সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

টাকার জন্য অধ্যক্ষের লাশ ৬ টুকরা করলো তারই তিন বন্ধু

সাভা’র রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাথে পেশাগত হিং’সা ও প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়ে লেনদেন নিয়ে মনমালিন্যের জেরে অধ্যক্ষ মিন্টুকে হ’ত্যা করে লা’শ ৬ টুকরো করে তারই বন্ধু রবিউল ও সহযোগী বাদশা। এঘটনায় মুল পরিকল্পনাকারী মোতা’লেবসহ তিন জনকেই গ্রে’প্তার করেছে রেব। ঘটনার পর হ’ত্যাকারীরা নিজেই মিন্টুকে খুঁজে বেড়ান। স্থানীয়দের কাছে তারা এমনভাবে ঘুরে বেড়ান অধ্যক্ষকে হারিয়ে তার খুবই ম’র্মাহত। এদিকে মোতা’লেব নিজেই মিন্টুর ভাইকে ফোন করে জানান মিন্টুকে পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিন্টু চন্দ্র বর্মন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ২০১৯ সালের আগে একটি স্কুলে শিক্ষক হিসাবে কর্ম’রত ছিলেন।

সেখান থেকে ২০১৯ সালে দুই বন্ধু মোতা’লেব ও রবিউলকে সাথে নিয়ে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার রুপায়ন স্বপ্ন নিবাস আবাসনে সাভা’র রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তারা লকডাউনের মধ্যেও নিয়মিত কোচিং চালু রেখেছেন। মিন্টু স্কুলে বেশি শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতেন। শিক্ষার্থীরা শুধু মিন্টুর কাছেই কোচিং করতে চাইতেন। এতে করে মিন্টুর ভাল টাকা আয় হতো। রবিউল ও মোতা’লেব বেশি শিক্ষার্থী পেতো না। ফলে তাদের কম টাকা আয় হতো। এ থেকে তাদের হিং’সা হতে থাকে। এরই জেরে গত ৭ জুলাই রবিউল, মোতা’লেব ও বাদশা মিন্টুকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ জুলাই মিন্টুকে প্রতিষ্ঠানটির ১০৬ নম্বর শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে যায় তারা।

পরে মিন্টুর মা’থায় হাতুড়ি দিয়ে আ’ঘাত করে বাদশা। এসময় মিন্টু মাটিতে পড়ে গেলে তাকে জবাই করে হ’ত্যার পর মা’থা, হাত দা দিয়ে কু’পিয়ে ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তারা। এর পর মা’থা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দিয়ে স্কুলটির আঙ্গিনায় মিন্টুর দেহের ৫ অংশ পুতে রাখেন। এর পর ঘটনার ৭ দিন পর মিন্টুর ভাই দীপককে ফোন করে মোতা’লেব জানায় তার ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে ২২ জুলাই আশুলিয়া থা’নায় নি’খোঁজ ডায়েরি করেন মিন্টুর ভাই দীপক। গতকাল রাতে হ’ত্যাকারিদের গ্রে’প্তার করে আজ ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, থা’নায় সাধারন ডায়েরি হওয়ার পর এই স্কুলের সামনে অনেকবার থা’নার উপ-পরিদর্শক মিলন ফকির এসেছিলেন। এসময় স্কুলটির বাকি দুই অংশীদার মোতা’লেব ও রবিউলের সাথে কথা বলেন পু’লিশ কমক’র্তা। মোতা’লেব ও রবিউল অনেক দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা খুবই ম’র্মাহত বলে ওই পু’লিশ অফিসারকে জানায়। পরে পু’লিশ অফিসারের সাথে তারা বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়ান। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান এতোদিন এমন লোকজনের সাথে ছিলাম ভাবতেই গায়ে কা’টা দিচ্ছে।

গ্রে’প্তারকৃত হলেন, (১) মোঃ রবিউল ইস’লাম (৩০), পিতা-জালাল উদ্দিন, গ্রাম+পোষ্ট-চন্ডিপুর, থা’না-সুন্দরগঞ্জ, জে’লা-গাইবান্ধা, (২) মোঃ আবু মোতা’লেব (৩০), পিতা-মোঃ মফিজুর রহমান, গ্রাম-গিতালগঞ্জ, পোষ্ট-ভজনপুর, থা’না-তেতুলিয়া, জে’লা-পঞ্চগড় ও (৩) মোঃ আঃ রহিম বাদশা (২২), পিতা-মোঃ আব্দুল ওহাব, গ্রাম+পোষ্ট-চন্ডিপুর, থা’না-সুন্দরগঞ্জ, জে’লা-গাইবান্ধা’কে যথাক্রমে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও আশুলিয়া (সাভা’র) এবং গাইবান্ধা হতে গ্রে’প্তার করে।

আশুলিয়া থা’নার উপ-পরিদর্শক মিলন ফকির বলেন, আমি বেশ কয়েকদিন ঘটনাস্থলে এসেছিলাম। এসময় মোতা’লেব ও রবিউলের সাথে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা খুবই ম’র্মাহত বলে প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের কথা বার্তা ও চলাফেরায় স’ন্দেহ হলে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়। পরে গতকাল রেব তাদের গ্রে’প্তার করে আজ ম’রদেহের খন্ডিতাংশ উ’দ্ধার করেন। এব্যাপারে নি’হতের চাচাত ভাই কালিশঙ্কর চন্দ্র বলেন, গত ১৯ জুলাই মোতা’লেব ফোন করে আমাদের বলেন, আমাদের ভাই মিন্টু চন্দ্র বর্মনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আম’রা ২২ জুলাই আশুলিয়া থা’নায় নি’খোঁজ ডায়েরি করি। আজ শুনি মোতা’লেবরাই আমা’র ভাইকে হ’ত্যা করেছে। আমি হ’ত্যাকারীদের শা’স্তি দাবি করছি।

স্কুলটির কেয়ারটেকার ও একই স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শুভ বলেন, মিন্টু স্যার স্কুলের অধ্যক্ষ, মোতা’লেব স্যার পরিচালক ও রবিউল স্যার সহকারি শিক্ষক ছিলেন। মিন্টু স্যার হিন্দু হলেও তিনি ইস’লাম শিক্ষা ক্লাস নিতেন। যেদিন থেকে স্যার নি’খোঁজ হয়, সেদিন থেকেই মোতা’লেব ও রবিউল স্যার মিন্টু স্যারকে খুঁঝে বেড়ান। মাঝে মধ্যে রবিউল স্যার এখান থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকেন। নি’খোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মন লালমনিরহাট জে’লার হাতীবান্ধা উপজে’লার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শর্ত বর্মনের ছে’লে। তিনি অনেক মেধাবী ও সহ’জ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।

রেব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথমে ৭ জুলাই মিন্টুকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৩ জুলাই স্কুলটিতে কোচিং পরবর্তী সময়ে ১০৬ নম্বরে মিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায় বাদশা ও মোতা’লেব। এসময় মিন্টুর মা’থায় হাতুড়ি দিয়ে বাদশা আ’ঘাত করে। রবিউল ও বাদশা ধারালো দা দিয়ে ৬ টুকরো করে মা’থা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। বাকি ৫ টুকরো স্কুলের আঙ্গিনায় পুতে রাখে তারা।

তিনি আরও বলেন, মিন্টু বর্মণের সুনাম ও খুব ভাল শিক্ষক হওয়ায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী কোচিং করতে আসতো। ওতে মোতা’লেব ও রবিউলের আয়ে ভাটা পড়তো। এ থেকে হিং’সা শুরু করেন গ্রে’প্তাররা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়েও তাদের মধ্যে মনমালিন্য ছিল। এর জের ধরেই তাকে হ’ত্যা করে তারা। এর পর থেকেই রবিউল পলাতক ছিল। গত মধ্যরাতে রবিউলকে আব্দুল্লাপুর থেকে, তার ভাগিনা বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আর মোতা’লেব কে আশকোনা থেকে গ্রে’প্তার করা হয়। পরে রবিউলের দেওয়া তথ্যমতে স্কুলের আঙ্গিনা থেকে মিন্টুর শরীরের ৫ টি খন্ডিতাংশ উ’দ্ধার করা হয় ও রাজধানীর আশকোনা থেকে বিকেলে মিন্টুর মা’থা উ’দ্ধার করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    51
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: