সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনের নুরুল ‘সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার’ মালিক

টেকনাফ স্থল বন্দরে কম্পিউটার অ’পারেটর হিসেবে দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে চাকরি করতেন নুরুল ইস’লাম (৪১)। ২০০১ সালে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান নুরুল। এই চাকরিকে পুঁজি করে বন্দরে কর্ম’রত থাকাকালীন চো’রাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অ’বৈধ পণ্য খালাস, দালালিসহ বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করে অ’বৈধভাবে ৪৬০ কোটি টাকা সম্পদের মালিক হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রেব মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান, রেবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এরআগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্ম’দপুর এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে তাকে আ’ট’ক করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ জাল টাকা, ৩ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমা’র মুদ্রা, নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা ও ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উ’দ্ধার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘চাকরির সুবাদে বন্দরের সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে নুরুল ইস’লামের, একপর্যায়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। দালালি, পণ্য খালাস, পণ্যের আড়ালে অ’বৈধ মালামাল এনে অল্প সময়েই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান এই কম্পিউটার অ’পারেটর।’

রেবের দাবি, অ’বৈধভাবে উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে নুরুল ইস’লাম ঢাকায় ৬টি বাড়ি ও ১৩ টি প্লটের মালিক হয়েছেন। এছাড়া তার সাভা’র, টেকনাফ, সেন্টমা’র্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট-বাগানবাড়ি রয়েছে। অ’বৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা হারে কম্পিউটার অ’পারেটর হিসেবে চাকরি নেন নুরুল। পরে বন্দরে কর্ম’রত অবস্থায় বিভিন্ন অ’বৈধ কাজে জড়িয়ে পড়েন নুরুল ইস’লাম। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার আস্থাভাজন এক ব্যক্তিকে কম্পিউটার অ’পারেটর হিসেবে নিয়োগ দেন।’

আ’ট’ক নুরুল টেকনাফ বন্দরের দালাল সিন্ডিকে’টের অন্যতম মূলহোতা উল্লেখ করে রেব জানায়, তার সিন্ডিকে’টের ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অ’বৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিল। এছাড়া, কাঠ, শুট’কি মাছ, বরই আচার, মাছের আড়ালে ইয়াবাসহ অ’বৈধ পণ্য নিয়ে আসতো। চক্রটি টেকনাফ বন্দর, ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ করত।

অ’বৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে সে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। এরমধ্যে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম।

রেবের এই কর্মক’র্তা বলেন, ‘তার নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯টি একাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে তিনি জাহাজ শিল্প ও ঢাকার কাছাকাছি বিনোদন পার্কেও বিনিয়োগ করছেন।’

তার সঙ্গে আর কারা জ’ড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে রেব জানায়, কম্পিউটার অ’পারেটর থাকাকালীন বন্দরের বেশিরভাগ লোক তাকে চিনতেন এবং সবার সঙ্গেই তার সুস’ম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ করতে সুবিধা হতো। তার সঙ্গে দুই/একজন ব্যক্তি নয় অনেকেই তার কাজে সহযোগিতা করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কারও নাম বলেনি, পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে নাম যাবে যাবে।

কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বন্দর কেন্দ্রিক অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল। সাভা’রে একটি পার্ক ও বন্দরে জাহাজ কেনার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: