সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নিউইয়র্কে উচ্ছেদ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

মা’র্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত ১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক স্টেট কর্তৃপক্ষ আরোপিত কোভিড-১৯ স’ম্পর্কিত আবাসিক উচ্ছেদ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন। আগামী ৩১ আগস্ট এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কথা ছিল। ছোট ছোট জমিদারদের একটি গ্রুপ উচ্ছেদ স্থগিতাদেশের বি’রুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। আ’দালতের এবারের রায়ে তারা বিজয় লাভ করেছেন। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন ভাড়াটিয়ারা। ওই রায়ের ফলে আ’দালতে প্রমাণ না দিয়ে অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের ঘোষণা জমা দিয়ে ভাড়াটেদের উচ্ছেদ এড়ানোর আর কোনো সুযোগ রইলো না। এই রায় কিছু উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িওয়ালাদের পথ সুগম করে দিয়েছে।

তবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভাড়াটিয়া ও তাদের সম’র্থক বিভিন্ন গ্রুপ। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও ভাড়াটিয়া সম’র্থকরা নিউইয়র্কবাসীদের উচ্ছেদ থেকে রক্ষা করার জন্য আরও কিছু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আ’দালতের নয় সদস্যের একটি বেঞ্চ বাড়িওয়ালাদের পক্ষে এই রায় দেন। তবে তিন উদার বিচারপতি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

গত জুন মাসে একটি নিম্ন আ’দালত বাড়িওয়ালাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওই সময় বাড়িওয়ালারা বলেছিলেন যে স্থগিতাদেশ তাদের আইনগত অধিকার ও সংবিধানিক বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
এবারের রায়ের পরেও রাজ্যের কিছু বাড়িওয়ালা এখনো অন্য বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গত ৩ আগস্ট কোভিড-১৯ এর বিস্তার মোকাবিলায় আবাসিক উচ্ছেদ সংক্রান্ত ৬০ দিনের একটি নতুন ফেডারেল স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

নিউইয়র্কের বিতর্ক মূলত গত ডিসেম্বরে পাস হওয়া একটি রাষ্ট্রীয় আইনকে কেন্দ্র করে। ওই আইনে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যদি কোনো ভাড়াটিয়া জানান যে তিনি আর্থিক অনটনে আছেন অথবা এই উচ্ছেদের ফলে মহামা’রিজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁ’কি তৈরি করবে, তাহলে সমস্ত নতুন বা অমীমাংসিত উচ্ছেদ বন্ধ থাকবে। আইনটি একইভাবে ক্ষুদ্র জমিদারদের ফোরক্লোজার থেকেও রক্ষা করেছে।

নিউইয়র্কের পাঁচজন বাড়িওয়ালা ওই আইন প্রয়োগ বন্ধ করার দাবিতে বিভিন্ন কর্মক’র্তার বি’রুদ্ধে মা’মলা করেন। আইনসভা’র সদস্যরা গত মে মাসের মেয়াদ আগস্টের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছিলেন। বাড়িওয়ালারা বলেন, মহামা’রি সংক্রান্ত অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও তাদের ‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে’। তাদের সব ভাড়াটিয়া ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু ভাড়াটিয়া মহামা’রি শুরুর আগে থেকেই ভাড়া দিচ্ছেন না।

মা’মলায় উল্লেখ করা হয়, নিউইয়র্ক উচ্ছেদ আইন সংবিধানের ১৪ তম সংশোধনীর অধীনে তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে। কারণ এটি একজন ভাড়াটিয়ার দুর্ভোগের ঘোষণা তাদের আইনি আশ্রয় গ্রহণকে অস্বীকার করার অনুমতি দেয়।
আইনে বাড়িওয়ালাদেরকে ভাড়াটিয়াদের ঘোষণা ফর্ম সরবরাহ করতেও বলা হয়েছে। তারা বলেন, তারা তাদের এমন একটি বার্তা দিতে বাধ্য করেন যা তারা সম’র্থন করেন না।

ভিন্নমত পোষণ করে উদার বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ার বলেন, বাড়িওয়ালাদের বোঝা অবশ্যই ভাড়াটেদের অসচ্ছলতার সাথে ভা’রসাম্যপূর্ণ হতে হবে। বিশেষ করে যারা ‘এখন প্রত্যাশার চেয়ে আগেই উচ্ছেদের মুখোমুখি হতে বাধ্য হবে’ তাদের বিষয়টি দেখা দরকার।
হাউজিং অ্যাডভোকেটরা বলছেন, বিপদে থাকা ভাড়াটিয়াদের রক্ষায় রেন্টাল রিলিফ বিতরণ দ্রুত করা দরকার এবং রাজ্যের উচ্ছেদ স্থগিতাদেশ আরও বাড়ানো উচিত।

তারা সুপারিশ করেন, নিউইয়র্কে ফেডারেল সরকার প্রদত্ত রন্টাল রিলিফ ফান্ড বিতরণ দ্রুত করা না হলে ভাড়াটিয়ারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জানা গেছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্য কর্তৃপক্ষ জরুরি ভাড়া সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা ২.৭ বিলিয়ন ডলারের ৫ শতাংশেরও কম বিতরণ করেছে। ধীরগতির রোলআউট সত্ত্বেও রাজ্য কর্মক’র্তারা জো’র দেন যে প্রোগ্রামটি আগামী মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা’র আগে পর্যাপ্ত ডলার বিতরণ করবে যার পরিমাণ সেই ত্রাণ তহবিলের কমপক্ষে ৬৫ শতাংশের মতো হবে। বরাদ্দের ৬৫ শতাংশ পরিমাণ বিতরণ করা না হলে ফেডারেল সরকারের তহবিল ফেরত নেওয়ার অনুমতি রয়েছে।

আশ্রয় প্রদানকারী উইন সংস্থার প্রধান ক্রিস্টিন কুইন টাইমস ইউনিয়নের একটি অ’প-এড-এ লিখেছেন, ‘স্টেটের প্রতিশ্রুতি ছাড়া আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অভাবী প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২.৭ বিলিয়ন ডলার কার্যকরভাবে বিতরণ করা যেতে পারে- এটা ভাবাও অযৌক্তিক।’ তিনি আরও বলেন, এ কারণেই রাজ্যের উচ্ছেদ স্থগিতাদেশ সংশোধন ও প্রসারিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন গভর্নর ক্যাথি হোচুল ‘উচ্ছেদ স্থগিতকরণ আইনকে শক্তিশালী করার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া রেন্টাল রিলিফ বিতরণের ধীর গতির কারণে বিধায়করা ইতিমধ্যে স্থগিতাদেশ ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আইন প্রবর্তন করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    24
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: