সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

তা’লেবানের প্রশংসা করে বিপাকে পড়া সেই ভা’রতীয় নাগরিক এবার যা বললেন

আ’ফগা’নিস্তানে তা’লেবানের পুনরুত্থানের পর থেকে ভা’রতীয় গণমাধ্যমে যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে তাতে সজো’রে আ’ঘাত করেছিলেন কলকাতার যুবক তমাল ভট্টাচার্য।

কাবুলের একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন তমাল। চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভা’রতে ফেরেন এ শিক্ষক।

দেশে ফিরে মিডিয়ার সামনে তা’লেবানরা ভা’রতীয়দের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে, ভালো খেতে দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে সেই কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তা’লেবানের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেছে তার মুখে।

আর এতেই বিপাকে পড়েন তিনি। ভা’রতীয়দের তীব্র সমালোচনায় পড়েন। তার বি’রুদ্ধে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রিভ্যান্স সেলে লিখিত অ’ভিযোগ করেন রাজ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। এমনকি তমালকে ভা’রতে পাঠানো তা’লেবানদের এজেন্ট আখ্যা দিয়ে তার ওপর কড়া নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়।

এরইমধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাই’রাল হয়ে পড়ে তা’লেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে তোলা তমালের ছবি। সে ছবি শেয়ার করে অনেকেই প্রশ্ন ছুড়েন, তা’লেবান এতই যদি ভালো হয়, তাহলে তমাল দেশে ফেরার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন কেন?

তমাল ডাহা মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করেন ভা’রতের সেক্যুলার মিশনের সম্পাদক ওসমান মল্লিক।

এক কথায় আ’ফগা’নিস্তানের নিরাপত্তাহীন পরিবেশ ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে উল্টো বিপাকেই পড়লেন কলকাতার তমাল ভট্টাচার্য।

এদিকে তমাল জানিয়েছেন, ভা’রতে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হবেন তা কখনো ভাবেননি।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলার কাছে তা’লেবান স’ম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তমাল। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, আমা’র খুব খা’রাপ লাগল যে, ভা’রতে ফিরে এমন সংবর্ধনা পেলাম।

তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, তা’লেবান কাবুল দখল নেওয়ার পরে ৭ দিন আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছেন।

তমাল বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক হিসেবে কখনোই তা’লেবানদের সম’র্থন দেব না। কোনো মৌলবাদী বা জ’ঙ্গি সংগঠনকে সায় দেব না। আমি ভা’রতে ফিরে সেটাই বলেছি, সেখানে আমাদের সঙ্গে যেটা হয়েছে। আমাদের লোকদের সঙ্গে তা’লেবানরা যে ব্যবহার করেছে তার সত্যনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধ’রার চেষ্টা করেছি।’

বিবিসিকে কলকাতার এই যুবক বলেন, ‘তা’লেবান যখন কাবুলে প্রবেশ করল ১৫ আগস্ট সকালে তখন আমাদের ভ’য়ে বুক শুকিয়ে যায়। আমাদের মধ্যে যে আতঙ্ক ভর করেছিল, আম’রা হয়তো কিডন্যাপ হব নয়ত মা’রা পড়ব। কয়েকঘণ্টার সেই আতঙ্কটা ছিল ভ’য়ঙ্কর, আমি বলে বোঝাতে পারব না। আম’রা সেদিন স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে নিজেদের তালাব’ন্দি করে রেখেছিলাম। সেখানে আমা’র এক ভা’রতীয় সহকর্মী ত্রিপুরার বাসিন্দ রাম সংকর দেবসহ আমাদের দুজনকে তারা নিরাপত্তা রক্ষীসহ গাড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখে। সেখানে আম’রা তা’লেবান যোদ্ধাদের দেখি। তা’লেবানরা আমাদের আশ্বস্ত করল, এখন আম’রা সরকারে এসেছি, আপনাদের নিরাপত্তা দানের দায়িত্ব আমাদের। আপনারা ভ’য় পাবেন না। তখন তাদেরকে বিশ্বা’স করা ছাড়া আমাদের হাতে কোনো অ’পশন ছিল না।’

তমাল বিবিসিকে আরো বলেন, ‘১৯ তারিখ সকালে তা’লেবানরা এসে আমাদের জানালো, বিমানবন্দরে যেতে। যে কোনো সময় আমাদের বিমানে উঠতে হতে পারে। তার আগের রাতে তারা আমাদের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল, কী’ করতে হবে, সঙ্গে কি কি নিতে হবে, অল্প মালপত্র নিতে হবে, মোবাইলে চার্জ রাখতে হবে এসব। আম’রা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে মোট চারজন কাবুল বিমানবন্দরের দিকে যাই। কিন্তু ওখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে আ’ট’কে যাই। আমাদের একজন ফিরে যান। আম’রা তিনজন কোনো মতে বিমানবন্দরের নর্থগেটে প্রবেশ করি। আমি যেটা দেখেছি, তা’লেবানরা লাইনগুলো ঠিক করছিল আর ডিভাইডারের ওপর আ’ফগা’ন সৈনিক পোশাকে কয়েকজন আকাশে ওয়ার্নিং শট ফায়ার করছিল, যাতে ভিড় কমে। সেখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছুতে আমাদের তা’লেবান কমান্ডারদের সহায়তা নিতে হয়েছে। কারণ রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। আম’রা খালিজ ওয়েডিং হলে গিয়ে ২০০ জনের মতো ভা’রতীয় দেখলাম। এরপর সেদিন তা’লেবানরা আমাদের বিমানবন্দরের পেছনে একটি শিল্পএলাকায় নিয়ে বসাল, খুব সুন্দর জায়গা। মাঝপথে তা’লেবানরা আমাদের বলল, আপনারা ভ’য় পাবেন না। আপনাদের পাসপোর্ট চেকিং হবে। রেজিস্ট্রিটা নেওয়া হবে কজন আছেন। আপনারা আমাদের দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে এসেছেন, আম’রা চাই আপনারা কাজটা চালিয়ে যান।’

তমাল বলেন, ‘সেখানে ডাইনিংরুমে আমাদের লাঞ্চ করাল তা’লেবানরা। সেখানে আম’রা ফ্রেস হলাম। এরপর আমাদের বাসে এসকর্ট করে বিমানবন্দরে ছেড়ে দিল তা’লেবানরা। তারপর সেইদিন কিছু না হওয়ায় আম’রা ফিরলাম খালিজ ওয়েডিং হলে। সেখানে ফিরেই জানতে পারলাম আজ আমাদের ইভাকুয়েশন কনফার্ম। দিনটা ২১ তারিখ ছিল। বিমানবন্দরে তা’লেবান কমান্ডাররা আমাদের পাসপোর্ট দেখে ছেড়ে দিল আর ভেতরে ছিল ইউএস ট্রুপস। ভেতরে ঢুকার পর আম’রা ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের লোকগুলো দেখলাম। দেখে খুব শান্তি লাগল। বুঝলাম আম’রা বাড়ি ফিরছি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    22
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: