সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

লিবিয়ায় দালালের নির্যাতনে দুই বাংলাদেশী তরুণের মৃত্যু

লিবিয়ায় দালালদের নি’র্যা’তনে মাদারীপুরের সাব্বির খান (২১) ও সাকিবুল হাসান সবুজ (২২) নামে দুই তরুণের মৃ’ত্যুর অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২০ নভেম্বর) রাতে তাদের মৃ’ত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছায়।

ওই দুই তরুণ অ’বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার অ’ভিবাসী ব’ন্দিশালায় দালালদের শারীরিক নি’র্যা’তনে তাদের মৃ’ত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান।
নি’হত দুই তরুণ হলেন- মাদারীপুর সদর উপজে’লার মধ্য খাগদী এলাকার আবুল কালাম খানের ছে’লে সাব্বির খান (২১) ও বড়াইলবাড়ি এলাকার মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছে’লে সাকিবুল হাসান সুরুজ (২২)।

নি’হত তরুণদের স্বজন ও পু’লিশের সূত্র জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় দালাল সবুজ মীরের মাধ্যমে আট লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন সদর উপজে’লার বড়াইল গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছে’লে সাকিবুল। চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ হলেও বাকি টাকা ইতালি পৌঁছানোর পরে দেওয়ার কথা। তবে লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরেই বাকি চার লাখ টাকার জন্য দালাল চক্র সাকিবুলকে একটি ব’ন্দিশালায় আ’ট’কে রেখে নি’র্যা’তন চালায়। পরে শনিবার রাতে দালালদের নি’র্যা’তনে মা’রা যান সাকিবুল।

অন্যদিকে মধ্য খাগদী এলাকার আবুল কালাম খানের ছে’লে সাব্বির খান চরনাছনা এলাকার দালাল কাশেম মোড়লের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ টাকার চুক্তিতে ছয় মাস আগে লিবিয়া পৌঁছান। এরপরে তাকেও লিবিয়ার ব’ন্দিশালায় আ’ট’ক রাখা হয়। টাকার জন্য তাকেও শারীরিকভাবে নি’র্যা’তন চালান দালালরা।

আহাজারি করতে করতে নি’হত সাব্বিরের মা নাজমা বেগম বলেন, রাইতে আমি বাড়ি ছিলাম না। সেসময় ভাইর বেটি (ভাইয়ের মে’য়ে) হঠাৎ ফোন দিছে, ভাবছি মায় মই’রা গেছে। বাড়িতে আইসা শুনি আমা’র পোলা মই’রা গেছে। বলেই তিনি বিলাপ করতে থাকেন।

সাব্বিরের খালু মো. ওবায়দুর রহমান তালুকদার বলেন, সাব্বিরের মা’থায় ধারালো কিছু একটা দিয়ে আ’ঘাত করা হয়েছে। এ কারণে সাব্বির মা’রা গেছে। সাব্বিরের সঙ্গে যারা ছিল, ওরা আমাগো ফোনে ভিডিও কলে সব দেখাইছে। সাব্বিরের মৃ’ত্যুর জন্য যে কয়জন দালাল দায়ী, আম’রা তাদের উপযু’ক্ত বিচার চাই।

অন্যদিকে নি’হত সাকিবুলের মেজ ভাই আরিফুর রহমান বলেন, ভাই বিএ পড়ত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য পাগল ছিল। তাই আম’রা আর আ’ট’কাই নাই। দালালের সঙ্গে চুক্তি ছিল, লিবিয়া পর্যন্ত পৌঁছালে অর্ধেক টাকা দিতে হবে। পরে ইতালি পৌঁছে দিতে হবে বাকি টাকা। বডি কন্ট্রাক্ট ছিল। কিন্তু গেম হওয়ার আগেই এভাবে যে মা’রা যাবে, তা মানতে পারছি না। যারা আমা’র ভাইয়ের মৃ’ত্যুর জন্য দায়ী, আম’রা তাদের বিচার চাই।

মাদারীপুরে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (অক্টোবর পর্যন্ত) মানব পাচার আইনে ৩০টি মা’মলা হয়েছে। এসব মা’মলায় ২৯ জন গ্রে’প্তার হয়েছেন। তবে থামছে না দালালদের দৌরাত্ম্য।

মাদারীপুর পু’লিশ সুপার (এসপি) গো’লাম মোস্তফা রাসেল বলেন, লিবিয়াতে মাদারীপুরের দুজন মা’রা যাওয়ার খবর শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত নি’হত তরুণদের পরিবার কোনো সহযোগিতার জন্য আসেনি। এরপরও নি’হত ওই দুই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: