সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

পূর্বপুরুষের কবরে শ্মশানের মাটি: কাঁদলেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জের দুটি সংসদীয় আসনের দুই সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও একেএম সেলিম ওসমানের পরিবারের পূর্বপুরুষ ও বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ কবরে কবরস্থানের পাশের শ্মশান থেকে পোড়া মাটি এনে কবর ঢেকে দেওয়াসহ কবরের ওপর দিয়ে কবরস্থানে চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছে কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

সোমবার (৯ আগস্ট) এ খবর পেয়ে দুপুরে কবরস্থানে ছুটে যান শামীম ওসমান। তিনি সেখানে গিয়ে এ অবস্থা দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ সময় তিনি কবরগুলো আগের অবস্থায় ফিরিতে আনতে সেখানে দায়িত্বরতদের ৪৮ ঘণ্টা সময় দেন। এসময় শামীম ওসমান তাদের কাছে জানতে চান একইভাবে তাদের পরিবারের প্রয়াতদের কবরে যদি শ্মশানের পোড়া মাটি দেওয়া হয় তাহলে সেটা তারা মানবেন কিনা, উত্তরে সকলেই ‘না’ জানিয়ে কাজটি সঠিক হয়নি বলেন।

শ্মশানের মাটি দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব এম. ওসমান আলী, দাদি জামিলা ওসমান, বাবা আবুল খায়ের মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, মা নাগিনা জোহা ও বড় ভাই একেএম নাসিম ওসমানসহ ওসমান, একাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকগুলো সাধারণ কবরে। অনেক কবরের অস্তিত্বই হারিয়ে গেছে এই পোড়া মাটিতে চাপা পড়ে। কিছু কবরের চিহ্ন রয়েছে।

এ সময় শামীম ওসমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাকে ও আমার পরিবারকে ধৈর্য ধরার শক্তি দেন। আমি গত ২৭ জুলাই মেয়র আইভীর মা ও আলী আহমদ চুনকা সাহেবের স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে এখানে আসি। তখন দেখেছিলম শ্মশানের সংস্কার কাজ চলছে এবং এখানে মাটি পড়ে আছে। তখনো আমার বাবা-মা, দাদা-দাদি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর ঠিকঠাক ছিল। এখন এই জায়গা তিন ফুট উঁচু। আজকে আমার মনে হচ্ছে আমি একজন ব্যর্থ সন্তান। আমি সিটি করপোরেশনকে দায়ী করবো না। আমি মনে করি এটা কোনো মানুষের কাজ না, এটা ইবলিশের কাজ।

‘যারা এ কাজটা করেছেন বা করিয়েছেন তাদের কাছে আমার একটাই জিজ্ঞাসা, কী লাভ হলো এটা করে। আমারা বাবা-মা, ভাই মারা যাওয়ার পর আমার যেমন কষ্ট হয়েছিল, আজকে তার চেয়ে কোনো অংশে কম কষ্ট হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, এখানে আমার পূর্বপুরুষের কবর। আমরা এর সংস্কার করি, ঠিক করি। সবাই যার যার পরিবারেরটা করে। তাহলে কেন এই মাটিটা এত উঁচু করা হলো। আমি ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছি এটা তার কার্যাদেশে ছিল কিনা। সে বলেছে ছিল না। তাহলে এ কাজটা করল কে। একজন আরেকজনের দোষ দিচ্ছে।

শামীম ওসমান বলেন, হিন্দুধর্মের যারা মৃত্যুবরণ করতেন তাদের মরাদেহ দাহের পরে এই পানিতে ফেলা হতো। সেই শ্মশানের মাটি দিয়ে কবরগুলো ভরা হয়েছে। কেন, মাটির এতই অভাব ছিল। আমার বাপ-দাদার কবর আমার পারমিশন ছাড়া আপনি সংস্কার করবেন কেন।

তিনি আরো বলেন, যারা এই কাজটি করেছেন, আল্লাহরওয়াস্তে বলছি আপনাদের। আমার ধৈর্যের আর পরীক্ষা নেবেন না। আপনারা নিজেরাও আজাবের হাত থেকে বাঁচার জন্য কবরগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসুন। নয়তো আল্লাহ আপনাদের মাফ করবেন না৷ না করলে আমি ঠিক করবো। এই মাটি রাস্তার পাশেও রাখা যেত। এখানে কেন রাখা হলো। এখানে জাতির বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা শোয়া।

‘আমি গাড়িতে একা একা বসেছিলাম। আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি সরকারকে বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জবাসীকে বলতে চাই, দয়া করে আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আমি জানি জনগণের সাথে আমার সম্পৃক্ততা কতটুকু। এই অমানবিক কাজের ফলেই আল্লাহ আজাব দিচ্ছেন। যারা এই কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।’

এটা টেস্ট কেস। তারা চেষ্টা করছে আমার মাথা গরম করে দেওয়ার জন্য। আমি তাদের বলতে চাই আমার মাথা গরম হবে না। আমি শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করি। এই সমস্ত পাপীদের আমি কেয়ার করি না।

তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের কাছে অনুরোধ করবো দয়া করে কবরগুলোকে আগের অবস্থায় নিয়ে আসুন। শুধু আমার পরিবারেরটা না। অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তাদেরটাও।

কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ও উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার মামুন জানান, এটা উচিত হয়নি। আমি মাটিগুলো বাইরের সড়কে রেখেছিলাম। কিছু বৃষ্টিতে আসার কথা তবে এটা তারা ভরাট করে চলাচলের জন্য তৈরি করেছে আর কিছু তারাই ভরেছে। জসিম নামে একজন আছে আমি চিনি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবরস্থান মসজিদের ইমাম বদরশাহ জানান, কবরস্থানে শ্মশানের মাটি দেওয়া সমীচীন নয়। এখানে ধর্মীয় বিষয় না তবে এটা মানবিক দিক থেকেই উচিত নয়। আমি মসজিদে নামাজ পড়াই ও দোয়া করি। এ বিষয়টি আমি দেখভাল করি না। তবে নাপাক মাটি কবরে দেওয়া উচিত নয়।

মসজিদের মোয়াজ্জিন ও কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা জাকারিয়া জানান, এটা শ্মশানের মাটি কিনা আমি নিশ্চিত না। ঠিকাদাররা শ্মশান ও কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ করেছে।

শামীম ওসমানের ছাড়া এখানে থাকা একাধিক কবরের স্বজনরা খবর পেয়ে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এ ঘটনায় নাসিকের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই স্থানে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পূর্বপুরুষদের কবরও রয়েছে আর তাই অন্য কবরগুলোর প্রতি এহেন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। সূত্র : আজকালের খবর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 29
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    29
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: