সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মোটরসাইকেলের টাকা যোগাতে শিশুকে অপহরণ, হত্যা

এলাকার উঠতি তরুণ হৃদয় হোসেন (২০) ও সাদ্দাম হোসেন (১৯)। এলাকায় তারা বখাটে হিসেবে পরিচিত। এই গ্রুপে ১৬ বছর বয়সী এক কি’শোরও রয়েছে। দ্রুত অনেক টাকার মালিক হওয়ার চিন্তা ঢুকে তাদের মা’থায়। এলাকায় প্রভাব খাটানোর জন্য তাদের মোটরসাইকেলও দরকার। কিন্তু ধনী হতে এবং মোটরসাইকেল কেনার টাকা জোগাড়ে তাদের পরিকল্পনাটা ভালো ছিল না। এই কি’শোর-তরুণেরা অ’পহ’রণ করে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে বড় লোক হতে চেয়েছিল। সে অনুযায়ী এক শি’শুকে অ’পহ’রণ করে মুক্তিপণও চায়। কিন্তু ধ’রা পড়ার ভ’য়ে শি’শুটিকে খু’ন করে লা’শ গু’ম করে।

ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থা’নার বড়বাকা এলাকায় ঘটেছে। গত ২৮ আগস্ট সিংগাইরের বড়বাকা এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে অ’পহ’রণের শিকার হয়েছিল সাত বছরের শি’শু আল আমিন।

হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত ওই তিনজনকে গত শুক্রবার পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা গ্রে’প্তার করে। এরপর শি’শু অ’পহ’রণ ও হ’ত্যাকা’ণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়। শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই হেডকোয়ার্টারে ওই তিনজনকে গ্রে’প্তারের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পিবিআই কর্মক’র্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের মানিকগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে শি’শু আল আমিন বাড়ির সামনে রাস্তার উপর বাইসাইকেল চালানোর জন্য বের হয়। দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাকে না পেয়ে শি’শুটির বাবা সিংগাইর থা’নায় জিডি করেন। এর দুইদিন পর সকালে স্থানীয় লোকজন একটি পরিত্যক্ত ভিটায় আল আমিনের ম’রদেহ পায়। এরপর থেকেই ছায়াত’দন্ত শুরু করে অ’পহ’রণ ও হ’ত্যায় জ’ড়িত তিনজনকে গ্রে’প্তার করা হয়।

এই কর্মক’র্তা বলেন, গ্রে’প্তার তিনজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে অ’বৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে দ্রুত বড় লোক হওয়ার জন্য কাউকে অ’পহ’রণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শি’শুটিকে অ’পহ’রণ করা হয়। আ’সামি হৃদয় ওইদিন শি’শুটিকে ব’ন্যার পানি দেখানোর কথা বলে তুলে নেয়। তাকে স্থানীয় সা’পের ভিটায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেয় তাদের গ্রুপের কি’শোর সদস্য। এরপর ওই দুইজন আল আমিনকে শ্বা’সরোধে হ’ত্যা করে। এরপর প্লাস্টিকের একটি বস্তায় ভরে বাঁশঝাড়ের পাশে হাঁটু পানির নিচে সেটি লুকিয়ে রাখে। তবে আল আমিন যে তাদের কাছেই রয়েছে, তা প্রমাণে শি’শুটির পরনের গেঞ্জি ও প্যান্ট নিজেদের কাছে রেখে দেয় তারা।

পিবিআই কর্মক’র্তা জাহাঙ্গীর বলেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল শি’শুটিকে হ’ত্যার পর নতুন সিম থেকে শি’শুর স্বজনদেরকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করবে। এজন্য আ’সামি সাদ্দামকে তা কিনতে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সে ব্যর্থ হয়। মুক্তিপণ চাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আল আমিনের লা’শও পেয়ে যায়। এরপরই তিনজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তিনজনই ভা’রতে পালিয়ে যেতে বেনাপোল সীমান্তে চলে যায়। তবে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় দালালদের মাধ্যমে পালাতে পারেনি। তা ছাড়া প্রযু’ক্তির সহায়তায় পিবিআই তাদের পিছু নিয়েছিল।

পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ বলেন, উঠতি এই দুই তরুণ ও এক কি’শোরের মা’থায় দ্রুত সম্পদের মালিক হওয়ার লো’ভ চাপে। তারা মোটরসাইকেল কেনার স্বপ্ন দেখতে থাকে। সেই টাকা জোগাড় করতে শুরুর দিকে তারা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার সিদ্ধান্ত নেয়। তা না পেয়ে অ’পহ’রণের চিন্তা আসে এদের মা’থায়। শি’শু আল আমিনের ঘটনাতে সফল হলে তারা আরও দুইজনকে অ’পহ’রণেরও ছক কষেছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: