সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ডাকাতির টাকায় বিপুল সম্পদ সেই এসআইয়ের

ডা’কাতির মা’মলায় গ্রে’প্তার হয়ে কারাগারে থাকা পু’লিশের অ’প’রাধ ত’দন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক আকসাদুদ-জামান ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও পোশাক কারখানার মালিক। চলতেন দামি গাড়িতে। ঠাকুরগাঁও শহরে ও গ্রামে তাঁর কয়েক কোটি টাকার জমি রয়েছে।

ডা’কাতির টাকা দিয়েই আকসাদুদ এসব সম্পদ করেছেন বলে ঢাকা মহানগর পু’লিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ত’দন্তে বেরিয়ে এসেছে। গত বছরের ১৯ অক্টোবর রাজধানীর কাওলায় সৌদিপ্রবাসীর বিদেশি মুদ্রা ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় ডিবির ত’দন্তে সম্প্রতি সিআইডির এসআই আকসাদুদের নাম আসে। ওই ঘটনায় ডিবি পু’লিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিআইডি। পরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানিয়েছে মা’মলার ত’দন্তকারী সংস্থা ডিবি।

৪ সেপ্টেম্বর মো. আকসাদুদ-জামানের স্ত্রী’র সঙ্গে এক ব্যক্তির ১ কোটি ২৮ লাখ ও ১৪ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই দিন রাতে রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আকসাদুদকে গ্রে’প্তার করে ডিবি।

অডিওতে এক নারী বলছেন, ‘১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?’ অ’পর প্রান্তে থাকা পুরুষ কণ্ঠও টাকা কোনো এক স্যারকে দেওয়ার কথা বলছেন। পরে জানা যায়, নারী কণ্ঠটি এসআই আকসাদুদের স্ত্রী’ তাহমিনা আক্তারের। তাহমিনার দাবি, অ’পর প্রান্তের কণ্ঠটি ডিবির উত্তরা বিভাগের অ’তিরিক্ত উপকমিশনার কায়সার রিজভী কোরায়েশির। তাঁর স্বামীকে ডা’কাতি মা’মলা থেকে অব্যাহতি দিতে তিনি ওই টাকা ডিবি কর্মক’র্তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন। অবশ্য কায়সার রিজভী কোরায়েশী ঘুষ নেওয়ার অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডিএমপির অ’তিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেছেন, টাকা লেনদেনের বিষয়টি ত’দন্ত করা হচ্ছে। মা’মলার ত’দন্ত–সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মক’র্তারা বলেন, আকসাদুদ ডা’কাতির পাশাপাশি বিভিন্ন অ’প’রাধমূলক কর্মকা’ণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি ২০১৩ সালে ডিএমপিতে কর্ম’রত থাকাকালে মতিঝিল অঞ্চলের একজন সহকারী পু’লিশ কমিশনারকে মা’থায় অ’স্ত্র ঠেকান। এ ছাড়া কর্তব্যরত থাকাকালে আরেকবার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন তিনি। এর দায়ে দুবার বিভাগীয় শা’স্তি ভোগ করেন আকসাদুদ।

মা’মলার ত’দন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকসাদুদ সিপাহীবাগে পঞ্চ’মতলার যে ফ্ল্যাটে থাকেন, তা দুই বছর আগে ৮০ লাখ টাকায় কেনেন। ছয়-সাত বছর ধরে তিনি নিজের কেনা ব্যক্তিগত গাড়িতে চলতেন। ঢাকায় তাঁর তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজে’লার বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকসাদুদ ১৯৯৫ সালের ২৯ আগস্ট কনস্টেবল হিসেবে পু’লিশে যোগ দেন। ২০০২ সালে এএসআই হন তিনি। ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবরে তিনি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পদোন্নতি পান। এরপর তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হতে থাকেন। আকসাদুদ ২০১৮ সালে সিআইডিতে বদলি হন।

প্রথম আলোর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি আকসাদুদের গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানান, আকসাদুদ এসআই হওয়ার পর বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দুই একর জমি কেনেন। দুই বছর আগে সেখানে আরও ১৬ বিঘা জমি কেনেন। এই জমির বাজারদর দুই কোটি টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ায় আকসাদুদের পৌনে দুই কোটি টাকার জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি বালিয়ায় তিনি আরও ৩৭ শতাংশ জমি কেনেন।

ত’দন্ত সূত্রমতে, আকসাদুদ বর্তমানে সব মিলে ৫০ হাজার টাকা বেতন পান। এই টাকায় পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে কী’ভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পু’লিশ কর্মক’র্তারা। ডিএমপির ডিবি সূত্র জানায়, সম্প্রতি আকসাদুদের একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে সোর্স আমির তাঁকে ১২ লাখ টাকার ডা’কাতি করার প্রস্তাব দেন। এ সময় আকসাদুদকে বলতে শোনা যায়, ২০ লাখের নিচে কোনো কাজ করবেন না। ডিবি কর্মক’র্তারা বলেন, বিমানবন্দর এলাকাকেন্দ্রিক সংঘটিত অধিকাংশ ডা’কাতি আকসাদুদের নেতৃত্বে হয়েছে।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর সকালে বিমানবন্দর সড়কের কাওলায় দুবাইপ্রবাসী রোমান মিয়া ও তাঁর ফুফাতো ভাই মনির হোসেনকে ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মা’রধর করে সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার মা’র্কিন ডলার, দুই হাজার দিরহাম, মুঠোফোন, কাপড়ভর্তি লাগেজসহ মালামাল ডা’কাতি করে তাঁদের পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়। সৌদি আরবে রোমানের কাপড়ের ব্যবসা আছে। জমিজমা বিক্রি করে ওই টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থা’নায় করা মা’মলার ত’দন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযু’ক্তির সহায়তায় কয়েক মাস আগে ছয় ডা’কাতকে গ্রে’প্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে হাসান রাজার (চাকরিচ্যুত সে’নাসদস্য) আ’দালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দিতে আকসাদুদের নাম আসে। ডা’কাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের চালক হারুন অর রশিদ ওরফে সজীব, অটোরিকশাচালক জোনাব আলী এবং কায়ছার মাহমুদ ওরফে জাকির হোসেন সাক্ষী হিসেবে আ’দালতে জবানব’ন্দি দেন।

ত’দন্ত–সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মক’র্তা বলেন, রি’মান্ডে আকসাদুদের ছয় সহযোগী জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিকে বলেন, তিন বছর আগে আকসাদুদের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। তখন থেকে আকসাদুদের নেতৃত্ব তাঁরা ডা’কাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অ’প’রাধমূলক কর্মকা’ণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে আকসাদুদের ছয় সহযোগী জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তাঁরা হলেন চাকরিচ্যুত সে’নাসদস্য হাসান রাজা, মোশাররফ হোসেন, সেলিম মোল্লা, রিপন মোড়ল, আমির হোসেন তালুকদার (পু’লিশ সোর্স) ও রিজু মিয়া সিকদার। এঁদের মধ্যে হাসান রাজার বি’রুদ্ধে তিনটি ডা’কাতির মা’মলা, সেলিম মোল্লার বি’রুদ্ধে চারটি ডা’কাতির মা’মলা রয়েছে।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা ডিবির উপপরিদর্শক মাকসুদুল ইস’লাম বলেন, আকসাদুদ সিআইডির গাড়ি ডা’কাতিতে ব্যবহার করতেন। প্রবাসীর অর্থ ডা’কাতির ঘটনায় আকসাদুদসহ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। চক্রের আরেকজন পলাতক। মা’মলার ত’দন্ত শেষ হয়েছে। শিগগিরই এই মা’মলার অ’ভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 85
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    85
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: