সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ধুলোবালি, অবৈধ পার্কিং ও যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী

উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধীরগতি নগরবাসীর জন্য গলারকাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফের বেদখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত, সৌন্দর্য্যবর্ধন কাজের জন্য ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ জনসাধারণ, যত্রতত্র অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে নাকাল নগরবাসী। উন্নয়ন কাজের অজুহাতে সিটি কর্পোরেশনের নিরবতা সংকটকে ক্রমশই ঘনীভুত করছে। নগর কর্তৃপক্ষের একটু সুনজর এই সংকট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সক্ষম।

দেখা গেছে, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিসিকের নেয়া সকল উদ্যোগ অনেকটা ভেস্তে গেছে। নগরীর লালদিঘীরপাড়ে হকারদের জন্য নির্মিত মার্কেটে জমে না উঠায় ফের বেদখল হতে চলেছে ফুটপাত। মাঝে মাঝে সিসিকের অভিযানে ভ্রাম্যমাণ হকাররা সরে গেলেও অভিযান শেষে ফের ফুটপাতে নেমে আসে তারা। বিকাল গড়ানোর সাথে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের ফুটপাত ঘিরেই নজর ভ্রাম্যমাণ হকারদের। তারা কৌশল বদলিয়ে ভ্যানগাড়ীর বদলে ফুটপাতে বক্সের মধ্যে কাপড় রেখে, পানি কাপড় বিছিয়ে সেখানে কাপড় রেখে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে অনায়াসে।

সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে হকারদের সংখ্যা। বেচাকিনি চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। যার ফলে রাত ১০টার পরও নগরীর বন্দরবাজার টু আম্বরখানা রাস্তায় লেগে থাকে যানজট। রাতের বেলায় অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশ না থাকার কারণে জ্যাম থাকে ঘন্টা পর্যন্ত। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদেরকে ট্রাফিকের ভুমিকা পালন করতে দেখে গেছে। এদিকে রাস্তার একটা বিশাল অংশ জুড়ে বন্দরবাজার সিটি পয়েন্ট, কোর্ট পয়েন্ট ও সুরমা পয়েন্টে সবজিওয়ালা ও শীতের কাপড়ের ভ্যানগাড়ীতে শুরু হয় ব্যবসা বাণিজ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরবাজার কালেক্টরের মসজিদের সামনে থেকে সুরমা মার্কেট পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে সৌন্দর্য্যবর্ধন ডিভাইডার নির্মাণের কারণে খুড়ে রাখা হয়েছে অনেক জায়গা। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে এই খুড়াখুড়ি থেকে নিসৃত ধুলোবালিতে অতিষ্ট জনসাধারণ। মাস্ক লাগিয়েও রক্ষা হচ্ছেনা অনেকের। ফলে বাড়ছে ময়লাবাহিত রোগ। এলার্জি জনিত সমস্যা থাকা মানুষ পড়েছেন বেকায়দায়। ঔষুধে সর্দি সারছেনা অনেকের। এজন্য তারা নগরীর ধুলোবালিকে দায়ী করছেন। এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সপ্তাহে একবার ধুলোবালি অপসারণে পানি ছিটানোর কথা থাকলেও বাস্তবে এর দেখা মিলছেনা। ফলে দিন দিন বাড়ছে ধুলোবালি।

দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এবং মার্কেটের সামনে চলছে যত্রতত্র পার্কিং। মধুবন মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে অগ্রগামী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজসহ জিন্দাবাজারের বিভিন্ন বিপনী বিতানের সামনে রাস্তার পার্শে¦ মোটরসাইকেল সিএনজি অটোরিক্সা কার মাইক্রোবাস পার্কিং করে রাখা আছে। গেল নভেম্বর মাসে কয়েকদিন সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযানের কারণে অবৈধ পার্কিং কিছুটা বন্ধ হয়েছিল। গত কয়েকদিন থেকে আবার পুরনো চেহারায় ফিরেছে যত্রতত্র পার্কিং। বিকেলের দিকে অবৈধ পার্কিং চরম আকার ধারণ করে। রাত বাড়ার সাথে সাথে বন্দরবাজার জিন্দাবাজার চৌহাট্টা পয়েন্ট পর্যন্ত অবৈধ পার্কিং নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীতে যানজট দিন দিন বেড়েই চলেছে। দিনের বেলায় যানজটে নিরসনে হিমশিম খেতে দেখা গেছে খোদ ট্রাফিক পুলিশকে। বন্দরবাজার টু চৌহাট্টা পয়েন্টে জ্যাম বেশী লেগে থাকে। ফুটপাত বেদখল, যত্রতত্র পার্কিং ও রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণের কারণেই মুলত এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট লেগে থাকার জন্য সংস্কার কাজের ধীরগতিকে দায়ী করছেন ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ। তারা জানান, জনবহুল রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার কথা থাকলেও রাস্তা খুড়ে মাসের পর মাস চলে যায়। এজন্য রাস্তায় যানজট চরম আকার ধারণ করে। এদিকে সিসিকের নজর দেয়া উচিত। সংস্কার কাজ শেষ হলে যানজট অনেকটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ট্রাফিক সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সিলেট-এর সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন কর্মকান্ড শেষ হলে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়। তাই উন্নয়ন কর্মকান্ড চলাকালিন সময়ে জনসাধারণকে একটু ধৈর্য্যধারণ করা উচিত। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। এসব কাজে জড়িত ঠিকাদারদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে। সংস্কার কাজের জন্য ধুলো একটি বড় সমস্যা। সিসিকের উচিত জনবহুল এলাকায় দিনে অন্তত একবার পানি ছিটানো। রাস্তার মাঝখানে বাঁশ বেধে রাস্তার ডিভাইড করা একদিকে দেখতে যেমন দৃষ্টিকটু তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই এক্ষেত্রে সিসিক ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার নগরীতে জনগণের চাপ একটু বেশী থাকে। এদিন নগরীতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। এছাড়া শুক্র ও শনিবারের ছুটির কারণে অনেকে বাসা বাড়ীতে যাওয়া এবং শপিং করার কারণে নগরীতে যানবাহনের চাপ একটু বেশী থাকে। তবে নগরীতে নিত্যদিনের যানজটের জন্য তিনি পার্কিং স্পট না থাকাকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে নগরীতে কমপক্ষে ৬টি স্পটে পার্কিং জোন স্থাপনের জন্য বলেছি। কিন্তু নগরীর ব্যস্ততম এলাকার অনেক বিপনী বিতানের নিজস্ব পার্কিং না থাকায় অনেকেই রাস্তার পাশের যানবাহন দাড় করিয়ে রাখে। পার্কিং না থাকায় অনেক সময় আমরা অভিযান করতে গিয়ে বিপাকে পড়ি। পার্কিংয়ের জায়গা সৃষ্টি না করে কাউকে পার্কিংয়ের অপরাধে মামলা দিতে আমাদের কষ্ট হয়। তবুও আমরা মাঝে মাঝে মামলা ও জরিমানা করে থাকি।

তিনি আরো বলেন, নগরজুড়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে বিশেষ করে ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড ও শিবগঞ্জ রোডের অবস্থা বেহাল। এসব এলাকার যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে নিয়মিত হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে এই এলাকার যানজট নিরসন সম্ভব হবেনা। আমরা নগরীর ১২টি চৌরাস্তায় আরো ৫জন করে ট্রাফিক পুলিশ যোগ করে দিয়েছি। জিন্দাবাজার এলাকায় রাত ১১টা পর্যন্ত আমাদের ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা রয়েছে। অনেক সময় সেখানে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ না থাকার সংবাদ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, নগরীতে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করতে কাজ চলছে। ধুলোবালি নিরসনে পানি ছিটানোর কথা রয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই এই কাজ শুরু হবে। সৌজন্যে: জালালাবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: