সর্বশেষ আপডেট : ১১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ইউরোপে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ

একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ইউরোপে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটির সদস্যরা নিজেদের উপসচিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এভাবে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর কথিত অফিস বন্ধ করে দিতেন তারা।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বনশ্রীতে পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পু’লিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।

এর আগে ভু’য়া উপসচিবসহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রে’প্তার করে পিবিআই। গ্রে’প্তাররা হলেন- জহিরুল ইস’লাম ওরফে রিপন ও মো. আবু ইয়ামিন ওরফে আশিকুর রহমান।

এর মধ্যে জহিরুল ইস’লাম ওরফে রিপন ঢাকা জে’লার নবাবগঞ্জ থা’নার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃ’ত ফজলুল হকের ছে’লে। আর মো. আবু ইয়ামিন ওরফে আশিকুর রহমান ময়মনসিংহ জে’লার কাওয়ালা’টি ফকিরবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ ফকিরের ছে’লে।

সংবাদ সম্মেলনে পু’লিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ভু’য়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে তিন থেকে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর কথিত অফিস বন্ধ করে দেন। রাজধানীর গুলশানের ইউনিকর্ন প্লাজায় এই চক্রের অফিসের ঠিকানা থাকলেও বর্তমানে সেখানে তাদের কোনো শাখা বা অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ জনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মক’র্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা চলাফেরা করতেন দামি গাড়িতে। ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে সহ’জেই মানুষকে বোকা বানিয়ে আসছিলেন। তারা সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, প্রতারক চক্রের সঙ্গে জ’ড়িত অন্যান্য আ’সামি মিলে আল-আরাফাত ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর নামে ভু’য়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে তিন থেকে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ২০২১ সালের ৩১ জুলাই রামপুরা থা’নায় একটি মা’মলা করা হয়।

ঘটনাটি পিবিআইয়ের নজরে এলে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমা’র মজুম’দারের নির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করে। পরে ত’দন্তে বেরিয়ে আসে আ’সামিদের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল।

তিন বছর পর ভিকটিম উ’দ্ধার ও মানবপাচার মা’মলা থেকে ব্যাংকারের মুক্তি

ভিকটিম ইমুনা (১১) গত ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বনশ্রীর ২ নম্বর রোডের কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ভিকটিম ইমুনাকে খুঁজে না পেয়ে তার পিতা বাদী হয়ে খিলগাঁও থা’নায় একটি মা’মলা করেন। খিলগাঁও থা’না পু’লিশ প্রায় এক বছর ত’দন্ত শেষে ভিকটিমকে উ’দ্ধার করতে না পেরে মা’মলা’টি ২০২০ সালের ৩০ জুলাই চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আ’দালত বিগত ২৯ নভেম্বর মা’মলা’টি অধিকতর ত’দন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (দক্ষিণ) পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করে। এরপর এলআইসির আধুনিক তথ্যপ্রযু’ক্তির সহায়তায় পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (দক্ষিণ) বিশেষ অ’ভিযানে শেরপুর জে’লা পু’লিশের সহায়তায় ভিকটিম ইমুনাকে ১৬ আগস্ট উ’দ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আ’সামির কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য ভিকটিম ইমুনাকে তার আত্মীয়রা লুকিয়ে রেখেছিলেন।

এ বিষয়ে মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা ইন্সপেক্টর হারুন বলেন, মা’মলা’টি পিবিআই দায়িত্ব পাওয়ার পরে স্থানীয়ভাবে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিভিন্ন সোর্স হিসেবে নিয়োগ করি। দুই দিন আগে আম’রা জানতে পারি- সে ঢাকার এক জায়গায় আছে। আম’রা সেখানে নজরদারি রাখি। পরে সেখান থেকে সে পালিয়ে এক ছে’লের সঙ্গে শেরপুর চলে যায়। আমাদের মুভমেন্ট দেখে মে’য়েটিকে রেখে ছে’লেটি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় থা’না পু’লিশের সহযোগিতায় তাকে উ’দ্ধার করি।

মা’মলার আ’সামি স্বামী-স্ত্রী’ এই উ’দ্ধারের মাধ্যমে মানবপাচারের মতো বিশাল অ’প’রাধ থেকে মুক্তি পায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 170
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    170
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: