সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে যে কারণে কৌতূহল

ওয়েছ খছরুঃ সিলেট চেম্বার অব কমা’র্স নির্বাচনে এবারের প্রার্থী তালিকার বেশির ভাগই নতুন মুখ। ব্যবসায়ী পরিবার থেকে উঠে আসা কিংবা নিজের প্রচেষ্টায় শীর্ষ ব্যবসায়ী হয়ে উঠা বেশির ভাগই হয়েছেন প্রার্থী। আর নতুনদের নিয়ে বাজি ধরেছেন সিলেট চেম্বারের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্ব করা পরিচিত ব্যবসায়ীরা। নিজেরা জায়গা ছেড়ে দিয়ে তাদের নিয়েই নির্বাচনে মেতে উঠেছেন। তাই এবারের নির্বাচন আগেভাগেই জমে উঠেছে। ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে বেশ কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজে নির্বাচনকে ঘিরে উৎসব আ’মেজ বিরাজ করছে। গতকাল নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা টানানো হয়েছে।

তালিকায় অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে ৩০ জন, এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে ১৫, ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন ও টাউন গ্রুপ থেকে একজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। চেম্বারের নির্বাচনী কর্মক’র্তারা জানিয়েছেন, চেম্বারের সংঘবিধি অনুযায়ী অর্ডিনারি গ্রুপের প্রার্থী এহতেশামুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অ’পর প্রার্থী মো. শাহীদুর রহমান নিজে থেকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এছাড়া, এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে চন্দন সাহা, মাসুদ আহম’দ চৌধুরী, এম’দাদ হোসাইন, আব্দুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন- অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে প্রার্থী এজাজ আহম’দ চৌধুরী, মামুন কিবরিয়া সুমন, ফা’লাহ উদ্দিন আলী আহম’দ, এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, মুশফিক জায়গীরদার, ফখর-উস সালেহীন নাহিয়ান, আব্দুল হাদী পাবেল, আনোয়ার রশীদ, নাফিস জুবায়ের চৌধুরী, মো. খুবের হোসাইন, ফারুক আহম’দ, দেবাশীষ চক্রবর্তী, মাসনুন আকিবর ভুঁইয়া, হিফজুর রহমান খান, আব্দুর রহমান জামিল, হু’মায়ূন আহম’দ, নজরুল ইস’লাম, আলীমুল এহসান চৌধুরী, খন্দকার ইশরার আহম’দ রকি, আব্দুস সামাদ, শান্ত দেব, মো. রুহুল আলম, জহিরুল কবীর চৌধুরী শিরু, ফাহিম আহম’দ চৌধুরী, দেবাংশু দাস, আবুল হাসান, শোয়েব আহম’দ, মা’রুফ আহম’দ, জসিম উদ্দিন, সামিয়া বেগম চৌধুরী। এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে প্রার্থী হয়েছেন- তাহমিন আহম’দ, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, মুজিবুর রহমান মিন্টু, মনোরঞ্জন চক্রবর্তী সবুজ, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জয়দেব চক্রবর্তী, মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী মুশফিক, ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, জিয়াউল হক, আবুল কালাম, রাজ্জাক হোসেন, সারোয়ার হোসেন, রিমাদ আহম’দ রুবেল, সাহাদত করিম চৌধুরী ও হারুনুর রশীদ।

ট্রেড গ্রুপ থেকে প্রার্থী আবু তাহের মো. শোয়েব, হিজকিল গুলজার, আলহাজ আতিক হোসেন ও টাউন গ্রুপ থেকে আমিনুর রহমান। তবে ট্রেড ও টাউন গ্রুপে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তারা পরবর্তী সেশনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।

এদিকে সিলেট চেম্বার অব কমা’র্সের নির্বাচন নিয়ে প্রতি বছরই নানা নাট’কী’য়তা হয়ে থাকে। এসব নাট’কী’য়তার কারণে চেম্বার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকে। এবারো ভোটার তালিকা, পূর্বে সংঘবিধি না মানা সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের কাছে লিখিত অ’ভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, উচ্চ আ’দালতেরও শরণাপন্ন হয়েছেন এক ভোটার। বিতর্ক শুরু হওয়ার মধ্যেও নির্বাচন চান চেম্বার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখোমুখি হওয়া সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নীতিনির্ধারকরাও। আর নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার কথা জানিয়েছেন সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের প্রধান আব্দুল জব্বার জলিল। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি স্বচ্ছতায় বিশ্বা’স করি। এ কারণে স্বচ্ছতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবো। চেম্বারের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন কিছুই করা হবে না।’ তিনি জানান, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম, চেম্বারের গঠনতন্ত্রের আলোকে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হবে। যদি কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা বাতিলের বি’রুদ্ধে আপিল করেন সেটি তিনি আপিল বোর্ডে করতে পারেন বলে জানান তিনি।’

এদিকে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমা’র্সের সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক খন্দকার শিপার আহম’দ জানিয়েছেন; ‘সিলেটের সব ব্যবসায়ীরা নির্বাচন চান। আম’রা নির্বাচনেই আছি। সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের ব্যানারে একটি প্যানেল রয়েছে। এই প্যানেলে নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে প্রার্থী দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন- ‘সিলেট চেম্বারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হোক সবাই চান। এ জন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। কারও প্রতি অনুরাগ ও বিরাগ দেখানোর কোনো সুযোগ নেই নির্বাচন কমিশনের। এজন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আম’রা নিরপেক্ষতাই চাইবো।’

সিলেট চেম্বারের বর্তমান সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক তাহমিন আহম’দ জানিয়েছেন; সিলেট চেম্বার পরিচালিত হয় সংঘবিধি অনুসারে। সুতরাং বিধি মোতাবেক সবই হচ্ছে। আশা করছি; আগামী ১১ই ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের রায়ে একটি গতিশীল বোর্ড গঠন হবে। তাদের মাধ্যমে সিলেট চেম্বারের আগামীর কার্যক্রম ব্যবসায়ীদের উন্নয়নেই পরিচালিত হবে। এদিকে এবারও ভোটার তালিকায় ‘জালিয়াতি’ এবং নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডে ‘আত্তীকরণের’ অ’ভিযোগ উঠেছে চেম্বার নেতাদের বি’রুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি অ’ভিযোগও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন দপ্তরের পরিচালক বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।

সিলেট চেম্বারের এবারের পরিচালক পদে প্রার্থী হওয়া কয়েকজন এই অ’ভিযোগ করেন। অ’ভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘সিলেট চেম্বারের বর্তমান সভাপতিসহ একাধিক পরিচালকের যোগসাজশে অন্তত অর্ধশত ভু’য়া ভোটার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন ভু’য়া ভোটারের তালিকা অ’ভিযোগের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট চেম্বারের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংশয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক।’ তবে এই অ’ভিযোগ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: