ওই ব্যক্তি হলেন মোহাম্ম’দ আছেম। তার বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তার বি’রুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩ মে রাজধানীর বনানী থা’নায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মা’মলা করেন সিআইডির পু’লিশ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক খান। মা’মলায় আ’সামি করা হয় আরিফুজ্জামান আকন্দ, মোহাম্ম’দ আছেম, তার মা খতিজা বেগম, ওসমান সরোয়ার ও মো. একরামকে।

অ’পর পরিদর্শক মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা মো. ইব্রাহিম হোসেন গত বছর ৯ আগস্ট আ’দালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০ আগস্ট আ’দালত তা গ্রহণ করে। এখানে আছেমকে বাদ দিয়ে সবাইকে অ’ভিযু’ক্ত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট আছেমকে এবং একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর একরামকে গ্রে’প্তার করে আ’দালতে সোপর্দ করে সিআইডি। দুজনই এখন জামিনে আছেন। মা’মলা’টি এখনো বিচারাধীন আছে বলে আ’দালত সূত্র জানিয়েছে। ওই সময় সিআইডি কর্মক’র্তারা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আছেম দুবার গ্রে’প্তার হয়েছেন, দুবারই জামিনে বেরিয়ে গেছেন। চার্জশিটে মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা বলেছেন, আ’সামি আছেমের বি’রুদ্ধে মা’মলার ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারার্থে প্রেরণ করা গেল না। নিরপেক্ষ ত’দন্তে তার জ’ড়িত থাকার ব্যাপারে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চার্জশিট থেকে আছেমকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পু’লিশ সুপার মো. হু’মায়ুন কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিষয়টি আমা’র নলেজে নেই। কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাবে না।’

গ্রে’প্তারের পর আছেম স’ম্পর্কে যা বলেছিল সিআইডি : ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির তৎকালীন বিশেষ পু’লিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইস’লাম বলেছিলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের গডফাদার মোহাম্ম’দ আছেম। আন্তর্জাতিক এই মানব পাচারকারী কক্সবাজার সাগর চ্যানেল দিয়ে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার মানুষকে মালয়েশিয়া পাচার করেছেন।

সাগরপথে মালয়েশিয়ার যাওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি মা’রাও গেছেন। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ। তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার-থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় সাগরপথে মানব পাচার করে মুক্তিপণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অ’বৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন। তাকে ১৯ আগস্ট (২০১৮) রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে সিআইডি গ্রে’প্তার করে। আছেমের বাবা আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন এবং তার বড় ভাই মোহাম্ম’দ খোবায়েদও মালয়েশিয়ায়। এ সুবাদে তারা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যোগ দেন।

আছেম ২০১০ সালে তাদের সঙ্গে মানব পাচারের কাজ শুরু করেন। আছেম ও তার ছোট ভাই জাভেদ মোস্তফা মানব পাচারের জন্য প্রথমেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় দালাল নিয়োগ করেন। দালালরা লোক ঠিক করে নিয়ে আসে। এরপর তাদের কাছ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ নিয়ে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। টেকনাফ থেকে ট্রলারে করে মিয়ানমা’র হয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে রাখা হয়। পাচার হওয়া লোকদের আ’ট’কে রাখা হয় সেখানে। এরপর ভিকটিম’দের নি’র্যা’তন করে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ চায় পাচারকারী চক্র।

এরপর আছেম ও তার সহযোগীরা মুক্তিপণ আদায় করে। আর যারা মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হয় তাদের থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মে’রে ফেলা হয়। আছেম পাচারের টাকা দিয়ে টেকনাফে বাড়ি ও জমি কিনেছেন। এ ছাড়া জমি কিনেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। এগুলো সব অ’বৈধ টাকার।

সিআইডি কর্মক’র্তারা জানান, আছেম রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে বসবাস করতেন। তিনি তেজগাঁও কলেজের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের প্রভাষক। তার বি’রুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও মানব পাচারের তিনটি মা’মলা ছিল। একটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থা’নায়, একটি রাজধানীর বনানী এবং অ’পর মা’মলা’টি কি’শোরগঞ্জের বাজিতপুর থা’নায়। ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট আছেমকে প্রথমে গ্রে’প্তার করা হয়। তিন দিন রি’মান্ডে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় রি’মান্ডের আবেদন করলে আ’দালত তাকে জামিন দিয়ে দেয়। পরে অন্য একটি মা’মলায় ১৯ আগস্ট সিআইডি আবারও তাকে কারওয়ান বাজার থেকে গ্রে’প্তার করে। পরদিন আ’দালতে তোলা হলে তিনি জামিন পান।

পু’লিশের সাবেক প্রধানরা যা বলছেন : সাবেক আইজিপি মোহাম্ম’দ নুরুল হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মা’মলা সাধারণত হয় প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। চূড়ান্ত ত’দন্তে সেটি প্রমাণিত না হলে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। তবে মানি লন্ডারিং মা’মলার ক্ষেত্রে যেটি হয়েছে সে স’ম্পর্কে ত’দন্ত কর্মক’র্তাই ভালো বলতে পারবেন। কথা হয় আরেক সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্ম’দের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে এজাহার হয়। সেটি চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত ত’দন্তের মাধ্যমে মা’মলা’টি নিষ্পত্তি হয়। যদি কারও ইনফ্লুয়েন্সে এই চার্জশিট হয় তাহলে কিন্তু ৫ বছর কিংবা ১০ বছর পর আবারও ব্যাক করতে পারে। তখন কিন্তু ওই ব্যক্তি আবার জে’লে যাবে।

মা’মলার এজাহারে যা ছিল : মা’মলায় সিআইডির পু’লিশ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক খান অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, মাদারীপুরের শি’বচরের শামিম নামে এক কি’শোরকে চাকরি দেওয়ার প্রলো’ভনে অ’জ্ঞাত এক ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায়। ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তার মা মমতাজ বেগমকে টেলিফোনে ইস’লামী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় আড়াই লাখ টাকা জমা দিতে বলা হয়। এ টাকা না দিলে শামিমকে হ’ত্যার হু’মকি দেওয়া হয়। পরে আড়াই লাখ টাকা মমতাজ বেগম জমা দেন। ওই হিসাবের মালিক আরিফুজ্জামান আকন্দসহ মোহাম্ম’দ আছেম মানব পাচারে জ’ড়িত বলে জানা যায়।

আরিফুজ্জামান আকন্দ তার ব্যাংক হিসাবে মানব পাচারের টাকা লেনদেন করেছেন। মালয়েশিয়ায় ছোট ভাই মাসুদ ও ভাতিজা তোফাজ্জলের মুক্তিপণ বাবদ আরিফের ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা জমা দেন নরসিংদীর স্বপন মিয়া। এমন অন্তত ২০ জন বিভিন্ন সময়ে আত্মীয়স্বজনের মুক্তিপণ বাবদ টাকা জমা দিয়েছেন। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আরিফের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার ব্যাংক হিসাবে ৯৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪০ টাকা জমা হয়েছে। এই হিসাব থেকে আছেমের মা খতিজা বেগমের ইস’লামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার হিসাবে ৫৪ লাখ ২১ হাজার ৩৬৫ টাকা স্থা’নান্তর করা হয়। আরিফ ও আছেম সুকৌশলে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে লোকজনকে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে পাচার করতেন। মালয়েশিয়া

গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা করে নিতেন তারা। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোহাম্ম’দ মোমতাজ উদ্দীন আহমেদ মেহেদী বলেন, সিআইডির কর্মক’র্তারা সংবাদ সম্মেলনের সময় যা বলেছেন তা ভুল কিংবা মিথ্যা হতে পারে না। তবে চার্জশিট যেভাবে দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই প্রভাবিত হয়ে দিয়েছে। ত’দন্তও করেছে প্রভাবিত হয়ে।

সিআইডি সূত্রে আরও যা জানা যায় : ২০১৬ সালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার একটি মা’মলায় প্রথম আরিফুজ্জামান আরিফ ও আছেমের নাম আসে। মা’মলা’টি করেন আবদুস সালাম। তিনি অ’ভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে আরিফুজ্জামান আরিফ ও মো. আছেম তার ছে’লে মো. মাসুদ ও মো. আবদুল আলিমকে অল্প খরচে নৌপথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার টোপ দেন। ওই বছরের ২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যান আ’সামিরা। এর দুই মাসের বেশি সময় পর আবদুস সালামের কাছে একটি ফোন আসে। মাসুদ তার বাবাকে জানান, তিনি ও আলিম একটি জঙ্গলে আ’ট’কে আছেন। ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তারা ছাড়া পাবেন। এরপর আবদুস সালাম ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর উল্লাপাড়ায় ইস’লামী ব্যাংকের একটি শাখায় টাকা পরিশোধ করেন। এতেও ওই দুজন মুক্তি পাননি। পরিবারটি পরে জানতে পারে, মাসুদ ও আলিম দুজনই মালয়েশিয়ার জে’লে আ’ট’ক আছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: