সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দেশ ও দেশের বাইরে জিহাদ করতে প্রস্তুত ছিলেন নাবিলা

দেশে এই প্রথম নিষিদ্ধঘোষিত জ’ঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইস’লামের একজন নারী সদস্যকে গ্রে’প্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। তার নাম জোবাইদা সিদ্দিকা নাবিলা। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রে’প্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটিটিসি।

সিটিটিসির বলছে, এর আগে আর কোনও নারী জ’ঙ্গি গ্রে’প্তার হননি। নাবিলা প্রথম প্রশিক্ষিত নারী জ’ঙ্গি। অন্যান্য জ’ঙ্গি সংগঠনের নারী সদস্য গ্রে’প্তার হলেও নাবিলার মতো প্রশিক্ষিত ছিলেন না। আনসার আল ইস’লামের হয়ে মিডিয়া শাখা অর্থাৎ জ’ঙ্গিবাদের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব পালন করতেন নাবিলা। তবে সাম’রিক শাখার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তিনি দেশ ও দেশের বাইরে যেকোনো সময় জিহাদ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

রোববার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অ’তিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নাবিলা ২০২০ সালের প্রথম দিকে নাম-পরিচয় গো’পন করে ছদ্মনামে একটি ফেইক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। একসময় ফেসবুকে আনসার আল ইস’লামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ “তিতুমীর মিডিয়া”-এর খোঁজ পায়। তখন তিনি এই পেজে যু’ক্ত হয়ে আনসার আল ইস’লামের বিভিন্ন উগ্রবাদী ভিডিও ও অডিও আর্টিকেল স’ম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং তাদের মতাদর্শকে লালন করে। এর প্রেক্ষিতে তার “তিতুমীর মিডিয়া”-এর পেজের অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ওই পেজের অ্যাডমিন উগ্রবাদী জিহাদী কনটেন্ট সম্বলিত আনসার আল ইস’লামের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের লিংক তাকে পাঠায়। এরপর ওই নারী আনসার আল ইস’লামের সব অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ও তাদের উগ্রবাদী মতাদর্শকে কঠোরভাবে লালন করে। তাদের মতাদর্শকে সবার সঙ্গে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনলাইন মিডিয়া প্লাটফর্মকে বেছে নেয় নাবিলা। এরই ধারাবাহিকতায় সে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও “Chirpwire” নামক অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে বিভিন্ন ছদ্মনামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলে।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক ত’দন্তে জ’ঙ্গিবাদী প্রচারণার জন্য দুটি ফেইক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, একটি “Chirpwire” ও চারটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায় নাবিলার। সে ফেসবুকে ফেইক অ্যাকাউন্ট দিয়ে ব্যাপকহারে আনসার আল ইস’লামের উগ্রবাদী সহিং’স মতাদর্শ প্রচার, বিভিন্ন উগ্রবাদী প্রচারণাকারী আইডির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং নানা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতো। নাবিলা আনসার আল ইস’লামের মতাদর্শ প্রচারের জন্য ব্যাপকভাবে টেলিগ্রাম মাধ্যম ব্যবহার করতো। টেলিগ্রাম ব্যবহার করে চারটি অ্যাকাউন্ট এবং সেই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৫টির বেশি চ্যানেল ব্যবহার করতো জ’ঙ্গি প্রচারণায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব চ্যানেলে নাবিলা আনসার আল ইস’লামের বিভিন্ন উগ্রবাদী সহিং’স ভিডিও, অডিও, ছবি ও ফাইল শেয়ার করতো। তার নিজের সবগুলো টেলিগ্রাম চ্যানেল মিলে আনুমানিক ২৫ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে, যারা নিয়মিত তার চানেলগুলো অনুসরণ করে। গ্রে’প্তার নাবিলা তার টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে ‘জিহাদ কেন প্রয়োজন’, Kitabul Jihad, ‘একাকী’ শিকারি লন উলফ’, ‘স্নিপার সেলগুলোতে গোয়েন্দাদের অনুপ্রবেশ ও প্রতিরোধের উপায়’, ‘নীরবে হ’ত্যার কৌশল’, ‘পু’লিশ শরীয়তের শত্রু’, Lone_wolf-balakot-media-hq’, ‘আল আনসার ম্যাগাজিন ইস্যু’, ‘জিহাদের সাধারণ দিক নির্দেশনা’, ‘তাগুতের শাসন থেকে মুক্তির ঘোষণা’ ইত্যাদি ছাড়াও আরও অসংখ্য উগ্রবাদী সহিং’স জিহাদী প্রচারণার বই বিভিন্ন সময় আপলোড করতো।’

সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, ‘নাবিলা নিজে আনসার আল ইস’লামের বিভিন্ন অফিসিয়াল ও আন অফিসিয়াল চ্যানেলে যু’ক্ত ছিলো। সেই চ্যানেলে আইডি ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা ও বিভিন্ন হা’মলায় কৌশলগত বিষয়ে ভিডিও এবং ফাইল শেয়ার করতেন। এই নারী আনসার আল ইস’লামের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে “Chirpwire”-এ অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা পেয়ে সেখানেও অ্যাকাউন্ট খুলে উগ্রবাদী প্রচারণা চালাতো। জিহাদের ময়দানে অংশগ্রহণের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নাবিলা। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তার বিয়ের কথাবার্তা চললে সে ছে’লেপক্ষকে জানায়, জিহাদের ময়দানে ডাক আসলে সে সামনের সারিতে থাকবে। এমনকি শহীদি মৃ’ত্যু আসলেও পিছু হটবে না এবং ছে’লে (পাত্র) এরূপ মতাদর্শের না হলে সে বিয়ে করবে না।’

এর আগে আনসার আল ইস’লামের কোনও নারী সদস্য গ্রে’প্তার হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আনসার আল ইস’লামের কোনও নারী সদস্য গ্রে’প্তার হওয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। নিষিদ্ধ সংগঠনটির এই প্রথম কোনও নারী সদস্যকে গ্রে’প্তার করেছে সিটিটিসি। আনসার আল ইস’লামের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলো।’

গ্রে’প্তার এই নারী ছাড়া আনসার আল ইস’লামের আর কোনও নারী সদস্যের সন্ধান পাওয়া গেছে কিনা, জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘এ বিষয়ে তাকে আম’রা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সে আনসার আল ইস’লামের যে গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল সেই গ্রুপের লোকজনের নাম আম’রা জানার চেষ্টা করছি। তবে এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আম’রা বলতে চাচ্ছি না।’

মে’য়ের নিষিদ্ধ সংগঠনে জড়িয়ে পড়া নিয়ে গ্রে’প্তার নাবিলার পরিবারের ভূমিকা কী’ ছিল, এমন প্রশ্নে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পরিবার চেষ্টা করেছিল তাকে জ’ঙ্গিবাদ থেকে দূরে সরিয়ে আনতে। কিন্তু পারেনি। পরিবারের অমতেই সে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বেরিয়ে পড়ে।’

‘যেকোনও জায়গায়, যেকোনও দেশে জিহাদ করার প্রস্তুতি ছিল নাবিলার’- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্যও জানান সিটিটিসি প্রধান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: