সর্বশেষ আপডেট : ১২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

৮ টাকার সবজি যেভাবে ৮০ টাকা হয়

কথা হয় বগুড়ার কৃষক তোফাজ্জে’ল হকের সঙ্গে। সবজি চাষ করে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। নিজের ২ বিঘার সঙ্গে লিজ নিয়েছেন ৫ বিঘা। তাতে আলু থেকে শুরু করে ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, মুলা, লাউ, কচু, কাঁচাম’রিচ চাষ করছেন। বিক্রির জন্য বাজারেও যেতে হয় না। মাঠ থেকেই নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। তবে পরিবহন খরচ বাঁচলেও প্রকৃত দাম পান না তোফাজ্জে’ল। মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে কম’দামেই বিক্রি করতে হয় তাকে। গড়ে তার সবজির দাম পড়ে প্রতিকেজি ৮-১০ টাকা। বাধাকপি, ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি করেন ৫-৬ টাকায়।

একই অবস্থা নরসিংদীর কৃষক আইনুল হকের। তিনিও সবজি বিক্রি করছেন গড়ে ৮-১০ টাকা কেজিতে। কখনও আরও কমে যায় দাম। প্রতিপিস লাউ বিক্রি করেন ১০-১২ টাকায়। বাধাকপি ও ফুলকপি প্রতিপিস ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি।

দুজন কৃষকই জানিয়েছেন, সরাসরি আড়তে সবজি পাঠাতে পারলে কৃষক-ভোক্তা উভ’য়েই লাভবান হতো। ৮ টাকায় কৃষকের বিক্রি করা সবজি ভোক্তাকে ৮০ টাকায় কিনে খেতে হতো না।

এসব সবজি মাঠ থেকে কিনে যারা রাজধানীতে পাঠান তাদের একজন বগুড়ার সোনাতলা উপজে’লার সিকান্দার হোসেন। বাঁশের ঝুড়িতে সবজি ভরে চট দিয়ে মুখ আ’ট’কে ট্রাকে করে পাঠান রাজধানীর কাওরানবাজারে। প্রতিটি ট্রাকে ভাড়া দিতে হয় ২৮ হাজার টাকা। তার ওপর রাস্তায় রয়েছে চাঁদাবাজী। সব মিলিয়ে এক ট্রাক সবজি যখন কাওরানবাজারে পৌঁছায় তখন ৮ টাকার সবজির দাম এমনিতেই হয়ে যায় ২৮ টাকা। আড়তদার তা কিনে নেন ৩০-৩২ টাকায়। তারা আবার মুনাফা করে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা ব্যবসায়ীরা সেটা বিক্রি করেন ৬০-৮০ টাকায়।

নরসিংদীর মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী মোবারক হোসেনের দেওয়া হিসাবও একই। তিনি বলছেন, আগে ৮-৯ হাজার টাকায় এক ট্রাক সবজি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজারে পাঠানো যেত। এখন লাগে ১২-১৪ হাজার টাকা। মোবারক জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরাই অস্বাভাবিক হারে মুনাফা করে। যার কারণে দাম বাড়ে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ, পচে যাওয়া, ওজনে কম পাওয়া এসব তো আছেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষকের কাছ থেকে কয়েক হাত ঘোরার কারণেও সবজির দাম দশ গুণ বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহন খরচ কমানো গেলেও মধ্যস্বত্বভোগী না থাকলে কৃষক সরাসরি আড়তে পাঠাতে পারতো। এতে কোনও সবজির দাম কিছুতেই ৪০ টাকার বেশি হতো না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কাওরানবাজারে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি-উত্তর) বৈধ আড়তের সংখ্যা ৩৭০-এর বেশি। এর বাইরেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ছয়টি প্লটের ওপর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আরও কিছু সবজি ও ফলের আড়ৎ আছে। ক্ষুদ্র আড়ত মালিক সমিতির হিসাবে, কাওরানবাজারে প্রতিদিন ৪০০-৫০০টি ট্রাক আসে।

রাজধানীর কাওরানবাজার ক্ষুদ্র আড়তদার মালিক সমিতির নেতা আশরাফ আলী ফকির জানিয়েছেন, সবজির অ’তিরিক্ত দামের জন্য পরিবহন খরচই দায়ী। এর সঙ্গে যু’ক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগী। এই দুটি ক্ষেত্র না থাকলে সবজির দাম অর্ধেকে নেমে আসতো বলেও মনে করেন তিনি।

জানতে চাইলে রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানিয়েছেন, আড়তদাররা ওজনে কম দেয়, পাঁচ কেজির পাল্লায় আম’রা পাই সাড়ে ৪ কেজি। এর মধ্যে পচাও থাকে। বাছাই করা যায় না। এভাবে তো বিক্রি করা যায় না। ওই সাড়ে চার কেজি দোকানে আনার পর বাছাই করলে টেকে সাড়ে তিন কেজি। দাম তো বাড়াতেই হয়, না হলে লোকসান হবে।

তিনি আরও জানান, কৃষক যে দামে বিক্রি করছে সেই হিসাবে দাম কমই থাকার কথা। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ে ট্রাকভাড়া, মধ্যস্বত্বভোগী ও আড়তদারদের কারণে। এগুলো বাদ দিতে পারলে সবজির দাম ৪০ টাকার নিচে থাকতো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: