সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

তালেবানের উত্থানে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা!

আ’ফগা’নিস্তানে তা’লেবানের উত্থানে বাংলাদেশে ধ’র্মীয় উগ্র মৌলবাদ ও জ’ঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপর হয়ে ওঠার আলোচনা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদের অ’ভিজ্ঞতা থেকে আশ’ঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এই আশ’ঙ্কার পেছনে রয়েছে অ’তীতের অ’ভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট। ২০ বছর আগে তা’লেবানরা যখন আ’ফগা’নিস্তানে ক্ষমতায় ছিলো, তখন এবং তার আগে ও পরের বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে ধ’র্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা ছিল। পাশাপাশি বর্তমানে জ’ঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা দৃশ্যমান না থাকলেও সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা এই আশ’ঙ্কার পেছনে প্রধান কারণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আশির দশকে আ’ফগা’নিস্তানে যখন এই ধ’র্মীয় উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা শুরু হয়, তার পর থেকেই বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে থাকে। ওই সময় আ’ফগা’নিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন সম’র্থিত কমিউনিস্ট সরকারের বি’রুদ্ধে মুজাহিদিন বাহিনী যু’দ্ধ শুরু করে। তখন আ’ফগা’ন সরকারের সম’র্থনে সোভিয়েত ইউনিয়ন সৈন্য পাঠায়। মুজাহিদিন বাহিনীর পক্ষ নিয়ে সোভিয়েত বাহিনীর বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ করতে বাংলাদেশ থেকে অনেক লোক তখন আ’ফগা’নিস্তানে যায়। প্রকৃত হিসাব না পাওয়া গেলেও কয়েক হাজার লোক সেখানে গিয়েছিলো বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। সোভিয়েত বাহিনী ফিরে যাওয়ার পর মুজাহিদিনরা ক্ষমতা নেয়। কিন্তু তারপরই মুজাহিদিনের মধ্যে থেকেই সৃষ্ট সংগঠন তা’লেবানের হাতে ক্ষমতা চলে যায়। বাংলাদেশ থেকে যারা সেখানে যায় তারা তা’লেবানের পক্ষ নিয়েও যু’দ্ধে অংশগ্রহণ করে।

ওই বিশ্লেষকরা জানান, আ’ফগা’ন যু’দ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলো তারা দলে দলে বিভিন্ন সময় দেশে ফিরে এসে ধ’র্মভিত্তিক বিভিন্ন উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়ে তোলেন। কোনো কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে জ’ঙ্গি তৎপরতাও শুরু করে এবং দেশের মধ্যে একের পর এক বিভিন্ন স’ন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে থাকে। আবারও তা’লেবান সেখানে ফিরে আসায় এখানেও জ’ঙ্গি গোষ্ঠী তৎপর হয়ে ওঠার অ’পচেষ্টা চালাতে পারে বলে বিশ্লেষকাদের আশ’ঙ্কা।

সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ’ঙ্গিবাদ উত্থানের আশ’ঙ্কা নেই। ইতোমধ্যেই জ’ঙ্গি সংগঠনগুলোকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া অ’তীতে যখন দেশে জ’ঙ্গি সংগঠনের জন্ম ও তৎপরতা দেখা যায়, তখন ওই জ’ঙ্গিরা ক্ষমতাসীনদের সহযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় বলে সরকার সংশ্লিষ্টরা জানান। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই এবং সরকার ও প্রশাসন এদের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে বলেও তারা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার জ’ঙ্গি দমন, জ’ঙ্গি সংগঠনকে দুর্বল করার কথা বলছে। কিন্তু জ’ঙ্গি নির্মূল হয়নি। এর পাশাপাশি রয়েছে ধ’র্মভিত্তিক বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এ সব সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে পূর্বে আ’ফগা’ন যু’দ্ধে অংশ নেওয়া ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা। সম্প্রতি দেশের মধ্যে ধ’র্মভিত্তিক এ সব সংগঠনের উগ্র সাম্প্রদায়িক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তা’লেবানের মতো এরাও শরিয়া আইন জারি করার কথা বলে, এরাও আধুনিকতা, নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের বি’রুদ্ধে।

এদিকে তা’লেবানরা আবার ফিরে আসার পর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিছু লোক আ’ফগা’নিস্তানে গেছে বলেও অ’ভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ আগস্ট ঢাকার পু’লিশ কমিশনারও এমন মন্তব্য করেছেন। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে এই তথ্য নাকচ করে দেন।

আ’ফগা’নিস্তানের ঘটনার পর বাংলাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক জ’ঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থানের আশ’ঙ্কার কারণ ব্যাখা করে একাত্তরের ঘা’তক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির (যিনি দীর্ঘদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাম্প্রদায়িকতা ও জ’ঙ্গিবাদ বিরোধী আ’ন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন) বাংলানিউজকে বলেন, আ’ফগা’নিস্তানের পরিস্থিতি এখন খুবই ভ’য়াবহ। আম’রা তা’লেবানের প্রথম শাসন দেখেছি। তখন বাংলাদেশ থেকে সাত হাজারের বেশি মানুষ আ’ফগা’নিস্তানে গিয়েছিলো তা’লেবানের পক্ষে যু’দ্ধ করতে, প্রশিক্ষণ নিতে। এদের মধ্যে অনেকে যু’দ্ধে মা’রা যায়। দেশে ফেরে পাঁচ হাজার মানুষ। এরা এসে মাদ্রাসাগুলোতে মগজ ধোলাই করেছে। হেফাজতে ইস’লামের অনেক নেতা আ’ফগা’ন ফেরত জিহাদি। জামায়াত, হেফাজতসহ ধ’র্মের নামে বিভিন্ন উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন আছে। এদের সঙ্গে বিএনপি রয়েছে। ডা. জাফরুল্লাহ তো বলেই ফেলেছেন, তা’লেবানকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে হ’ত্যা আর আ’ফগা’নিস্তানের নজিবউল্লাহকে হ’ত্যা মধ্যে আমি পার্থক্য দেখি না। বঙ্গবন্ধুকে পা’কিস্তানপন্থিরা হ’ত্যা করেছে, নজিবউল্লাকেও পা’কিস্তানপন্থিরা হ’ত্যা করেছে। পা’কিস্তান তা’লেবানকে সহযোগিতা করে আসছে। এদের দর্শন মওদুদীবাদ। আমাদের সরকার যেনো কোনোভাবেই এদের স্বীকৃতি না দেয়। গোটা দক্ষিণ এশিয়া এখন হু’মকির মুখে। পা’কিস্তান এই তা’লেবানদের পেট্রোনাইজ করছে, পা’কিস্তানের অস্তিত্বও হু’মকির মুখে পড়বে। কারণ এরা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন, দানব এরা।

ধ’র্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পরাম’র্শ দিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, তা’লেবান, জামায়াত, হেফাজতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এরা গণতস্ত্র বিরোধী, শরিয়া আইন চায়। হেফাজত নেতা আহম’দ শফি তো বলেছিলেন, মে’য়েরা চার ক্লাসের ওপরে পড়তে পারবে না। ধ’র্মের নামে এখানে ১২৫টির মতো সংগঠন আছে। এই তা’লেবানি রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। হেফাজতের সঙ্গে সরকার, আওয়ামী লীগের দহরম-মহরম ছাড়তে হবে, কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আশরাফ গনি ইস’লামের বি’রুদ্ধে ছিলেন না। নজিবউল্লাহ কমিউনিস্ট হয়েও আ’ফগা’নিস্তানকে ইস’লামিক রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু রক্ষা হয়নি, তা’লেবানরা নজিবউল্লাহকে নৃ’শংসভাবে গাড়ির পেছনে বেঁধে রাস্তায় টেনে এবং বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়েছিলো। আসলে এরা ইস’লাম চায় না, এরা চায় মওদুদীর ইস’লাম। এরা শরিয়া আইন জারি করবে। এখন হয় তো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন কথা বলেছেন। আমাদের দেশেও তো আম’রা দেখেছি বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন বাংলা ভাই, তার শরিয়া আ’দালত। শেখ হাসিনাকে হ’ত্যা করতে চেয়েছিলো আ’ফগা’নিস্তানে ট্রেনিং নেওয়া মুফতি হান্নান, মুফতি ইজাহার এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনই এখান থেকে আ’ফগা’নিস্তানে যাওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের হিসাবে ইতোমধ্যে কয়েক শ’ লোক চলে গেছে। তাবলিগের নামে, নানাভাবে যাচ্ছে। আসলে সরকার তো বলতে চায় না, তারপরও পু’লিশ কমিশনার কিছু লোকের যাওয়ার কথা বলেছেন।

তবে এই আশ’ঙ্কা নাকোচ করে দিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ’ঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদে যারা ম’দদ দিতো তারা কোণঠাসা। মানুষ এখন উন্নয়ন সমৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। বি’কৃত ধ’র্ম চর্চা দিয়ে মানুষকে বি’ভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। মানুষ এখন বুঝছে উন্নয়ন কি জিনিস। মানুষ আলোর পথে হাঁটছে। এখানে জ’ঙ্গিবাদের আর উত্থান ঘটতে পারবে না, এদেশের মানুষ অন্ধকারে হাঁটবে না। তারপরও কিছু কিছু গোষ্ঠী আছে চেষ্টা করবে, কিন্তু সরকার ও জনগণ সজাগ আছে।

যারা আশ’ঙ্কা করছেন তারা অ’তীতের জ’ঙ্গি তৎপরতার ঘটনার অ’ভিজ্ঞতা থেকেই মূলত এই আশ’ঙ্কা করছেন যে আবারও জাঙ্গিরা অ’পতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এ প্রসঙ্গে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অ’তীতে এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ম’দদদাতারা ছিলো, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াত নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছিলো। এখন বি’কৃত ধ’র্ম চর্চা দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে না। মানুষ সঠিকভাবে ধ’র্ম চর্চা করছে। স’ন্ত্রাসী জ’ঙ্গি গোষ্ঠীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। অ’তীতে যেহেতু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। তাই এখন এই স’ন্ত্রাসী জ’ঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থানের সুযোগ নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 97
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    97
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: