সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ব্রীজ আছে রাস্তা নেই, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ-কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাড়ইগাঁও এলাকায় ব্রীজ আছে রাস্তা নেই। ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। ব্রীজ নির্মাণের দুই বছরেও দু’পাশে মাটি ভরাটসহ সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনদুর্ভোগ লাঘবে পলক নদীর উপরে এ ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ব্রীজের দুপাশে ও রাস্তায় মাটি ভরাট না করায় এলাকাবাসীর কাজেই আসছে না। ব্রীজের উপরে উঠতে হলে সিড়ি দিয়ে উঠতে হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা অংশের সংযোগ সড়ক না থাকায় দুই বছরেও মানুষের ভোগান্তির অবসান হয়নি। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারন মানুষ। কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বাড়ইগাঁও এলাকায় ব্রীজের উভয় পাশে ও রাস্তায় মাটি ভরাট না থাকায় ব্রীজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পতনঊষার ইউনিয়নের বাগজুর নালার উপর কালভার্ট না থাকায় সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিতক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২ বছর পূর্বে এ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী মানুষের সুবিধার জন্য ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বাড়ইগাঁও এলাকায় পলক নদীর উপর প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এ ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচলের এই রাস্তা ব্যবহার করে কৃষি কাজসহ বিভিন্ন কাজে আসা যাওয়া এ রাস্তা। ব্রীজের দুই পাশের রাস্তা মেরামত, পলক নদী ও বাগজুর নালা খনন করা হলে এলাকার ইয়াবরের এলাকা থেকে কয়েক হাজর হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করার সম্ভবনা রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ব্রীজ আছে রাস্তা নেই ফলে তিন-চার কিলোমিটার পথ উল্টো ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। ব্রীজের একপাশে রাস্তা ও বাগজুর নালার উপর সংযোজন না থাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। পতনঊষার ইউপির মিনারাই গ্রামের দুলাল আহমদ চৌধুরী, আব্দুল মোহিত হাসানী বলেন, এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল এ ব্রীজ। কিন্তু ব্রীজ নির্মিত হলেও এর কোন সুফল পাওয়া যায়নি। রাস্তা না থাকায় রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত দুরহ হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাট না করেই চলে যায়।

হাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জুনেদ আহমদ জানান, পলক নদীর উপর ব্রীজ আছে কিন্তু রাস্তা নেই। ব্রীজের উভয় পাশে মাটি না থাকায় আসা যাওয়ার করতে অনেক অসুবিধা হয়। হাজীপুর ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ চৌধুরী বলেন, ব্রীজের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হয়েছে হয়েছে। একাধিকবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানকে ব্রীজে মাটি ভরাটের জন্য অনুরোধ করেছি। মাটি ভরাটের জন্য ব্রীজ দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছেন না।

হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, ব্রীজ ও রাস্তায় মাটি দেওয়া হয়েছে। একসাথে মাটি ভরাট করলে মাটি পড়ে যায়। পরবর্তীতে মাটি ভরাট করে দেওয়া হবে। কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শিমুল আলী বলেন, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এ ব্রীজে ঠিকাদার কাজ শেষে মাটি ভরাটের সময় জায়গার মালিকেরা আপত্তি দেন এ জন্য পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা যায়নি।

পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু বলেন, পলক নদী ও বাগজুর নালা খনন করা হলে এই এলাকার আমুল পরিবর্তন আসবে। হাজার হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক আমন ও বোরো চাষ করতে পারবে। বাগজুর নালায় একটি কালভার্ট স্থাপন করলে সহজেই দুই উপজেলার মানুষ আসা যাওয়া করতে পারবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের জন্য প্রথমিক একটি তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 3.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.2K
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: