সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি হাজারো বাংলাদেশির আকুতি

বছরজুড়ে চলা মালয়েশিয়ার অ’ভিবাসন বিভাগের অ’ভিযানে আ’ট’ক এবং অ’ভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাজা ভোগ করছেন প্রায় ১৬৭৮ জন বাংলাদেশি অ’ভিবাসী।

এই ১৬৭৮ জন আছে জে’লখানা ও ডিটেনশন ক্যাম্পে। এদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে অ’বৈধ হয়ে আ’ট’কের সংখ্যাই বেশি। অনেকের জে’লখানায় সাজা শেষ করে দেশটির বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে দেশে ফেরার অ’পেক্ষায় আছেন। জনশ্রুতি আছে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো আচরণের কারণে ব’ন্দিরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বৃহস্পতিবার অ’ভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল জাজাইমি দাউদ এক বিবৃতিতে বলেন, ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশের ১০৫ জন ব’ন্দি মা’রা গেছেন এর মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এই ৩ জন কেন আ’ট’ক হয়েছেন কিংবা কী’ভাবে মা’রা গেছেন তা জানা সম্ভব হয়নি।ব’ন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই।

যতদিন ভেতরে থাকবে ততদিন বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে ভেতরে ব’ন্দিদের সঙ্গে আদতে কী’ হচ্ছে বাইরে এসে কেউ প্রকাশ করতে চান না। অনেকের অনেক সময় সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যথাসময়ে নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন না বিভিন্ন জটিলতার কারণে। যেমন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণাদির অভাব, পাসপোর্ট আছে মেয়াদ নাই, আবার কারও সঙ্গে কোনো ডকুমেন্টসই নাই, নিজ খরচে বিমানের টিকিট করতে না পারা, নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দূতাবাস থেকে যে ডকুমেন্টস পাঠানোর কথা তা সময়মতো পাঠানো হয় না। অনেক সময় দীর্ঘ সময় অ’পেক্ষা করতে হয়। তবে দূতাবাস বলছে দেরি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে যারা পাসপোর্ট ছাড়া আ’ট’ক হন তাদের তথায় ডিটেনশন সেন্টারে পাঠাতে হলে আগে দেশ থেকে তার নিজ এলাকার প্রশাসন থেকে প্রমাণ জোগার করতে অনেক সময় লেগে যায়। আবার দেখা গেছে সব ডকুমেন্টস আছে কিন্তু টিকিট কেনার পয়সা নাই। সরজমিন খোঁজখবর ও ব’ন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় আ’ট’কের পর সাজা হলে ঘাটে ঘাটে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ডকুমেন্টস সংগ্রহ সহ নিজ দেশে ফেরা পর্যন্ত এই ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। কারণ যে লোকটা জে’লে ব’ন্দি আছে মালয়েশিয়ায় তার কোনো স্বজন নেই এবং বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তাদের কোন সংযোগ নেই সে কী’ভাবে দূতাবাস থেকে তার ডকুমেন্টস সংগ্রহ করবে? আবার বিমানের টিকিট ক্রয় করবে?

এসব অসংগতির কারণেই প্রত্যাবর্তন মাসের পর মাস বছর পর্যন্ত গড়ায়। যখন সে খালি হাতে ধ’রা পড়লো সে কোথায় পাবে টিকিট কেনার হাজার হাজার রিংগিত? তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন ব’ন্দিদের যেন সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়। যেমনটি করেছেন গত সপ্তাহে মিয়ানমা’রের জান্তা সরকার। জান্তা সরকার সাম’রিক বিমান পাঠিয়ে তার দেশের জে’লব’ন্দিদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। নাম পপ্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মক’র্তা জানিয়েছেন, অ’বৈধ হয়ে কিংবা অ’ভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আ’ট’ক হলে প্রথমে তাদের ১৪ দিনের রি’মান্ডে রাখা হয়। তারপর ১৪ দিন শেষে আ’দালতে হাজির করে সাজা ঘোষণা করার পর জে’লখানায় সাজা ভোগ করতে হয়। জে’লখানার সাজা শেষ হলেই ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশে ফেরার অ’পেক্ষায়।

দূতাবাসের একজন সিনিয়র কর্মক’র্তার কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি পরে নাম প্রকাশ করার শর্তে রাজি হয়ে তিনি বলেন, যাবতীয় প্রক্রিয়া মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে। যাদের ভ্যালিড পাসপোর্ট আছে তাদের ইমিগ্রেশন সরাসরি দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, এ ক্ষেত্রে হাইকমিশনে কোনো কাজ নেই। এরমধ্যে কেবল যাদের ভ্যালিড ট্রাভেল ডকুমেন্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে ট্রাভেল পারমিট দরকার তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাভেল পারমিট টিপি প্রস্যু করা হয়। মালয়েশিয়ায় মায়ানমা’রের রোহিঙ্গা নাগরিক অনেক সময় বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নেয়ার আবেদন করে। তাদের আবেদন যাচাই করে বাতিল করে দেয়া হয়। করো’না আ’ক্রান্ত হওয়া এবং নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল না থাকায় দেশে ফেরত প্রেরণ অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হয়।
এদিকে. সংশ্লিষ্ট ব’ন্দিদের আত্মীয়স্বজনরা সরকারের কাছে দাবি করেছেন বাংলাদেশি ব’ন্দিদের সরকারি খরচে যেন নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। (সূত্র: মানবজমিন)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: