সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

যে মসজিদে সব ধর্ম মিলেমিশে একাকার

ম’সজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো ২০টির বেশি বড় বাস দাঁড়ানো। প্রাইভেট গাড়িরও সংখ্যা নেহাত ৫০ এর কম হবে না। কী’ ভাবছেন ম’সজিদ দেখতে হাজার হাজার মু’সলিমের আগমন! না, না এখানে প্রতিদিন হাজির হন সব ধ’র্মের পর্যট’করা। নারী-পুরুষ, শি’শু কারও জন্য কোনো বাধা নেই। এমনকি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ দুনিয়ার তামাম ধ’র্মের মানুষের এখানে প্রবেশে কোনো ধরনের বাধা নেই। তবে বিদেশি নারীদের জন্য রাখা হয়েছে বোরকা। আর যে ছে’লেরা হাঁটুর উপরে হাফপ্যান্ট পরেছে তাদের পা কিছুটা ঢেকে দেয়ার ব্যবস্থা। এই সব মেনেই তাদের ম’সজিদে প্রবেশে ব্যাকুলতা দেখে অ’বাক হওয়ার মতো! প্রশ্ন জাগতে পারে কোথায় এই ম’সজিদ, কেনই বা তা দেখতে সব ধ’র্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ভিড়! হ্যাঁ, বলছি শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড ম’সজিদের কথা।

সংযু’ক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এর অবস্থান। তবে এখানেও প্রভাব ফেলেছে করো’না মহামা’রি। বর্তমানে এখানে প্রবেশ করতে হলে প্রয়োজন হয় টিকার সার্টিফিকেট। আর পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট। তাতে কিন্তু পর্যট’কদের ঢল আ’ট’কানো যায়নি। ইংলিশ দুই দম্পতি জুহানা রজার ও তার স্বামী সিজার অ্যালেন বোরকা আর জুব্বা পরে দারুণ খুশি। এখানে স্মৃ’তি ধরে রাখতে শুধু সেলফি নিয়ে দু’জনের মন ভরছিল না। তাই এগিয়ে এসে জানালেন ছবি তুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ। এই সুযোগে প্রশ্ন করে নিতে ভুল করলাম না কেমন লাগছে বিশাল শ্বেত শুভ্র ম’সজিদ। তারা বলেন, ‘ইউএই আসার সময় ঠিক করে রেখেছিলাম এখানে আসবো। তবে ম’সজিদে প্রবেশ করতে পারবো সেটি জানতাম এতটা ভেতরে ঢুকে নামাজের স্থানও দেখতে পাবো জানতাম না। দারুণ লাগছে আমাদের। যদি সুযোগ থাকতো এখানে থেকে যেতাম সারাজীবন। তবে ভালোই লাগছে এসেছি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জয় দেখতে সেটি দেখতে পাচ্ছিও। আশাকরি ওরা ট্রফিটা নিয়ে দেশে ফিরবে।’

ইংলিশ দুই দম্পতি বিদায় নেয়ার আগে বাংলাদেশের সাংবাদিক শুনে থমকে দাঁড়ালেন। পরক্ষণেই প্রশ্ন করলেন, ‘বাংলাদেশ তো এমন দল নয়! কি হয়েছে ওদের? ২০১৯ আম’রা নিজে টিকিট কিনে ওদের খেলা দেখেছি। কারণ টাইগারদের খেলা সবাইকে মুগ্ধ করে। আশা করি আগামী বিশ্বকাপে দল ঘুরে দাঁড়াবে। বাজে সময় কাটবে আম’রা এই ম’সজিদে ওদের জন্য প্রার্থনা করবো।’ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাওয়ার কিছু নেই। টানা তিন ম্যাচ হেরে স্বপ্ন শেষ হয়েছে। তবে আবুধাবিতে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল নিয়ম রক্ষার্থে। তার আগে বিশাল এই ম’সজিদ দেখতে হাজির হয়েছিল বাংলাদেশের ২১ জনের সংবাদকর্মীর দল। এমনকি সেখানে হাজির হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে যাওয়া টাইগার ক্রিকে’টের সা’পোর্টারদের বড় একটি অংশ। গাড়ি থেকে নেমেই জানা গেল ম’সজিদে প্রবেশ করতে লাগবে পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট এমনকি করো’না ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটও। ভাগ্য ভালো ম্যাচে প্রবেশ করতে আগের দিনই সবার করো’না টেস্ট করাতে হয়েছে। সেই সঙ্গে সিকিউরিটি থেকে বলা হলো প্রবেশ করতে লাগবে টিকিটও। তবে তার জন্য কোনো মূল্য নেয়া হবে না। টিকিট সংগ্রহের জন্য যেতে হবে আন্ডার গ্রাউন্ডে। সেখানে নেমেই চোখ ধাঁধানো সব দৃশ্য। মাটির উপর ম’সজিদ হলেও সেখানে যেতে হয় ৫০ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা দিয়ে। সেখানে রয়েছে বিশাল একটি শপিংমলও। টিকিট নিয়ে আপনাকে মাটির নিচের সেই রাস্তা ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে এতদূরের পথে ক’ষ্ট হবে না। রয়েছে লিফট, গ্রাউন্ড এক্সিলেটর এমনকি ছোট ছোট গাড়িও। মাটির নিচ দিয়ে আপনি যখন উপরে উঠবেন ম’সজিদের রূপ দেখে আপনার চোখ ধাঁধিয়ে যাবে।

ম’সজিদে ৪০,০০০ হাজারের বেশি মু’সল্লি ধারণক্ষমতা রয়েছে। মূলত ৭টি বড় গম্বুজ হলেও ভিন্ন ধরনের ৪০টি গম্বুজ এই ম’সজিদের নান্দনিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংযু’ক্ত আরব আমিরাত গিনেজ বুকে নাম করেছে দর্শনীয় স্থানের জন্য। ইউরোপ আ’মেরিকার পর্যট’কদের ঢল নামে দেশটিতে এ ঠাণ্ডা মৌসুমে। ধ’র্মীয় উপাসনালয়ও যে দর্শনীয় স্থান হতে পারে তার নজির স্থাপন করেছে সংযু’ক্ত আরব আমিরাত। তার বড় প্রমাণ আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্রান্ড ম’সজিদ। এর নামকরণ করা হয়েছে আরব আমিরাত এর প্রয়াত রাষ্ট্র প্রধান শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাইয়ানের নামানুসারে। এ ম’সজিদ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম সুন্দর ম’সজিদ। ৩৮টি প্রখ্যাত ঠিকাদারি কোম্পানির ৩০০০ হাজার দক্ষ কর্মী বাহিনী এ ম’সজিদ নির্মাণ করেন। সে সময়ে ইতালি, জার্মানি, ম’রক্কো, পা’কিস্তান, ভা’রত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ই’রান, চীন, যু’ক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, গ্রিস ও সংযু’ক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশের কাঁচামালে নির্মাণ করা হয় এ ম’সজিদ। শেখ জায়েদ ম’সজিদের নকশায় পা’কিস্তান, ভা’রত ও ম’রক্কোর প্রভাব স্পষ্ট রয়েছে। সরকারি কোষাগার থেকে নির্মিত এ ম’সজিদ নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫৪৫ মিলিয়ন মা’র্কিন ডলার। এখানে নামাজের জায়নামাজ হিসেবে আছে ই’রানের কার্পেট কোম্পানি তৈরি বিশ্বের বৃহত্তম গালিচা। এই গালিচা ৬০৫৭০ বর্গ ফুট এবং এই কার্পেট এর ওজন ৩৫ টন। স্থাপত্যশিল্পের জন্যও এটি একটি পাঠশালা। নানা দেশের স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থীরা এ ম’সজিদে বিদ্যা অর্জনে আসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: