সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দেশের রাঘববোয়ালদের তালিকা এখন সিআইডির হাতে

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি, রাজ, মডেল পিয়াসা ও মৌ এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, মাদকব্যবসাসহ নানা অভিযোগে দায়ের হওয়া ৭টি মামলার তদন্তভার সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয় শুক্রবার।

এর পর তদন্তে মাঠে নামে সিআইডির তদন্ত টিম। সিআইডির তদন্তে বিতর্কিত এসব নায়িকা, মডেলদের কর্মকাণ্ডে দেশের রাঘববোয়ালদের তালিকা এসেছে সিআইডির হাতে।

এদের সঙ্গে কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান, দেশের বড় ব্যবসায়ীসহ আরও অনেকের নাম জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, নায়িকা ও মডেলদের কর্মকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে নজরদারিতে রেখেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসা নামের তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্বে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।

এরই মধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তালিকায় নাম থাকা সবার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচিত নায়িকা, মডেল, কথিত প্রযোজকদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যানের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছি আমরা। এদের মধ্যে অনেকেই দেশের ভিআইপি।

এদিকে রোববার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, গণমাধ্যমে পরীমনির বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অনেক ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যানের নাম এসেছে। কিন্তু তারা আদৌ জড়িত কিনা, তা পুঙ্খানুঙ্খুভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, পরীমনির বিভিন্ন কাণ্ডে অনেক মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অনেকের নাম পাচ্ছি, ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যানের নামও। কিন্তু এ নামগুলো আমাদের (প্রশাসন) পক্ষ থেকে বলা হয়নি, গণমাধ্যমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা পরীমনি, পিয়াসা, মৌ, রাজসহ প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা আলামত সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তদন্তের এই পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে।

তবে এই মুহূর্তে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের প্রতারণা, অনৈতিক কার্যক্রম ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নানা পেশার অনেক নাম আমরা জেনেছি। এসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের নাম এসেছে তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে গতকাল গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর, চিত্রনায়িকা পরীমনি, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের বাসায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাদের বাসায় নতুন করে কি কি পাওয়া গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পেন-ড্রাইভ ও বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।

সেগুলো ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টে দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার এই অভিযান চালানো হয় বলেও জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, তদন্তে নেমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই তালিকার সূত্র ধরে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সিআইডি। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সিআইডি থেকে।

দেশের সবগুলো ইমিগ্রেশনকে তাদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এদের কারো নাম বলতে চায়নি সিআইডি। কৌশলগত কারণে তারা জানাতে চান না। পরে এরা সাবধান হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে এসব মামলা তদন্তে তদারক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযান পরিচালনার জন্য পৃথক টিম গঠন করেছে সিআইডি।

জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, জড়িতদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের নাম এসেছে তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আইনের মধ্যে থেকেই মামলা তদন্ত করবে সিআইডি, সুষ্ঠুভাবে তদন্তকাজ সম্পন্ন হবে। পরীকাণ্ডে তদন্তে কোনো ইনোসেন্ট লোক যাতে ক্ষতি বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার না হন সেটিও আমরা বিবেচনায় রেখেছি। পুরোপুরি সত্যতা ছাড়া আমরা কারো নাম ডিসক্লোজ করছি না।

সিআইডির তদন্ত সম্পৃক্ত একজন জানায়, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার তালিকায় রাঘব ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এসব ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আয় করা অর্থের উৎসের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকা পরীমনি জিজ্ঞাসাবাদে তার বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে চয়নিকা চৌধুরী ও জিমির সম্পৃক্ততার কথা জানান। এজন্য তাদের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে চয়নিকা চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

পরীমনির অন্ধকার জগতে জড়িয়ে পড়ার পেছনে অন্যতম সাহায্যকারী এই জিমি। গত শুক্রবার পরীমনির এই সহকর্মী কস্টিউম জিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমিকেও গ্রেপ্তার করে ডিবি। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, যাকে নিয়ে রাত-বিরাতে বিভিন্ন ক্লাবের পার্টিতে পরীমনিকে অংশ নিতে দেখা গেছে। জিমি পরীমনির সঙ্গে সঙ্গী হয়ে অনেক দেশ ঘুরতে যেতেন। তার সঙ্গে বিত্তবানরা থাকতো। বিনিময়ে জিমি তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতো। পরীমনির এই অন্ধকার জগতে জড়িয়ে পড়ার পেছনে অন্যতম সাহায্যকারী এই জিমি।

এর আগে গত ৩১ জুলাই রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মোহাম্মদপুরের বাবর রোড থেকে মডেল মৌ আক্তারকে রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানীর অভিজাত এলাকার গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্য প্রদান করে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গত বুধবার বিকেলে নায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একই দিন রাত ৮ টায় অভিযান চালিয়ে প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজের বাসাতেও অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত শুক্রবার পরীমনির সহকর্মী কস্টিউম জিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমিকেও গ্রেপ্তার করে ডিব। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযানে গ্রেপ্তার প্রত্যেকের বাসা থেকে বিভিন্ন প্রকার বিদেশি মদ, ইয়াবা, শিশা সামগ্রী, এলএসডি, আইস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: