সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

অবিশ্বা’স্য গতিতে গোটা আ’ফগা’নিস্তান দখল করছে তা’লেবান, তাদের শক্তির উৎস কী’?

আ’ফগা’নিস্তানে তা’লেবানের অবিশ্বা’স্য সাম’রিক সাফল্যের দিকে আ’ফগা’ন সরকার তো বটেই, পুরো বিশ্বই এখন হা হয়ে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ গত সাত দিনে ডজন-খানেকের বেশি প্রাদেশিক রাজধানী শহর তাদের দখলে চলে গেছে।

এক্ষেত্রে আরও যা বিস্ময়কর তা হলো, এগুলোর মধ্যে সাতটিই হলো আ’ফগা’নিস্তানের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ, যেখানে তা’লেবান অ’তীতে কখনই তেমন কর্তৃত্ব করতে পারেনি।

আ’মেরিকান অ’স্ত্রে সজ্জিত আ’ফগা’ন নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা তিন লাখের মতো। বিমান বাহিনীও রয়েছে তাদের। অন্যদিকে তা’লেবানে যোদ্ধার সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ হাজারের মতো। কোনও ইউনিফর্ম নেই, সিংহভাগ যোদ্ধার পায়ে জুতা পর্যন্ত নেই। কিন্তু তাদের চাপে তাসের ঘরের মত ধসে পড়ছে আ’ফগা’ন বাহিনীর প্রতিরোধ।
তা’লেবানের এই সাম’রিক সাফল্যে হতচকিত হয়ে পড়েছে খোদ আ’মেরিকাও।

অধিকাংশ পশ্চিমা সাম’রিক বিশ্লেষক এখন বলছেন, ন্যাটো বাহিনী তা’লেবানের কোনও ক্ষতি তো করতে পারেইনি, বরঞ্চ গত ২০ বছরের মধ্যে তা’লেবান এখন সবচেয়ে শক্তিধর।

প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স মা’র্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের নির্ভরযোগ্য সূত্র উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে যে, আ’মেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অব’রুদ্ধ হতে পারে কাবুল, আর তিন মাসের মধ্যে আ’ফগা’ন সরকারের পতন হতে পারে।

“আমি বলবো আরও দ্রুত কাবুলের পতন হতে পারে,” বলেছেন যু’ক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স’ম্পর্কের শিক্ষক এবং আ’ফগা’ন রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আসিম ইউসুফজাই।

“উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে তা’লেবান যেভাবে এগুচ্ছে তা সত্যিই বিস্ময়কর,” যোগ করেন তিনি।

কী’ভাবে জিতছে তা’লেবান?

প্রশ্ন উঠছে, ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে গত ২০ বছর ধরে ক্রমাগত আ’মেরিকা এবং ন্যাটো বাহিনীর তাড়া খেয়ে বেড়ানোর পরও তা’লেবান কী’ভাবে এই সাম’রিক শক্তি দেখাতে পারছে?

ড. ইউসুফজাই বলেন, গত ১০ বছর ধরে এই কৌশল নিয়েই ধীরে ধীরে এগিয়েছে তা’লেবান। “তারা জানতো আ’মেরিকা এক সময় আ’ফগা’নিস্তান ছাড়বেই। শুধু সময়ের অ’পেক্ষা করছিল তারা।”

তিনি আরও বলেন, আ’মেরিকানদের কৌশল ছিল আ’ফগা’নিস্তানের প্রধান শহরগুলোকে কব্জায় রাখা। কিন্তু শহরের বাইরে গ্রাম-গঞ্জ তা’লেবানের নিয়ন্ত্রণে থেকে গিয়েছিল। তারপর এক সময় যখন আ’মেরিকা আ’ফগা’ন সে’নাবাহিনীর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে শুরু করলো, তা’লেবান তখন আস্তে আস্তে শহরগুলো নিশানা করতে শুরু করে।

এরপর মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন হঠাৎ ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত আ’মেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান, তখন থেকে আ’ফগা’ন নিরাপত্তা বাহিনীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে তা’লেবান।

গত দুই মাসে ঝড়ের গতিতে দেশের অর্ধেকেরও বেশি জে’লা দখলের পর গত এক সপ্তাহ ধরে পতন হচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী শহর।

ড. ইউসুফজাই মনে করছেন যে রণকৌশলে খুবই বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছে তা’লেবান। জাতিগত পশতুন অধ্যুষিত দক্ষিণ এবং পূর্বের বদলে তারা শক্তি নিয়োগ করেছে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশগুলোতে, যেখানে সরকারি বাহিনী এবং সরকার সম’র্থিত মিলিশিয়াদের শক্তি বেশি।

“তা’লেবান জানে দক্ষিণ এবং পূর্বের এলাকাগুলো থেকে তারা যে কোনও সময় সহ’জে সরকারি সৈন্যদের তাড়াতে পারবে। সুতরাং তাদের টার্গেট এখন এমন এমন জায়গা যেখানে কাবুল সরকারের শক্তি বেশি।”

যেভাবে আ’ফগা’ন সে’নাবাহিনীর প্রতিরোধ দ্রুত ভেঙ্গে পড়ছে, তাতে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীর শক্তি, প্রশিক্ষণ এবং এর ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

গত দু’মাস ধরে হাজার হাজার আ’ফগা’ন সৈনিক লড়াই না করেই তা’লেবানের হাতে অ’স্ত্র, যানবাহন, রসদ তুলে দিয়ে ইউনিফর্ম খুলে চলে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক ভিডিও পোস্টে দেখা গেছে, আত্মসম’র্পণের পর অনেক সৈনিক তা’লেবান যোদ্ধাদের আলি’ঙ্গন করছে। তা’লেবান তাদের পকে’টে কিছু টাকা গুজে দিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলছে।

মাস-খানেক আগে এক হাজারেরও বেশি সরকারি সৈন্য দলত্যাগ করে প্রতিবেশী তাজিকিস্তানে পালিয়ে যায়।

তাজিক, উজবেকও এখন তা’লেবানে

তা’লেবান যখন ক্ষমতায় ছিল তখনও তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী বাদাখশানে তারা ঢুকতে পারেনি। অথচ সেই প্রদেশ এখন তাদের দখলে।

এছাড়া, তাখার, কুন্দুজ এবং জারাঞ্জের মত প্রদেশ, যেখানে পশতুনরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, সেগুলোও যেভাবে তেমন বড় কোনও প্রতিরোধ ছাড়াই তা’লেবান দখল করেছে, তা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

ড. ইউসুফজাই বলছেন, তা’লেবান মূলত জাতিগত পশতুন এবং কট্টর সুন্নী ওয়াহাবী ভাবধারার একটি গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত হলেও গত কয়েকবছর ধরে তারা আ’ফগা’নিস্তানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে কাছে টানার চেষ্টা করছে।

তা’লেবানের সেই চেষ্টা যে ফল দিচ্ছে, বাদাখশানের মত তাজিক অধ্যুষিত প্রদেশ কব্জা করার ঘটনা তারই্ ইঙ্গিত।

আন্তর্জাতিক স’ম্পর্ক বিষয়ক গবেষণাধ’র্মী মা’র্কিন সাময়িকী’ ফরেন পলিসিতে সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট বলছে, হতাশ তাজিক, তুর্কমেন এবং উজবেক গোষ্ঠী নেতাদের অনেকেই তা’লেবানে যোগ দিচ্ছে। যার ফলে, তা’লেবান তাদের চিরাচরিত প্রভাব বলয়ের বাইরেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারছে।

উত্তর-পূর্বের প্রদেশ বাদাখশানে অনেক তাজিক যোদ্ধা এখন তা’লেবান।

যু’ক্তরাষ্ট্রের সরকারের পয়সায় পরিচালিত মিডিয়া ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লিখেছে, জুন মাসে তা’লেবান প্রথম যখন বাদাখশান প্রদেশের একটি চেক পয়েণ্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন সেখানে তা’লেবানের পতাকা ওড়ায় মাহদী আরসালোন নামে একজন তাজিক যোদ্ধা। তা’লেবান তাকে বাদাখশানের পাঁচটি জে’লার দায়িত্ব দিয়েছে।

একইভাবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ফারিয়াব প্রদেশে অনেক তুর্কমেন যোদ্ধা এখন তা’লেবান। উত্তরের যোজযান প্রদেশে উজবেক অনেক যোদ্ধাকেও দলে ঢোকাতে সম’র্থ হয়েছে তা’লেবান।

ইস’লামাবাদে সিনিয়র সাংবাদিক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু সাধারণ যোদ্ধাই নয়, বর্তমানে তা’লেবানের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশই তাজিক, উজবেক, তুর্কমেন এবং হাজারা সম্প্রদায়ের।

এ বছর জানুয়ারিতে তা’লেবানের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পরিষদ, যেটি রাহবারি শুরা বা কোয়েটা শুরা নামে পরিচিত, তাতে কমপক্ষে তিনজনকে নেয়া হয়েছে যারা জাতিগত পশতুন নন। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো প্রদেশে তা’লেবানের নিয়োগ দেওয়া ছায়া গভর্নররা জাতিগত পশতুন নন।

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর এসব যোদ্ধা এবং গোষ্ঠী নেতাদের অনেকেই কাবুল সরকারের ওপর বিভিন্ন কারণে নাখোশ, যেটাকে কাজে লাগিয়েছে তা’লেবান। তারা এসব অসন্তুষ্ট গোষ্ঠী নেতাদের ভরসা দিচ্ছে যে তাদের সাথে যোগ দিলে নিরাপত্তা এবং ম’র্যাদা মিলবে।

একইসাথে তা’লেবান তাদের বলছে, কাবুল সরকারের বি’রুদ্ধে এই যু’দ্ধ শুধু পশতুনদের যু’দ্ধ নয় বরঞ্চ ‘ইস’লামী আমিরাত‘ সৃষ্টির যু’দ্ধ।

তা’লেবান শক্তি টের পায়নি আ’মেরিকা?

যু’ক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় গবেষক জাইলস দোরোনসোরো ‘তা’লেবানের যু’দ্ধ জয়ের কৌশল‘ শিরোনামে এক গবেষণা রিপোর্টে লিখেছেন, তা’লেবানের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতাকে খাটো করে দেখেছে ন্যাটো জোট।

“তা’লেবানকে নিয়ে ভ্রান্ত কিছু ধারণা আন্তর্জাতিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। তারা ভেবেছিল তা’লেবান অনেকগুলো গোষ্ঠীর একটি নড়বড়ে কোয়ালিশন, যারা শুধুই স্থানীয়ভাবে শক্তিধর।”

কিন্তু বাস্তবে, জাইলস দোরোনসোরো বলেন, তা’লেবান খুবই শক্তিধর একটি সংগঠন যাদের জুতসই কৌশল রয়েছে, পরিকল্পনা রয়েছে এবং সমন্বয় রয়েছে। “তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রোপাগান্ডা খুবই কার্যকরী। স্থানীয় কমান্ডারদের যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি বুঝে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

তা’লেবানকে সাধারণ আ’ফগা’নরা শুধুই কি ভয় পায়, নাকি পছন্দও করে?

ড. ইউসুফজাই বলেন, আ’ফগা’নিস্তানে আনুগত্যের সাথে জাতিগত পরিচয়ের স’ম্পর্ক খুবই স্পষ্ট। তা’লেবান পশতুন ছাড়া আ’ফগা’নিস্তানের অন্য জাতিগোষ্ঠীর আস্থা অর্জনের যত চেষ্টাই হালে করুক না কেন, তাদের সম’র্থনের মূল ভিত্তি এখনও মূলত পশতুন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্বের গ্রাম এবং ছোট শহরগুলোতে।

মা’র্কিন এনজিও এশিয়া ফাউন্ডেশনের চালানো ২০০৯ সালের এক জরীপের ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ আ’ফগা’ন – যারা প্রধানত পশতুন – তা’লেবানের প্রতি সহম’র্মী। প্রশাসন এবং সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব এই সম’র্থনের প্রধান কারণ।

দ্রুত বিচার সাধারণ আ’ফগা’নদের মধ্যে তা’লেবানের গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম একটি কারণ। শরিয়াহ মতে তারা অনেক অ’প’রাধের মুহূর্তে বিচার করে দেয়। গত ক’মাসে আ’ফগা’নিস্তানে তা’লেবানের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জনসমক্ষে বেত মা’রা, এমনকি ফাঁ’সিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে।

“তা’লেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চু’রি-চামা’রির মত অ’প’রাধ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ, যাদের সমাজে কোনও প্রভাব প্রতিপত্তি নেই, তারা এগুলো পছন্দ করে,” বলেন ড. ইউসুফজাই।

পাশাপাশি, বিদেশিদের শাসনের ব্যাপারে আ’ফগা’নদের মধ্যে যে সহ’জাত ঘৃ’ণা তাকে কাজে লাগিয়েছে তা’লেবান।

সেই সাথে, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি প্রশাসনের দুর্বলতা, দু’র্নীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে তারা কাজে লাগিয়েছে। পু’লিশ এবং সরকার সম’র্থিত উপজাতীয় মিলিশিয়াদের বাড়াবাড়ি, নি’র্যা’তন এবং বিচার-বহির্ভূত হ’ত্যাকা’ণ্ড নিয়ে অনেক মানুষের ক্ষোভ রয়েছে, এবং তা’লেবান সেখানে গিয়ে নিজেদের রক্ষাকবচ হিসাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

পশতুন বাদে অন্য জাতিগোষ্ঠীর অনেককে দলে টানতে পারার পেছনেও তা’লেবানের এসব কৌশল কাজ করেছে।

তা’লেবানকে টাকা-অ’স্ত্র কে দেয়?

টানা ২০ বছর আ’মেরিকান এবং ন্যাটো বাহিনীর সাথে লড়াই করে টিকে থাকার মত টাকা-পয়সা, অ’স্ত্র, প্রশিক্ষণ, বুদ্ধি কে জুগিয়েছে তা’লেবানকে? এ ব্যাপারে আ’ফগা’ন সরকার খোলাখুলি দায়ী করে পা’কিস্তানকে, যদিও পা’কিস্তান সবসময় তা অস্বীকার করে।

ইস’লামাবাদে সাংবাদিক জাহিদ হোসেন বলেন, তা’লেবান এখন পা’কিস্তান সরকারের কাছ থেকে কতটা সম’র্থন পায় তা নিয়ে বিস্তর স’ন্দেহ আছে।

“পা’কিস্তানে পশতুনদের মধ্যে তা’লেবানের বেশ সম’র্থন রয়েছে, ধ’র্মীয় অনেক গোষ্ঠী তাদের সম’র্থক। টাকা পয়সাও হয়তো তারা দেয়। পা’কিস্তানের ভেতর আ’ফগা’ন শরণার্থী শি’বির এবং পা’কিস্তান-আ’ফগা’ন সীমান্তে অনেক মাদ্রাসা থেকে তা’লেবান যোদ্ধা নিয়োগ করে।

“কিন্তু পা’কিস্তান রাষ্ট্রের ভেতর তা’লেবানকে নিয়ে এখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সরকারের একাংশ মনে করে তা’লেবান এককভাবে কাবুলের ক্ষমতায় বসলে পা’কিস্তানে তৎপর উগ্র স’ন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো উজ্জীবিত হতে পারে।”

তবে, ড ইউসুফজাই বলেন, কাবুলে পা’কিস্তান-বান্ধব একটি সরকার প্রতিষ্ঠা এবং আ’ফগা’নিন্তানে ভা’রতের প্রভাব খর্ব করা পা’কিস্তানের বহুদিনের কৌশলগত একটি নীতি, যা থেকে পা’কিস্তান কখনোই সরেনি।

“পা’কিস্তান মনে করে তা’লেবান তাদের সেই উদ্দেশ্য সাধনে প্রধান সহযোগী। এবং আমি মনে করি তা’লেবান আবার ক্ষমতায় গেলে প্রথম যে দেশটি তাদের স্বীকৃতি দেবে সেটি পা’কিস্তান।”

তিনি বলেন, পা’কিস্তানের সাবেক সে’না গোয়েন্দাদের কয়েকজনের লেখা বই এবং সাক্ষাৎকারে তা’লেবানের সাথে পা’কিস্তান সে’না গোয়েন্দা সংস্থা আই’এসআই-এর স’ম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

তবে, ড. ইউসুফজাই মনে করেন, টাকা-পয়সা বা অ’স্ত্রের জন্য তা’লেবানের অন্যের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ মা’দকের ব্যবসা থেকে তা’লেবান প্রচুর পয়সা পায়।

“আ’মেরিকা এবং ইউরোপে হেরোইনের যে বাজার, তার ৯০ শতাংশ আসে আ’ফগা’নিস্তান থেকে। দেশের দক্ষিণে আফিমের চাষ থেকে শুরু করে হেরোইন তৈরি এবং এর চো’রাচালানের ওপর কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে তা’লেবান।”

জাতিসংঘের যে কমিটি তা’লেবানের ওপর নিয়মিত নজরদারি করে, তাদের দেওয়া এক হিসাব বলছে যে আফিম চাষ, চাঁদা এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর বসিয়ে তা’লেবান বছরে ৩০ কোটি ডলার থেকে ১৬০ কোটি ডলার ডলার পর্যন্ত আয় করে। এক হিসাবে, ২০২০ সালে শুধু আফিম চাষ থেকেই তা’লেবানের আয় ছিল ৪৬ কোটি ডলার।

তবে এই আয়ের সুনির্দিষ্ট হিসেব পাওয়া সম্ভব নয়।

আর তা’লেবান যে অ’স্ত্র দিয়ে এখন লড়াই করছে, তার একটি বড় অংশ আ’ফগা’ন সে’নাবাহিনীর কাছ থেকে নেওয়া অথবা পালানোর সময় তাদের ফেলে যাওয়া অ’স্ত্র-সরঞ্জাম।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে আ’ফগা’ন সে’নাবাহিনীকে দেওয়া আ’মেরিকান হামভি সাঁজোয়া যান এবং ভা’রি মেশিনগান নিয়ে তা’লেবানকে লড়াই করতে দেখা গেছে।

ড. ইউসুফজাই বলেন, “একই ধরনের অ’স্ত্র দিয়ে তা’লেবান এবং আ’ফগা’ন সে’নারা লড়াই করছে। এগুলো আ’মেরিকান এবং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া অ’স্ত্র।”

তা’লেবানের সঙ্গে আল-কায়েদার যোগাযোগ

তবে অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষকের মতো ড. ইউসুফজাইও মনে করেন, তা’লেবান মুখে যতই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন, আল-কায়েদার সাথে তাদের স’ম্পর্ক এখনও অটুট এবং আ’ফগা’ন বাহিনীর সাথে লড়াইতে আল-কায়েদাও তা’লেবানের সাথে যু’দ্ধ করছে।

আ’মেরিকান গোয়েন্দাদের বিশ্বা’স, এখনও আ’ফগা’ন-পা’কিস্তান সীমান্ত এলাকায় আল-কায়েদার কয়েক’’ যোদ্ধা তা’লেবানের আশ্রয়ে রয়েছে।

চীন, রাশিয়া এবং ই’রান সম্প্রতি তা’লেবানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়ে কার্যত তাদের বৈধতা দিয়েছে, কিন্তু একইসাথে তা’লেবানকে তারা স্পষ্ট বলেছ দিয়েছে যে আল-কায়েদা বা অন্য স’ন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের স’ম্পর্ক রাখা চলবে না।

কিন্তু ড. ইউসুফজাই মনে করেন, তা’লেবানের মূল লক্ষ্য এখন ক্ষমতা দখল, প্রতিশ্রুতি রক্ষা নয়। তাছাড়া, তিনি বলেন, তা’লেবান ছাড়া এখন আঞ্চলিক দেশগুলোর সামনে বিকল্প কিছু নেই।

“তা’লেবান যদি পাশের দেশগুলোকে ভরসা দিতে পারে যে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হবে না, তাহলে অন্য কার সাথে তা’লেবান স’ম্পর্ক রাখছে বা রাখছে না, এসব দেশ তা অবজ্ঞা করবে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া তাদের উপায়ও নেই।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    26
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: