সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

৭৫ বিয়ে, ২০০ পাচার, বাংলাদেশি যুবক ভারতে আটক

একটি বা দুইটি নয়, ৭৫টি বিয়ে। দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে গরিব পরিবারের মে’য়েদের বিয়ে করতেন মুনির। এরপর দালালের হাত ধরে নিজের বিয়ে করা স্ত্রী’দেরই অ’বৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো ভা’রতে। আর অ’বৈধভাবে সীমান্ত পার করাতে ব্যবহার করা হতো অরক্ষিত সীমান্ত সংলগ্ন ড্রেইনগু’লিকে।

বাংলাদেশ থেকে ভা’রতে প্রবেশের পরে তাদের কলকাতায় একটি গো’পন ডেরায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানেই চলত একপ্রস্থ প্রশিক্ষণ, সেখানে ওই পাচারকারী নারীদের চৌকশ করার পর মুম্বাইতে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সবশেষে চাহিদা অনুযায়ী ভা’রতের বিভিন্ন শহরে তাদের সরবরাহ করা হতো। কেউ কেউ আবার হাত ঘুরে চলে যেতেন বিভিন্ন নিষিদ্ধপল্লীতে। আর এভাবেই চলে আসছিল দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।
সম্প্রতি সেক্স র‍্যাকেট এর চক্রের সন্ধান পেয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে ভা’রতের মধ্যপ্রদেশ পু’লিশের হাতে। যদিও এই চক্রের সন্ধান পেতে গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার অ’ভিযান চালাতে হয়েছে পু’লিশকে।

ভা’রতীয় পু’লিশ সূত্রে খবর, গত ১১ মাসে ভা’রতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জন বাংলাদেশি নারীসহ ২১ জনকে উ’দ্ধার করা হয়। আ’ট’ক করা হয় সাগর, আফরীন, আম’রিন নামে ওই পাচার চক্রের সঙ্গে যু’ক্ত থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে। সেই সময় বিষয়টি সামনে আসে যদিও ওই চক্রের মূল পান্ডা বাংলাদেশি নাগরিক মুনির ওরফে মনিরুলর নাগাল কিছুতেই পাচ্ছিল না পু’লিশ। আর মুনিরের খোঁজে মধ্যপ্রদেশ পু’লিশের তরফে ১০ হাজার রুপি আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার গো’পন সূত্রে খবর পেয়ে গুজরাটের সুরাট থেকে যশোরের বাসিন্দা মুনিরকে গ্রে’প্তার করে ভা’রতের মধ্যপ্রদেশের ইন্ডোর পু’লিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা। পরে তাকে ইন্দোরে নিয়ে আসা হয়।

পু’লিশি জেরায় বাংলাদেশি তরুণী এবং নারীদের ভা’রতে পাচার করার কথা স্বীকার করেছে মুনির। পু’লিশের কাছে মুনির আরও জানায়- গত পাঁচ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে সে। তার হাত ধরে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক নারী কলগার্লে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অ’বৈধ পথে ভা’রতে পাচারের জন্য সীমান্তে টহলরত বাহিনীর সদস্যের রুপি দিতে বলেও জানায় মুনির।

মুনির এও জানায় এখনো পর্যন্ত সে ৭৫ টা বিয়ে করেছে এবং তাদের অধিকাংশ গরীব এবং দরিদ্র পরিবারের নারী। আর দারিদ্রতার সেই সুযোগ নিয়েই কাজের লো’ভ দেখিয়ে নিজের বিয়ে করা স্ত্রী’দেরই ভা’রতে এনে বিক্রি করে দেয়া হতো এবং এই পেশায় ঠেলে দেওয়া হতো।
পু’লিশের দাবি মুনির আর জানিয়েছে- দালাল মা’রফত অরক্ষিত সীমানার ড্রেইন গু’লিকে ব্যবহার করে সে বাংলাদেশ থেকে নারীদের ভা’রতে আনা হত এবং পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ হ গ্রামীণ এলাকায় সেই সব নারীদের রাখা হতো। এরপর তাদের ভোপাল, ইন্দোরসহ ভা’রতের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো।

গত ১১ মাস ধরে মধ্যপ্রদেশের লাসুদিয়া এবং বিজয়নগর শহরে অ’ভিযান চালিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি নারী সহ ২১ জনকে উ’দ্ধার করা হয়। এরপর সেক্স র‍্যাকে’টের বিষয়টি সামনে আসে। তবে কেবল মুনিরই নয়, এর পিছনে একটি বড় চক্র রয়েছে বলেও অনুমান পু’লিশের। তাই মুনিরকে জিজ্ঞেস করেই আরও বড় চক্রের হদিশ পেতে চাইছে মধ্যপ্রদেশ পু’লিশ।

বিজয়নগরের সিনিয়র পু’লিশ কর্মক’র্তা তেহ’জীব কাজী জানান, কয়েকদিন আগে সুরাট থেকে নিষিদ্ধ পল্লী এলাকার এক দালালকে গ্রে’প্তার করা হয়। সেসময় একটি গেষ্ট হাউসে অ’ভিযান চালিয়ে ২১ জন নারীকেও উ’দ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি। বাংলাদেশি নারীদের ভা’রতে পাচার করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় কাজের জন্য উপযু’ক্ত করে গড়ে তোলা হয়। যদিও সেই সময় মূল অ’ভিযু’ক্ত পালিয়ে যায়। এবং তাকে গ্রে’প্তারের জন্য ১০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: