সর্বশেষ আপডেট : ৩৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মৌলভীবাজারে একসাথে চোখের আলো ফিরে পেল ১৯ শিশু

বয়সে সবাই শি’শু, কারো চোখের ছানিতে সমস্যা, কারো বা চোখের নেত্রনালিতে সমস্যা। মুক্ত পৃথিবীতে আলো দেখার জন্য শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখের জটিল সব সমস্যা নিয়েই ওদের বেড়ে উঠা। এসব শি’শুর উদ্বিগ্ন অ’ভিবাবকরাও সিদ্ধান্ত নিলেন চোখের অ’স্ত্রপাচারে মৌলভীবাজারের বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতা’লে ভর্তি করাবেন।

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জে’লা থেকে আসা ১৯ জন শি’শুকে। ভর্তির পর নানা পরিক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন শেষে ভাটি অঞ্চলের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জে’লা থেকে আসা একই বয়সের ১৯ জন শি’শুর চোখে জটিল অ’স্ত্রপাচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

ওই হাসপাতা’লের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আমিনুল ইস’লাম সোহাগের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি শক্তিশালী টিম হাসপাতা’লের অ’ত্যাধুনিক অ’পারেশন থিয়েটার কক্ষে এসব শি’শুদের চোখে জটিল অ’স্ত্রপাচার সম্পন্ন করেন বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সফলভাবে চোখের অ’স্ত্রপাচার সম্পন্ন হওয়া শি’শুদের মধ্যে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালনা, তাদেরকে বিনামূল্যে অ’স্ত্রপাচার করা হয়। যাদের আর্থিক অবস্থা ভাল,তাদেরকে সল্পমূল্যে অ’স্ত্রপাচার করা হয়। তিনি জানান, অ’স্ত্রপাচার সম্পন্ন হওয়া শি’শুদের চোখের অবস্থা ছিলো খুবই জটিল, আমাদের এই হাসপাতা’লে সা’প্তাহে কিংবা ১৫দিন পরপরই চোখের নানা সমস্যায় পড়া এরকম শি’শুদের চোখে অ’স্ত্রপাচার সফলভাবেই সম্পন্ন করা হয়।

১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশি-বিদেশি অন্যান্য দাতাদের সহযোগিতায় মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি একটি পরিপূর্ণ হাসপাতাল হিসেবে রূপ লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চোখের উন্নত সব চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটির সৃুনাম পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়। মৌলভীবাজার ছাড়াও ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে রয়েছে বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি পরিচালিত হাসপাতাল।

১শ শয্যার এই হাসপাতালটিতে এ-স্ক্যান, বি-স্ক্যান, লেজার চিকিৎসা, ওয়ান-স্টপ ছানি ক্লিনিক, ডায়াবেটিক ইউনিট, গ-ুকোমা ইউনিট, অকুলার মাইক্রোবায়োলিকিক পরীক্ষাগার, ইন্ট্রাকুলার লেন্স ও ফ্যাকো সার্ভিস, বিশেষ পেডিয়াট্রিক ইউনিটসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এখানে। রয়েছে অ’ত্যাধুনিক সব চিকিৎসা যন্ত্রপাতি। এছাড়াও রেটিনা ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে এই হাসপাতা’লে।

হাসপাতা’লের কার্যনির্বাহী কমিটির অবৈতনিক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০১৭ সালে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মোসাহিদ আহম’দ চুন্নু। তিনি দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আসে নানা পরিবর্তন। ১১ শয্যার হাসপাতালটি বর্তমানে ১শ শয্যা হাসপাতা’লে রূপ নেয়। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে থেকে ‘প্রতিবন্ধিতা উত্তরণ সম্মাননা-২০১৮’ পদকও পান তিনি।

হাসপাতালটির অবৈতনিক নির্বাচিত সাধারণ সৈয়দ মোসাহিদ আহম’দ চুন্নু জানান, এখানে সব চিকিৎসাই স্বল্প খরচে সম্পন্ন করা হয়। এখানে আসা কোনা রোগী টাকা দিতে না পারলেও তার চোখের অ’পারেশনসহ যাবতীয় চিকিৎসা করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: