সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

একদিকে আফগান শরণার্থী অন্যদিকে দাবানল, কী করবে তুরস্ক?

দিন যত যাচ্ছে কাবুলের দিকে দৃঢ় পায়ে এগুচ্ছে তা’লেবান। আ’ফগা’নিস্তানে নিত্য নতুন এলাকা চলে যাচ্ছে তা’লেবানের অধীনে। কোথাও স্বেচ্ছায় কোথাওবা সং’ঘর্ষ করেই এই সব এলাকার দখল নিচ্ছে তা’লেবান। আবার আশরাফ ঘানি সরকারের সম’র্থনে তা’লেবানের বিভিন্ন পজিশনে হা’মলা করছে যু’ক্তরাষ্ট্র।

মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্র আসলেই আ’ফগা’নিস্তান পুরোপুরি ছেড়ে যাবে কিনা বলা মুশকিল। তবে তারা নতুন এক শরণার্থী স্রোত তৈরি করতে চাচ্ছে যার ভুক্তভোগী হবে আ’ফগা’নিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং তুরস্ক।

আ’মেরিকা ৫০ হাজার আ’ফগা’নকে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে কত বছরে গ্রহণ করবে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। আরেকটা বিষয় তারা বলেছে। আ’মেরিকা এই আ’ফগা’ন শরণার্থীদের আ’ফগা’নিস্তান থেকে নিবে না। নিবে অন্য কোনো তৃতীয় দেশ থেকে। অর্থাৎ কেউ যদি আ’মেরিকায় শরণার্থী হিসেবে যেতে চায় তাকে হয়তো পা’কিস্তান, নয়তো তুরস্ক নয়তো অন্য কোন দেশে যেতে হবে আবেদন করার জন্য।

আর এই আবদেন করলেও তাকে আবেদনের পর ১২ থেকে ১৪ মাস অ’পেক্ষা করতে হবে ফাইনাল ফলাফল জানতে। অর্থাৎ কোনো আ’ফগা’ন আ’মেরিকায় শরণার্থী হিসেবে যেতে চাইলে অন্য কোন দেশে গিয়ে ১২-১৪ মাস থাকতে হবে। পরে ভাগ্য ভিসা জুটলে যাবে না হলে কী’ করবে? এর কোনো উত্তর নেই। তবে একটা বিষয় এখানে নিশ্চিত যে আ’মেরিকার এই চাল নতুন করে শরণার্থী স্রোত চালু করবে পা’কিস্তান এবং তুরস্কে।

হয়তো কোনো বছর ১০০-২০০ আ’ফগা’ন নেবে তারা কিন্তু এই ১০০-২০০ লোককে দেখে আ’মেরিকায় যাওয়ার জন্য হাজার হাজার লোক পাড়ি জমাবে এই তৃতীয় দেশে। নতুন এক শরণার্থী সংকট। কিছুটা বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের জাকাতের কাপড় দেয়ার মতো।

১০টা কাপড় দেয়ার জন্য সারা এলাকায় মাইকিং করে পরে শত শত লোক আসে সেই কাপড় নিতে। আর ডজন ডজন মানুষ মা’রা যায় সেই ভিড়ে। তাতে ওই নেতার কোনো ক্ষতি হয় না ক্ষতি যা হয় জনগণের।

যাইহোক, আ’ফগা’নিস্তানে এখন তা’লেবানের অগ্রগতি দ্রুত বাড়ছে। নিত্য নতুন এলাকা দখলে নিচ্ছে তা’লেবান। কিছু কিছু জায়গায় তা’লেবানকে স্বাগত জানাচ্ছে সাধারণ জনগণ আবার কোন কোন এলাকায় তা’লেবান বিরোধী মিছিলও করছে লোকজন।

আসলে এই ধরনের যু’দ্ধ বি’ধ্বস্ত দেশে সাধারণ লোকজনের চাওয়া পাওয়ার কোনও মূল্য থাকে না। বছরের পর বছর তারা শুধু ভুক্তভোগী হয়েই বেঁচে থাকে। রাষ্ট্র যখন অকেজো হয়ে যায় সরকার তখন দেশের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। শক্তিশালী গোষ্ঠী গুলো চড়াও হয় সাধারণ জনগণের ওপর। তাই সাধারণ জনগণের তখন সুখ দুঃখ বলার বা দেখার কেউ থাকে না।

তারা তখন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অধীনেই নিজের পরিবারের জন্য শান্তি খোঁজে।

গত ৪২ বছরে আ’ফগা’নিস্তানের জনগণ এই শান্তিটুকু পায়নি। প্রথম এক গ্রুপ এসে তছনছ করে দেয় তাদের শান্তির নীড়। পরে আসে আরেক গ্রুপ।সোভিয়েত রাশিয়া থেকে শুরু করে এভাবেই চলে আসছে সেখানে। জনগণ সেখানে শুধু একটু শান্তি চায়, দুবেলা দুমুঠো খাবার চায়।

রাষ্ট্র ক্ষমতায় কে এলো আর কে গেলও তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিজের ভবিষ্যৎ এবং জানমালের নিরাপত্তা যে দেবে সেই তাদের কাছে দেবতা সমতুল্য। এ কারণে এরকম যু’দ্ধ বি’ধ্বস্ত এলাকায় লোকজন সবসময় শক্তিশালীর পাশে দাঁড়ায়। আর যারা টিকতে না পারে তারা সবকিছু ছেড়ে আশ্রয় নেয় কোন শরণার্থী শি’বিরে বা পারি জমায় অন্য কোন দেশে।

এরকম লাখ লাখ আ’ফগা’ন আশ্রয় নিয়েছে পা’কিস্তান, তুরস্ক, ই’রান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, আ’ফগা’নিস্তানের আনুমানিক ৩০ লাখ লোক শরণার্থী শি’বিরে বাস করছে। এর মধ্যে পা’কিস্তানে আছে ১৮ লাখ আর ই’রানে ৯ লাখ। এর বাইরে যে কত লোক উদ্বাস্তু হয়ে আছে কে রাখে তার হিসেব।

এই আ’ফগা’ন শরণার্থীদের নিয়ে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী তাদের শুরুতেই আসবে পা’কিস্তান এবং তুরস্কের নাম। আ’ফগা’ন শরণার্থীর ভা’রে পা’কিস্তান প্রায় মুহ্যমান।

আর তুরস্কের কথা কী’ বলবো। এক দিকে ৪৬ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী, অন্যদিকে ই’রাকী’, আর আ’ফগা’নি। সাথে আছে পা’কিস্তান, বাংলাদেশ, এবং অনেক আফ্রিকান দেশ থেকে আসা হাজার হাজার অ’বৈধ অ’ভিবাসীদের চাপ। সবকিছু মিলিয়ে দেশটিতে শরণার্থী আর অ’ভিবাসীদের সংখ্যা ৫০ লাখের উপড়ে। তুরস্কে এখন কত আ’ফগা’ন শরণার্থী আছে এ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে ধারণা করা হয় এই সংখ্যা কয়েক লাখ হবে।

আ’ফগা’ন শরণার্থীদের নিয়ে টেনশনে তুরস্ক

Xinhua এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী তুরস্কে ৪ লাখ আ’ফগা’ন শরণার্থী আছে। দেশটিতে সিরিয়ার শরণার্থীদের পরেই হবে আ’ফগা’নদের অবস্থান।

এখন আবার নতুন করে ধেয়ে আসছে শরণার্থী স্রোত। তুরস্কের দিকে ছুটছে হাজার হাজার আ’ফগা’ন শরণার্থী। ৩০-৪০ দিন হেটে তারা পৌঁছে তুরস্কের সীমান্তে। আ’ফগা’নিস্তান হয়ে ই’রানের মধ্য দিয়ে আসছে তুরস্কে। তুরস্কের সীমান্তে ই’রান তাদেরকে রুখে দিতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে খবর আসছে। আসলে তুরস্ক এবং ই’রান সীমান্ত পাহারা দেয় শুধু তুরস্কের সে’নাবাহিনী। আর ই’রানের তুরস্ক তাদেরকে ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।

ই’রান সীমান্তে অ’তিরিক্ত সে’না মোতায়েন করেছে এই শরণার্থী ঠেকানোর জন্য। কিন্তু জঙ্গল আর পাহাড়ে ঘেরা এই সীমান্তের প্রতি ইঞ্চি পাহারা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই প্রতিদিন নতুন নতুন আ’ফগা’ন শরণার্থী আসছে তুরস্কে।

তুরস্কে এখনও আছে কয়েক লাখ আ’ফগা’ন শরণার্থী। তাই দেশের মধ্যে আ’ফগা’ন শরণার্থী বিরোধী মনোভাব এখন তুঙ্গে। মানুষজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তাদের বির’ক্তি প্রকাশ করছে। বিরোধী দলগুলো এটাকে বড় একটা ইস্যু তৈরি করছে। তুরস্কে চলতে থাকা দাবানলের মধ্যেও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এই নিয়ে তুলোধুনা করেছেন রাষ্ট্রপতি এরদোয়ানকে।

প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা অ’ভিযোগ করেছেন, আরও বেশি আ’ফগা’ন শরণার্থী গ্রহণ করতে তুরস্ক মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তিনি এখানে কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয় নিয়েও সরকারকে দোষারোপ করেন। যদিও তুরস্কের সে’নাবাহিনীর কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার যে আলোচনা এতদিন চলে আসছে এখনও সেখানে কোন সুরহা হয়নি।তা’লেবান তুরস্কের এই ইচ্ছার বি’রুদ্ধে তার অবস্থান নমনীয় করেনি। কিন্তু তুরস্ক সেখানে থাকতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে ন্যাটোর অধীনে আ’ফগা’নিস্তানের স্পেশাল ফোর্সকে ট্রেনিং দেয়া শুরু করেছে তুরস্ক।

ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো তুরস্কের কাবুল বিমানবন্দরে থাকার পূর্ব প্রস্তুতি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তা’লেবানের ঘোর বিরোধিতা সত্ত্বেও তুরস্ক যদি কাবুল বিমানবন্দরে থাকে তাহলে কী’ হবে? আজকে সে আলোচনায় গেলাম না। আরেকদিন এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার আশা রেখে আ’ফগা’নিস্তান নিয়ে আজকে এখানে ইতি টানি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    30
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: