সর্বশেষ আপডেট : ১১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

আমরা নিষেধাজ্ঞা পালন করি, ভারতীয়রা মাছ ধরে নিয়ে যায়

মৌসুমটি ইলিশের হলেও অবরোধের কারণে জে’লেরা ফিরছেন প্রায় শূন্য হাতে। নদীতে ইলিশ নেই! যা পাওয়া যায় তাও আবার ছোট। মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের (সুদ) টাকায় ট্রলার ও জাল নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে গেলেও ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা। ট্রলারে লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে গিয়ে যা মাছ ধরেছেন তাতে না উঠবে বাজার খরচ না মিটবে মহাজনদের দাদন। চিন্তা ও হতাশার ছাপ নিয়ে জে’লেরা ফিরছেন পিরোজপুর সদর উপজে’লার পাড়েরহাট মৎস্যবন্দরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিরোজপুর সদর ও ইন্দুরকানী উপজে’লার চন্ডিপুর, কলারণ, খোলপটুয়া, টগড়া ও বালিপাড়া এলাকার জে’লেপল্লীর জে’লেরা মাছ ধরতে সাগরে যান ভালো আয়ের আশায়। ইলিশের ভরা মৌসুমেও (আষাঢ়-আশ্বিন) সাগরে জে’লেদের জালে ইলিশ ধ’রা না পড়ায় ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে পাড়েরহাট মৎস্যবন্দর। একদিকে মহাজনের দাদন অন্যদিকে পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশ না পাওয়ায় দেনার দায়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে ক’ষ্টে দিন কা’টাচ্ছেন ইন্দুরকানীর বিভিন্ন এলাকার জে’লেপল্লীর বাসিন্দারা।

আড়ৎশ্রমিক মনির হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে ব’ন্যা গেছে যে কারণে ১-২ দিন গেছে সাগরে। এখন আবার অবরোধ দিছে ২২ দিনের। আগে ছিল ৬৫ দিনের। দেনায় দেনায় জর্জ’রিত হয়ে গেছি আম’রা। ছে’লে-মে’য়ে নিয়ে এখন না খেয়ে অনাহারে থাকার অবস্থা হইছে। কিছু মাছ জে’লেরা পাইছে। ৩০ হাজার থেকে লাখ টাকায় বিক্রি করতেছে। দাম না পাওয়ায় বাজারে দেনা হয়ে গেছে।

ট্রলার মালিক মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, আম’রা ঋণগ্রস্থ তবুও সাগরে নৌকা ভাসাই। মাছ ঠিক মত পাই না। ঋণ কী’ভাবে শোধ করবো? মা’থায় কাজ করছে না এখন। অবরোধ দিচ্ছে এর আগে ব’ন্যার কারণে আম’রা মাছ ধরতে পারি নাই।

মাছ ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইস’লাম বলেন, বাজারে মাছের দাম অনেক বেশি কিন্তু টাকা যা বিনিয়োগ করছি তা বের হচ্ছে না। ক্রেতা আছে। মাছের দাম অনেক বেশি এবং মাছের সাইজ অনেক ছোট।

জে’লে সিরাজুল ইস’লাম বলেন, আম’রা অবরোধ পালন করি আর ভা’রতীয় জে’লেরা সেই সুযোগে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এটা বন্ধ করা দরকার। বাজার খরচও ওঠে না। এবার যাওয়ার আগে আড়াই লাখ টাকার বাজার করছি। এসে মাছ বিক্রি করছি দেড় লাখ টাকার। আমাদের এই ঋণ কখনো শোধ হয় না।

জে’লে মোসলেম মৃধা বলেন, ভা’রতীয় জে’লেরা যেভাবে মাছ ধরে নিয়ে যায় তাতে আম’রা কোনভাবেই মাছ পাই না। আর আম’রা তাদের সীমানায় যেতেও পারি না। আম’রা গরিব মানুষ মাছ ধরে খাই। এভাবে অবরোধ চললে আম’রা কি খাবো? অবরোধ দিয়ে বাংলাদেশ সরকার আমাদের আ’ট’কে রাখে কিন্তু ভা’রতীয় জে’লেরা ঠিকই মাছ ধরে নিয়ে যায়। আবার সরকারি সহযোগিতা ঠিকমত পাইনা। চাল ৪০ কেজি বরাদ্দ থাকলে ২০ কেজি পাই। আর এই ২০ কেজি আবার পায় জে’লে না এমন লোকজন।

দক্ষিণ উপকূলীয় মৎস্যজীবী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান শেখ জানান, এ অবরোধকে আম’রা স্বাগত জানাই। কিন্তু অবরোধ দেওয়ার আগে জে’লেরা মাছ পাওয়া শুরু করেছিল। অবরোধ শেষে আবার জে’লেরা সমুদ্রে যাবে। অনেক জে’লে দাদন নিয়ে সাগরে গেছে ব’ন্যার কারণে তারা মাছ পায়নি। একদম খালি ট্রলার নিয়ে ফিরে আসছে বললেই চলে। মাছ শূণ্য। এই অবরোধে ভা’রতীয় জে’লেরা মাছ ধরে বাংলাদেশী সীমানায়। সরকারের কাছে দাবি থাকবে যাতে ভা’রতীয় ট্রলার বাংলাদেশের সীমানায় এসে মাছ ধরতে না পারে।

জে’লা মৎস্য কর্মক’র্তা আব্দুল বারী জানান, মা ইলিশের এই প্রধান প্রজনন মৌসুমে যে কোনো প্রকার মাছ ধ’রা, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ। এ সময়ে জে’লার ১৮ হাজার ৭০০ জে’লে প্রতি ২২ দিনের জন্য ২০ কেজি করে ভিজিএফ সহায়তা পাবে। এ সপ্তাহের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবে। ভা’রতের জে’লেদের মাছ ধ’রার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। তবে অ’ভিযোগ পাচ্ছি যে আমাদের অবরোধ চলাকালে ভা’রতীয় জে’লেরা আমাদের সীমানায় এসে মাছ ধরে। এ বছর বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোষ্টগার্ড এর টহল চলমান থাকবে। কেউ যদি অ’বৈধভাবে মাছ ধরে তাদের আ’ট’ক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 131K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    131K
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: