সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

পর্যট’কদের অসচেতনতায় হু’মকিতে টাঙ্গুয়া ও নিলাদ্রির পরিবেশ

মোসাইদ রাহাত : হাওরের রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জে করো’নাভাই’রাসের প্রকোপ কমে যাওয়ায় জে’লার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘুরতে এসে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পর্যট’করা।

বাংলার কা’শ্মীর খ্যাত শহিদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রি) এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানি ও রামসার সাইট হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যট’কদের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে নারাজ তারা, এছাড়া হাওরের ময়লা আবর্জনা না ফেলার নির্দেশনা থাকলেও তাও মানছেন না পর্যট’করা।

সরজমিনে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজে’লার নিলাদ্রি লেক ও টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসছেন পর্যট’করা, কেউ সুনামগঞ্জ সদর উপজে’লা হয়ে নৌকা নিয়ে আবার কেউবা আসছেন হাওরের অন্যান্য জে’লার রাস্তা দিয়ে, কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রগু’লিতে ঘুরতে আসলে মাস্ক পড়ার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ পর্যট’করা।

এছাড়া হাওরে প্লাস্টিক ও চিপসের প্যাকে’টের বর্জ্যগুলো সরাসরি হাওরে ফেলছেন তারা, এছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরের থাকা হিজল করচের গাছগু’লিতে উঠে পাতা ছিঁড়া ও ডাল ভাঙায় হাওরের থাকা অন্যান্য প্রা’ণীতে জীববৈচিত্র বিরাট প্রভাব পড়বে বলে করেন স্থানীয়রা বলছেন এরকম চলতে থাকলে হাওরে জীববৈচিত্রধ্বং,স হবে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ৷ এতে তারা প্রশাসনের অধিক নজরদারি বৃদ্ধি ও হাওরে ঘুরতে আসায় আরেকটু কড়াকড়ি করার আহবান জানিয়েছেন তারা।

কুমিল্লা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা ফাইয়াজ ফাহিম বলেন, এখানে প্রথমবার এসেছি ঘুরতে, টাঙ্গুয়ায় হাওরে সত্যিই সুন্দর জায়গা, এই সৌন্দর্যটা আমাদের ধরে রাখতে হবে, তবে সবচেয়ে খা’রাপ বিষয় হাওরে অনেক পর্যট’করা আসেন আমিও একজন পর্যট’ক কিন্তু চিপস খাচ্ছেন সেই প্যাকেটটা পানিতে ফেলছেন, পানি খাচ্ছেন সেই বোতলটা পানিতে ফেলছেন যা পরিবেশের জন্য খা’রাপ। আম’রা চাইবো এগুলো বন্ধ করা হোক এবং এসব যারা করবে তাদের শা’স্তির আওতায় নিয়ে আসা হোক।

স্থানীয় নৌকা চালক আবুল হোসেন বলেন, মানুষরে নৌকায় উঠার আগে আম’রা কইয়া দেই যে ময়লাগুলা একটা জায়গা আছে ফা’লাইবা কিন্তু তারা আম’রা কথা শুনে না যার যেমন ইচ্ছা ফা’লায়, আম’রার ইকানো কিচ্ছু কওয়ার তাকে না। তারা প্যাকেট বোতল আর ভাত তারকারি সবই হাওর ফা’লায় তবে আম’রা দেখলে না করি কিন্তু কে শুনে কার কথা।

শহিদ সিরাজ লেক এলাকার বাসিন্দা অরিন্দ দাশ বলেন, মানুষ ঘুরাত আয় খুব ভালা লাগে সুনামগঞ্জরে মানুষ চিনের কিন্তু আরেকদিকে খা’রাপ লাগে তারা আইয়া যেমনে মন চায় এমনেই ময়লা আবর্জনা ফা’লায়। তারা ট্যাকেরঘাটের পাড়টা আর পানির অবস্থা দেখোইন কিলান ময়লা ফা’লাইয়া রাখা। প্রশাসনের উচিত ইকানো নজরধারী বাড়ানি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, আমি নিজেও কিছুদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছি এখানে রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো খাবার খেয়ে জিনিসগুলো পানিতে ফা’লানো, এতে করে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, আমি মনেকরি এখানে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একজন সহকারি কমিশনারের মাধ্যমে পু’লিশ সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে যাতে করে এসব বন্ধ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, এখানে ময়লা আবর্জনা প্লাস্টিক এসব না ফেলার জন্য মাঝি ও তার সহযোগিতের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরী যাতে করে তাদের মাধ্যমে পর্যট’করা সচেতন হয়, এছাড়া দেশের বৃহত্তম রামসার সাইট হওয়ায় এখানে অনিয়ন্ত্রিত পর্যট’ক আসাটাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তাহিরপুর উপজে’লার নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. রায়হান কবির বলেন, আম’রা প্রতিনিয়ত এখানে অ’ভিযান চালায়াচ্ছি গত বৃহস্পতিবারও আম’রা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি তবে টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিশাল হওয়ায় এবং হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পর্যট’করা আসায় নিয়ন্ত্রণ করা ক’ষ্টসাধ্য তবে আম’রা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আম’রা নিয়মিত এখানে মাইকিং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: