সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হিন্দু পরিবার থেকে বিশ্বখ্যত ইসলামী শিক্ষাবিদ

সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে ইস’লাম গ্রহণ করে হাদিস শাস্ত্রের গবেষণায় বিশ্বখ্যাতি লাভ করেন ড. মুহাম্মাদ জিয়াউর রহমান আজমি। ভা’রতীয় বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত হাদিস-গবেষক সৌদি আরবের ম’দিনা ইস’লামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ছিলেন এক বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী।

গত বছর ৩০ জুলাই, ৯ জিলহ’জ) আরাফার দিনে ম’দিনায় মৃ’ত্যু বরণ করেন এ মহান মনীষী। তাঁর মৃ’ত্যুতে বিশ্বের ইস’লামী স্কলাররা গভীর শোক প্রকাশ করেন। হাদিস বিষয়ে তাঁর অবদান অসামান্য। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত তাঁর লিখিত গ্রন্থাবলি ইস’লামী রচনা সম্ভা’রে অনবদ্য কর্ম হিসেবে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।

শৈশবকাল : প্রফেসর ড. জ়িয়াউর রহমান আজ়মি একজন ভা’রতীয় বংশোদ্ভূত বিশ্ববিখ্যাত পন্ডিত। ১৯৪৩ সালে ভা’রতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জে’লার বালরিয়াগঞ্জ গ্রামে এক বিত্তবান হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাঙ্কালাল নাম ছিল তাঁর। তাঁর পিতা ছিলেন আজমগড়ের বিত্তবান ব্যবসায়ী। আজমগড় থেকে কোলকাতা পর্যন্ত পৈত্রিক ব্যবসা ছড়িয়ে ছিল।

প্রবল ধ’র্মীয় অনুশাসনের বেড়ে ওঠায় শৈশব থেকেই ধ’র্ম বিষয়ে খুবই আগ্রহী হন। তাই নিজ উদ্যোগে শুরু করেন ধ’র্ম বিষয়ক পাঠ ও গবেষণা । শায়খ আবুল আলা রচিত ‘দ্বিনে হাকিকত’-এর হিন্দি অনুবাদ পড়ে খুবই প্রভাবিত হন তিন। অ’তঃপর খাজা হাসান নিজামির হিন্দি ভাষায় রচিত কোরআনের অনুবাদ পাঠ করে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইস’লাম গ্রহণ করেন।

ব্রাহ্মণ পরিবার হওয়ায় পরিবার তাঁর মু’সলিম হওয়া মেনে নিতে পারেনি। নানা উপায়ে তাঁকে হিন্দু ধ’র্মে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। তাঁকে ফিরিয়ে নিতে তাঁর পিতার সর্বাত্মক চেষ্টায় চেলায়। কিন্তু সবাই ব্যর্থ হয়। এ সময় তাঁকে নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়।

শিক্ষা জীবন : নিজ বাড়ি ত্যাগ করে বাদায়ুনের একটি মাদরাসায় ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। অ’তঃপর উম’রাবাদের প্রশিদ্ধ দারুস সালাম মাদরাসায় একাধারে পাঁচ বছর অধ্যায়ন করেন। এখান থেকে আলামিয়্যত ও ফাজ়িলত ডিগ্রি অর্জন করেন।

পড়াশোনার সময় তিনি নিজ বাড়িতে যান। এ সময় অনেক হিন্দু তাঁকে দেখতে আসে। ইস’লামের ওপর তাঁর দৃঢ়তা দেখে অনেকে বেশ অ’বাক হয়। বাড়িতে থাকাকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শাইখ জিয়াউর রহমান ঈদের নামাজে ই’মামতি করেন। ঈদের জামাতে তাঁর কথা শুনতে অনেক হিন্দুও ঈদগাহে সমবেত হয়। একজন নওমু’সলিম কী’ভাবে ঈদের নামাজের ই’মাম হলো, তা নিয়েও হিন্দু পড়শীদের বিস্ময়ের সীমা ছিল না। অল্প বয়সে অভূতপূর্ব অগ্রগতি দেখে তাঁর প্রতি নমনীয় হন তাঁর পিতা।

আজমগড়ের শি’বলী কলেজ ও উম’রাবাদের দারুস সালাম মাদরাসায় পাঠ সম্পন্ন করে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান সৌদি আরব। ১৯৬৬ সালে সৌদি আরবের ইস’লামী বিশ্ববিদ্যালয় ম’দিনায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। ম’দিনা ইস’লামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। এছাড়াও একজন নওমু’সলিম হিসেবেও তিনি ছিলেন প্রথম শিক্ষার্থী। স্নাতকেও প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পড়াশোনা ও জ্ঞান-গবেষণায় তখন সবার মধ্যে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

১৯৭০ সালে ম’ক্কার আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়) স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তাঁর মাস্টার্সের থিসিসের বিষয় ছিল : Abu Huraira in the Light of His Narrations তথা ‘আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনী ও তাঁর বর্ণিত হাদিস’। এতে তিনি আবু হুরায়রা (রা.) স’ম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের উত্থাপিত নানা প্রশ্নের উত্তর লিখেন। এ সময় তিনি মু’সলিম ওয়ার্ল্ড লিগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অ’তঃপর মিশরের বিশ্ববিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর পিএইচডি ডিগ্রির বিষয় ছিল : In Defense of Abu Huraira তথা আবু হুরায়রা (রা)-এর সম’র্থনে।

কর্মজীবন : বিশ্বখ্যাত মহান এ মনীষীর কর্মজীবন খুবই বর্ণাঢ্য। ম’ক্কায় অবস্থিত রাবেত়া আলম আল ইস’লামীর (মু’সলিম ওয়ার্ল্ড লিগ) বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অবশেষে ১৯৭৯ সালে (১৩৯৯ হি.) ম’দিনা ইস’লামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনার জীবন শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট থিসিসের নিরীক্ষণ এবং খসড়া তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাজও তিনি সম্পাদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি প্রাচীন পদ্ধতিতেও বিভিন্ন শায়খের সান্নিধ্যে থেকে হাদিস ও শরিআর গভীর জ্ঞানার্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শায়খদের মধ্যে আছেন, সৌদি আরবের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শায়খ আবদুল্লাহ বিন হামিদ (রহ.), সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ম’দিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শায়খ আবদুল আজিজ বিন বাজ (রহ.) দক্ষিণ ভা’রতের শায়খুল হাদিস মা’ওলানা আব্দুল ওয়াজিদ উম’রি রহমানি, মা’ওলানা আবুল বায়ান হাম্মাদ উম’রি প্রমুখ।

তিনি নিয়মিত ম’সজিদে নববিতে সহিহ বোখারি ও স়হিহ় মু’সলিমের পাঠদান করতেন। হিন্দি ও আরবি ভাষায় বহু গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি একাগ্রতার সাথে অধ্যয়ন ও গবেষণা কর্মে যু’ক্ত থাকেন।

গ্রন্থাবলি : হাদিস বিষয়ে তিনি রচনা করেন অনবদ্য গ্রন্থ। হাদিস বিষয়ে রচিত তাঁর প্রশিদ্ধ গ্রন্থ হলো : ‘জামিউল কা’মিল ফিল হাদিসিস সহিহ শামিল।’ ২০ ভলিয়মের এ বিশাল গ্রন্থে তিনি ১৬ হাজার হাদিস সংকলন করেন। এছাড়া বিশ্বব্যাপী সমাদৃত গ্রন্থ ‘Quran Encyclopedia’ বা কোরআন বিশ্বকোষ রচনায়ও তাঁর অসাম্য অবদান আছে। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ আছে।

মৃ’ত্যু : গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ৯ জিলহ’জ) আরাফার দিনে ম’দিনায় মৃ’ত্যু বরণ করেন বিশ্ববিখ্যাত এ মহান মনীষী।ম’সজিদে নববিতে জনাজার সমাপ্ত করে তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

সূত্র : মু’সলিম ওয়ার্ল্ড জার্নাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 169
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    169
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: