সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কুমিল্লার পূজা মন্ডপে মাজারের ম’সজিদ থেকে কোরআন নিয়ে রেখেছিলেন ইকবাল!

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান স’ন্দেহভাজন ইকবাল হোসেন মণ্ডপের পাশের এক মাজারের ম’সজিদ থেকে কোরআনটি নিয়েছিলেন।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মণ্ডপে সহিং’সতার আগের রাতে প্রধান অ’ভিযু’ক্ত ইকবাল গভীর রাতে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের ম’সজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নেন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন ইকবাল। এই মাজার থেকে মণ্ডপে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। আরেকটি ফুটেজে ইকবালকে মণ্ডপে কোরআন রেখে ফিরে আসতে দেখা যায়।

প্রধান অ’ভিযু’ক্ত ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রে’প্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রে’প্তার হলেই এ ঘটনায় জ’ড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে বুধবার রাতে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লার অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘সব ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, ত’দন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রধান অ’ভিযু’ক্ত ইকবাল গভীর রাতে কাছের একটি মাজারের ম’সজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি তখন রাত ২টা ১০ মিনিট।

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এর ম’সজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

আরেকটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, মণ্ডপে হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ইকবাল ফিরে আসছেন। কোরআন রাখার সময় তিনি হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি তখন রাত সোয়া ৩টার মতো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দারোগাবাড়ী মাজারের ম’সজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে যাওয়া ইকবালসহ তিনজন ঘটনায় সরাসরি জ’ড়িত।

তাদের মধ্যে হু’মায়ুন কবীরসহ (২৫) দুজনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। ইকবালকে গ্রে’প্তারের পর তাদের পেছনে আরও কেউ আছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে ম’সজিদের পেশ ই’মাম ইয়াছিন নূরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

ত’দন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মক’র্তা জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখা চক্রের আরেক সদস্য ৩০ বছরের ইকরাম হোসেন। তিনিই ১৩ অক্টোবর ভোরে ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন। তারপর ওসি আনওয়ারুল আজিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কোরআন শরিফটি উ’দ্ধারের পাশাপাশি ইকরামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আ’ট’ক করে থা’নায় নিয়ে যান।

পু’লিশের ওই কর্মক’র্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইকবালের পাশাপাশি ইকরামও রাতে নে’শা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ওই রাতে ৩ পিস ইয়াবা সেবন করেন। পরে মণ্ডপের পাশে অবস্থান নেন। মণ্ডপে কোরআন রাখেন ইকবাল। আর ইকরামের দায়িত্ব ছিল ভোরে বিষয়টি পু’লিশকে জানানোর। সে অনুযায়ী তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন।

ওসি আনওয়ারুল আজিম মণ্ডপ থেকে কোরআন উ’দ্ধারের সময় সেটি ফেসবুকে লাইভ করেন ফয়েজ নামের এক যুবক। সেই লাইভের পরেই উত্তেজিত মানুষ জড়ো হন ঘটনাস্থলে, শুরু হয় সহিং’সতা। এই ফয়েজকেও গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ।

প্রধান অ’ভিযু’ক্ত ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্ম’দ আলমের ছে’লে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

ইকবালের মা আ’মেনা বেগম জানান, তার তিন ছে’লে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল সবার বড়।

তিনি জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই নে’শা করা শুরু করেন। ১০ বছর আগে তিনি জে’লার বরুড়া উপজে’লায় বিয়ে করেন। ওই ঘরে তার এক ছে’লে রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ইকবালের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর ইকবাল চৌদ্দগ্রাম উপজে’লার মিয়া বাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে আরেকটি বিয়ে করেন। এই সংসারে তার এক ছে’লে ও এক মেয়ে রয়েছে।

আ’মেনা বেগম বলেন, ‘ইকবাল নে’শা করে পরিবারের সদস্যদের ওপর অ’ত্যাচার করত। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটেও নে’শাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াত।’

ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতে ভালোবাসতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেত। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।’

সূত্র: নিউজবাংলা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    37
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: