সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তে বেওয়ারিশ লাশের ভিড়

তুরস্ক সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সিদিরো গ্রামে বেশ কয়েক বছর ধরেই দাফন করা হয় নাম না জানা অ’ভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃ’তদেহ। স্থানীয়দের মতে, অন্তত দুইশ লা’শ শায়িত আছে সেখানকার কবরগু’লিতে।

সিদিরো গ্রাম তুরস্ক থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে। যেসব অ’ভিবাসনপ্রত্যাশীরা অ’তিরিক্ত শীতে, এভ্রোস নদীতে ডুবে বা দুর্ঘ’টনায় প্রা’ণ হারিয়েছেন, তাদের দাফন করা হয় সেখানে। কিন্তু মোট কতজনের লা’শ এখানে দাফন করা হয়েছে, তা জানেন না সেখানকার মেয়র বা স্থানীয় ই’মাম।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে লা’শ পচে যাওয়ায় তারা নারী না পুরুষ তা-ও জানা যায়নি। স্থানীয় ই’মাম ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ”আমি এখানে আসার অনেক আগে থেকেই এই দাফনের প্রথা চলছে।” তিনি সিদিরোতে এসেছেন তিন বছর হলো। তার আগে স্থানীয় মুফতির নেতৃত্বে সম্পন্ন হতো দাফনের কাজ। কবে থেকে এই প্রথা চালু হয়েছে তা জানেন না কেউ।

সিদিরোর কবরস্থানটি একটি পাহাড়ের ওপরের ম’সজিদের পাশে। সেখানে যাবার পথ দুর্গম ও মূল রাস্তা থেকে বোঝার উপায় নেই পাহাড়ের ওপরে কী’ আছে। স্থানীয় মেয়র পানাজিওটিস কালাকিকোসকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অ’বাক হন। বলেন, ”সেখানে কেন যেতে চান আপনারা? এটা তো শুধু দাফনের জায়গা! এত প্রশ্ন না করে যে সমস্ত মানুষ বেঁচে আছেন, তাদের নিয়ে কাজ করুন!”

ইস’লাম ধ’র্মের রীতি মেনেই দাফন

ই’মাম জানান যে, প্রতিটি কবর একটি সাদা পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। তিনি বলেন, ”আমি দাফনের রীতিগু’লি দেখি। এখানে কারো লা’শ এসে পৌঁছালে ইস’লাম ধ’র্মের নিয়ম মেনেই আম’রা দাফনের কাজ করি।”

মেয়রের মতে, যেসব অ’ভিবাসনপ্রত্যাশীদের খ্রিষ্টান ধ’র্মাবলম্বী বলে চিহ্নিত করা যায়, তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে আরেকটি কবরস্থান। সেটি কোথায়, তা ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেননি মেয়র কালাকিকোস। কিন্তু লা’শের ধ’র্ম কী’ভাবে যাচাই হয়, তা নিয়ে মুখ খোলেননি মেয়র বা ই’মাম দুজনেই।

আরো মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে সদ্য খোঁড়া হয়েছে তিনটি কবর, দেখালেন ই’মাম। তিনি বলেন, ”আম’রা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকি কারণ অনেক ক্ষেত্রে এখানে এসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে লা’শ পচতে শুরু করে। তখন তাড়াতাড়ি দাফন করতে হয়। গ্রামের নারীরা লা’শকে পরিষ্কার করে দেন। তারপর তাদের আম’রা দাফন করি।”

পাশের শহর কোমোতিনি থেকে এক ব্যক্তি এসে এই কবরস্থানের দেখভাল করেন। ই’মাম বলেন, ”সেই ব্যক্তি মাসে একবার আসেন। সব কবর ঠিকঠাক আছে কি না দেখেন, চারদিক পরিষ্কার করেন।”

কিন্তু মৃ’তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খুব কম মানুষই আসেন এখানে। ই’মাম বলেন, ”এখানে দুটি শি’শুর লা’শও আছে। রাস্তায় দুর্ঘ’টনায় মা’রা যায় তারা। তাদের কেউ দেখতে আসেনি।”

শীতে, জলে ডুবে বা দুর্ঘ’টনায় মৃ’ত্যু

এখানে শায়িত সকল মৃ’তদেহই এভ্রোস নদীর আশপাশ থেকে উ’দ্ধার করা হয়েছে। কেউ কেউ তুরস্ক থেকে সাঁতরে পেরোতে গিয়ে নদীতে ডুবে গেছেন। অন্যরা জঙ্গলে রাত কা’টানোর সময় শীতের কবলে প্রা’ণ হারিয়েছেন। সব ক্ষেত্রেই, মৃ’তদেহগু’লিকে আগে আলেক্সান্দ্রোপোলিসের হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ময়না ত’দন্ত করেন পাভলোস পাভলিদিস। তিনি বোঝান, ”এই সব বেওয়ারিশ লা’শ, যাদের কোনো পরিচয় থাকেনা, তাদের সিদিরোতে নিয়ে যাওয়া হয়।”

কোনো কোনো কবর বাকিদের চেয়ে আলাদা। যেমন ফেব্রুয়ারি মাসে দাফন হওয়া এক আ’ফগা’ন নারীর কবর। তার গায়ে কিছু লেখা আছে। একটু এগোলেই আরেক সিরিয়ান নারীর কবর। ওপরে লেখা থেকে জানা যায় সে ২০১৪ সালে মা’রা গেছে। ই’মাম বলেন, ”লা’শের পরিচয় পাওয়া যায়, পরিবারের লোকজন ঠিক করে এখানেই দাফন করবে তারা।”

হাসপাতা’লের তালিকা অনুযায়ী, এই বছর এভ্রোস অঞ্চলে মা’রা গেছেন ৩৮জন অ’ভিবাসনপ্রত্যাশী। পাভলিদিস জানান, গত বিশ বছরে অন্তত পাঁচশ লা’শের ময়না ত’দন্ত করেছেন তিনি।

প্রতিবেদন: শার্লত বোয়াতিও

অনুবাদ: শবনম সুরিতা

সৌজন্যঃ ইনফোমাইগ্রেন্ট

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    33
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: