সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটের লালদীঘি মার্কেটের মালিকানা নিয়ে নানা ‘জল্পনা’

ওয়েছ খছরুঃ সিলেটের লালদীঘিরপাড়ের হকার্স মা’র্কে’টের মালিকানা নিয়ে নানা প্রশ্ন। বৈধ মালিকরা মালিকানা কিংবা দোকান নবায়নে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার অ’বৈধ’রা মেতে উঠেছেন হরেক রকমের ধান্ধায়। অ’বৈধভাবে দোকান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অ’ভিযোগ আছে। এ নিয়ে বির’ক্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও। প্রায় চার বছর ধরে ওই মা’র্কে’টের দোকান মালিকদের সমস্যার সুরাহা করতে পারছেন না। এই অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ছে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। যেকোনো সময় ওই মা’র্কেটসহ আশপাশের কয়েকটি মা’র্কে’টের স্থলে কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু করা হতে পারে।

সিলেটের লালদীঘিরপাড় ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ওই এলাকাকে গড়ে তুলতে পৌরসভা’র আমল থেকেই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিলো। তখন থেকেই দোকান বিক্রি বা বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু করা হয়। ডোবা জমিতেই দোকান ক্রয় করা শুরু করেন আগ্রহীরা। পররবর্তীতে পৌরসভা’র সময়েই ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মাটি ভরাট করে দোকানপাটের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এরপর ২০০২ সাল থেকে দোকানের পজিশন সমঝিয়ে দেয়া হয়। শুরুতেই অনেকেই নামমাত্র মূল্যে (৫০ থেকে ১ লাখ টাকায়) দোকান কোটা ক্রয় করেছিলেন। অ’পেক্ষা করতে করতে অনেকেই দোকান না পেয়ে মৃ’ত্যু বরণও করেছেন। কেউ কেউ দোকানের আশা ছেড়ে দিয়ে প্রবাসেও চলে যান। এক সময় ফেনসিডিলের আড়ত হিসেবে লালদীঘিরপাড় হকার মা’র্কেট পরিচিত ছিল।

এ ছাড়া নানা অসামাজিক ও অ’প’রাধমূলক কর্মকা’ণ্ডের স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো এই মা’র্কেট। তবে- গত এক যুগে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে লালদীঘিরপাড় হকার মা’র্কে’টের বি ব্লকে পুরোদমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এ ব্লকের ব্যবসাও সচল হচ্ছে। তবে- অব্যবহৃত হওয়ার কারণে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সি ও ডি ব্লক ভেঙে দিয়ে সেখানে ভাসমান ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দিয়ে নগরের ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছেন।

রেজিস্ট্রার্ড সংগঠন লালদীঘিরপাড় হকার মা’র্কেট দোকান মালিক সমিতির নেতারা গত ২৮শে সেপ্টেম্বর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বরাবর দোকান নবায়নের প্রক্রিয়ার বিষয়টি জানিয়ে স্মা’রকলিপি দিয়েছেন। ওই স্মা’রকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- ২০১৫ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া মা’র্কে’টের দোকান কোটার নবায়ন করার জন্য তারা পরের বছরই আবেদন করেন। আর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের মা’র্কে’টের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে ১০০টি দোকান কোটা নবায়নের অনুমতি দেন বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক ফয়জুর রহমান। কিন্তু তাৎক্ষণিক কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকার কারণে নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় বাজার শাখার কর্মক’র্তা সুশেন চন্দ্র দে নবায়ন নিয়ে নানা নাট’কী’য়তা শুরু করলে তার বি’রুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মা’র্কে’টের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এর প্রেক্ষিতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নজরে বিষয়টি আসলে তিনি বাজার শাখার সকল কর্মক’র্তা ও কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করে দেন।

করো’নাকালীন সময়ে বেশ কয়েক মাস বাজার শাখার কার্যক্রমে স্থবিরতা ছিল। মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন- বাজার শাখায় দায়িত্বরত সুশেনকে সরিয়ে নেয়ার আগে তার ইন্ধনেই মা’র্কেট সমিতির বিকল্প অ’বৈধ কমিটি গঠন করা হয়। আর এতে সভাপতি করা হয় ফারুক আহম’দ ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় শামসুল আলম ডিসকোকে। পরবর্তীতে শামসুল আলম রেজিস্ট্রার্ড মা’র্কে’টের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের বি’রুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অ’ভিযোগে আ’দালতে মা’মলা করেন। কিন্তু কোতোয়ালি থা’না পু’লিশের ত’দন্তে সেটি প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে- কয়েক মাস পর বাজার শাখার সাবেক কর্মক’র্তা সুশেনকে ফের বাজার শাখায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পত্তি শাখায় আনা হয়েছে আজিজুর রহমানকে।

দোকান মালিকরা দাবি করেছেন- সুশেন ও আজিজ মিলে মা’র্কে’টের অনেক দোকানের ভু’য়া মালিনাকানা সাজিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। তারা ফিরে এসে অ’বৈধ বা রেজিস্ট্রেশন বিহীন কমিটিকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন করে নবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে মা’র্কে’টের দোকান বা পজিশনের মালিক ও ব্যবসায়ীরা মেয়রের বরাবর গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ও ২৮শে নভেম্বর পৃথক দুটি আবেদনের মাধ্যমে আ’পত্তি জানিয়েছেন।

লালদীঘিরপাড় হকার মা’র্কে’টের বি ব্লকের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘মেয়র মহোদয়কে বিতর্কিত করতে বাজার শাখার কর্মক’র্তা সুশেন ও আজিজ এসব কর্মকা’ণ্ড করছে। আর তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দোকান মালিক সমিতির অ’বৈধ কমিটি গঠন করে ফারুক ও শামসুল দোকান বিকিকিনি ও দখলে মেতে উঠেছে।’ তিনি বলেন- ‘বৈধ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সিন্ডিকেট বানিয়ে দু’র্নীতি করলে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন।’ তবে- শামসুল আলম ডিসকো তার বি’রুদ্ধে আনীত অ’ভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন- ‘তার অ’ভিযোগের চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল হলেও মোশনের কারনে এখনো আ’দালতে মা’মলা বিচারাধীন। এ ছাড়া- এ ব্লক দখল করে কারখানা নির্মাণ ও বি ব্লকে দোকান দখলের অ’ভিযোগ অস্বীকার করেন। শামসুল তার কমিটিকেই বৈধ কমিটি বলে দাবি করেন।’

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন- ‘যারা দোকানের জন্য টাকা জমা দিয়েছেন তারা বৈধ। কেউ কেউ মা’র্কে’টের দোকান ইচ্ছামতো দখল করে ব্যবহার করছে। এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করার পর সব জানা যাচ্ছে। এখন যারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারবেন তাদেরকেই দোকানের পজিশন দেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ হলেও পজিশন তারা পাবেন। কেউ সিন্ডিকেট করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তাদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।’

এদিকে- বাজার শাখার কর্মচারী সুশেনের বি’রুদ্ধে বর্তমানে ১২-১৫ লাখ টাকায় ভু’য়া মালিক সাজিয়ে দোকান বিকিকিনির অ’ভিযোগ উঠেছে। বাজার শাখার ওই কর্মক’র্তা লালাবাজারের খালোপাড়ের হরমুজ আলীর ছে’লে ঘট’ক নুরুল ইস’লাম ও নরসিংদীর মনোহরদীর স্বপন দেবনাথকে মালিক সাজিয়ে ১০৭. ১১০, ১১১, ১৮৩, ২১২, ২০১৩, ৩০৪, ৩০৫, ৫২৭, ৫৮৭, ৬৬২, ৭০৪, ৭০৫ নম্বর দোকান বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মা’র্কেট মালিকদের অ’ভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে- বাজার শাখার কর্মক’র্তা সুশেন চন্দ্র দেব- দোকান বিক্রির অ’ভিযোগ অস্বীকার করে। বিক্রেতাদের তিনি চিনেন না বলে দাবি করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৯টি দোকানের বিক্রেতা ঘট’ক নুরুল ইস’লাম জানিয়েছেন- ‘পূর্বের পরিচিত সিটি করপোরেশনের কর্মক’র্তা সুশেন চন্দ্র দেব তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দস্তখত দিতে বলে। এরপর তিনি দস্তখত দিলে তার হাতে দেড়-দুই হাজার টাকা তুলে দেন। তিনি দোকান বিক্রির কোনো খবরই জানেন না বলে জানান।’ সৌজন্যঃমানবজমিন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: