সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে কারাগারে ৪ দিনমজুর, জামিন আবেদন

প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সরকারি টাকা আত্মসাতচেষ্টার মা’মলার আ’সামি হয়েছেন পাঁচ দিনমজুর। এর মধ্যে গ্রে’প্তার হয়ে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে হাই’কোর্টে।

রোববার (৩ অক্টোবর) হাই’কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্ম’দ শিশির মনির এই আবেদন করেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন তিনি নিজেই।

যাদের জন্য জামিন চাওয়া হয়েছে সেই পাঁচজন হলেন- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজে’লার বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবাঁস গ্রামের বিধবা ফুলমনি রানী, রণজিৎ কুমা’র, প্রভাস চন্দ্র, কমল চন্দ্র রায় ও নিখিল চন্দ্র বর্মন।

শিশির মনির জানান, জামিন আবেদনের বিষয়টি হাই’কোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইস’লাম ও বিচারপতি মোহাম্ম’দ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

গত ১৫ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘করো’না প্রণোদনার নামে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে ৪ দিনমজুর কারাগারে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অ’ভিযোগে দুই সরকারি কর্মক’র্তাসহ ৯ জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা হয় গাজীপুরের শ্রীপুরে।

এর মধ্যে গাজীপুর থা’না পু’লিশ ২ জুলাই চার দিনমজুরকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রে’প্তার করে। আরেক জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা হলেও তিনি গ্রে’প্তার হননি। সরকারি ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা মা’মলায় তাদের গ্রে’প্তার করা হয়।

অ’ভিযু’ক্ত পাঁচ দিনমজুরের পরিবার জানিয়েছে, করো’না প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। টাকা আত্মসাতের সঙ্গে তারা জ’ড়িত নন। দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে ফাঁ’সানো হয় তাদের।

এর আগে ১ জুলাই গাজীপুর জে’লার শ্রীপুর থা’নায় মা’মলা’টি করেন সোনালী ব্যাংকের শ্রীপুর হেডকোয়ার্টার শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক।

মা’মলায় ওই চারজনসহ আ’সামি করা হয়- শ্রীপুর উপজে’লা হিসাবরক্ষণ কর্মক’র্তা বজলুর রশিদ, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর আরিফুর রহমান, মাস্টাররোল কর্মচারী তানভীর ইস’লাম স্বপন ও ঢাকার উত্তরখান জামতলা এলাকার বাসিন্দা শাহেনা আক্তারকে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজে’লার ধরলা নদীর পাড়ে বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবাঁশ গ্রামের বাসিন্দা ওই পাঁচ পরিবার বলছে, তাদের ভাগ্যে এমন বিপদ নেমে এসেছে সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের প্রতারণার কারণে। বসতভিটার জমি ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনো সম্পদ নেই বলে জানান।

বাড়ি ছাড়া দিনমজুর সুবল চন্দ্র মোহন্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, তারা গাজীপুর ও শ্রীপুরে কোনোদিন যাননি। তানভীর ইস’লাম স্বপনই তাদের নিয়ে গেছেন। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে প্রণোদনা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। তারা প্রণোদনার টাকার জন্য অ’পেক্ষা করছিলেন। এরমধ্যেই পু’লিশ এসে চারজনকে গ্রে’প্তার করে নিয়ে যায়। এসময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন।

সোনালী ব্যাংক নাগেশ্বরী শাখার ব্যবস্থাপক শরিফুল আজম বলেন, ব্যাংক হিসাব চালুর কিছুদিন পর এই পাঁচ দিনমজুরের হিসাব নম্বরে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ টাকা চলে আসে।

এর মধ্যে রণজিতের সঞ্চয়ী হিসাবে ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭২০ টাকা, প্রবাসের ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ১২০ টাকা, সুবলের ৪০ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ টাকা, কমলের ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮০ টাকা এবং ফুলমণি রানির হিসাব নম্বরে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৫২০ টাকা আসে।

কয়েকদিন পর অ’পরিচিত ৩-৪ জন লোক এসব হিসাব নম্বর থেকে টাকা তুলতে এলে তার স’ন্দেহ হয় এবং শ্রীপুর হেডকোয়ার্টার শাখায় যোগাযোগ করে টাকা উত্তোলন বন্ধ করা হয়। কিন্তু অ’পরিচিত লোকগুলোকে আ’ট’ক করার আগেই তারা ব্যাংক থেকে সরে যায় বলে জানান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শরিফুল আজম। হিসাব নম্বরধারী দিনমজুরেরা এসবের কোনো কিছুই জানতেন না বলে জানান তিনি।

ফুলবাড়ী থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা রাজীব কুমা’র রায় বলেন, এটি শ্রীপুর থা’নার ঘটনা। শ্রীপুর থা’না পু’লিশই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাদের কাছে ত’দন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হলে তারা বিস্তারিত জানাবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: