সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু করোনার দ্বিগুণ

দেশে করো’নার পাশাপাশি এর উপসর্গ নিয়ে মা’রা যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। পাঁচ জে’লার পাঁচটি বড় হাসপাতা’লের বিগত সাত দিনের চিত্র বলছে, এ সময় করো’না শনাক্ত রোগীর মৃ’ত্যুর চেয়ে উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেছেন প্রায় দ্বিগুণ মানুষ।

এই পাঁচ জে’লা হলো চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ফেনী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ। কোনো কোনো হাসপাতা’লে উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যা শনাক্ত রোগীর মৃ’ত্যুর চেয়ে অনেক বেশি। যেমন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে গত ২৮ জুলাই থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সাত দিনে করো’না শনাক্ত হয়ে মৃ’ত্যু হয় ১৩ জনের। বিপরীতে উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেছেন ৫২ জন।

মোটামুটি একই চিত্র ফেনী জেনারেল হাসপাতা’লের। সেখানে ৭ দিনে ৯ জন শনাক্ত রোগীর মৃ’ত্যুর বিপরীতে উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু হয় ২৮ জনের। একই সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে শনাক্ত রোগীর মৃ’ত্যুর সংখ্যা ৩৭, উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু ৬২ জনের।

বিগত এক সপ্তাহে উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে। সেখানে উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেছেন ৭৭ জন। আর করো’না শনাক্ত রোগী মা’রা গেছেন ৪৬ জন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে করো’না শনাক্ত রোগীর মৃ’ত্যুর সংখ্যা ১৫, উপসর্গ নিয়ে ১৯ জনের।

এর বাইরে খুলনার পাঁচটি হাসপাতা’লে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে গত এক সপ্তাহে করো’নার উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেছেন চারজন রোগী। আর করো’নায় মা’রা গেছেন ৩৩ জন। অবশ্য কিছুদিন আগেও খুলনায় উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যুর ঘটনা বেশি ছিল।

হাসপাতা’লের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করো’নার উপসর্গ নিয়ে যাঁরা মা’রা যান, তাঁদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয় না অথবা পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই রোগীর মৃ’ত্যু হয়। এর একটি কারণ নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে চাপ অনেক বেশি। জে’লা পর্যায়ে এক বা দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা ও ফলাফল পাওয়া দুষ্কর। গ্রামের মানুষ রোগীদের এমন সময়ে হাসপাতা’লে নিয়ে যান, যখন অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে চলে যায়। এতে পরীক্ষা ও ফল পেতে সময় পাওয়া যায় না।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগারের দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা ১৮৮টি। সেখানে দিনে ৪৫০ থেকে ৬০০ নমুনা জমা পড়ছে। চাপ বেশি বলে রোগী হাসপাতা’লে ভর্তি হলেও পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মাইক্রো ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম আকবর কবির প্রথম আলোকে বলেন, নমুনা পরীক্ষার চাপ বেশি বলে অনেক নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হয়। ঢাকায় নেওয়া, পরীক্ষা ও ফল পেতে অনেক সময় লেগে যায়।

উপসর্গ নিয়ে মৃ’তের তালিকায় যাঁদের নাম ওঠানো হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বা’সক’ষ্টের সমস্যা বেশি পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসব রোগীর জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গও থাকছে। তবে তা শুরুর দিকে বেশি দেখা যায়। পরে রোগীর তীব্র শ্বা’সক’ষ্ট দেখা দিলে স্বজনেরা হাসপাতা’লে নিয়ে আসেন। অবশ্য কারও কারও ক্ষেত্রে মা’থাব্যথা, গলাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি না থাকা ও স্বাদ না পাওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

খুলনায় করো’নার উপসর্গ নিয়ে মা’রা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন জিনাত আলী ফকির। তাঁকে গত ৭ জুলাই হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়। তাঁর ছে’লে মো. জাকারিয়া বলেন, ‘বাবা খুব বেশি অ’সুস্থ ছিলেন না। ৮ জুলাই সকালে বাবার করো’নার নমুনা দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মা’রা যান। মৃ’ত্যুর দুই দিন পর মুঠোফোনে খুদে বার্তা আসে যে বাবা করো’না পজিটিভ ছিলেন।’

কারও কারও ক্ষেত্রে সব উপসর্গ থাকার পরও পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসছে বলে উল্লেখ করেন ফেনী জেনারেল হাসপাতা’লের আবাসিক চিকিৎসা কর্মক’র্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, উপসর্গ নিয়ে মা’রা যাওয়া রোগীরা শ্বা’সক’ষ্ট, কাশিসহ খুব খা’রাপ অবস্থায় হাসপাতা’লে ভর্তি হন। তাঁদের করো’নার সব উপসর্গ থাকে। তবে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় কোনো কোনো করো’না শনাক্ত হয়নি বলে দেখা যায়।

সারা দেশেই উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু বাড়ছে

করো’নার উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) প্রতিবেদনেও। সংস্থাটি দেশে মহামা’রির শুরু থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করো’না নিয়ে দুই সপ্তাহ পরপর প্রতিবেদন দিয়ে আসছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ১৯ মা’র্চ থেকে এ বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত সময়ে করো’নার উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ২ হাজার ৯৩৯ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃ’ত্যুর ঘটনা ঘটে ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই—এই দুই সপ্তাহে। এ সময় সারা দেশে উপসর্গ নিয়ে ৪৮৬ জন মা’রা যান।

সিজিএস বলছে, করো’নার উপসর্গ নিয়ে এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মৃ’ত্যু কম ছিল। তবে জুন থেকে তা বেড়েছে। সিজিএসের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করো’নার উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু বেড়েছে, এ নিয়ে কোনো স’ন্দেহ নেই।

‘দাফনের আগে হলেও পরীক্ষা করাতে হবে’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করো’না সংক্রমণের শুরু থেকে উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যুর বিষয়ে ঢিলেমি দেখা গেছে। পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। রোগীকে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে। রোগী করো’নায় মা’রা গেলেন কি না, তা শনাক্ত করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি। পাশাপাশি করো’না সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র বুঝতে পরীক্ষা করা দরকার।

করো’নাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরাম’র্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য নজরুল ইস’লাম প্রথম আলোকে বলেন, উপসর্গ নিয়ে মৃ’ত্যু হলে অবশ্যই দাফনের আগে হলেও করো’নার পরীক্ষা করাতে হবে। ফলাফল অনুযায়ী ওই ব্যক্তির আশপাশের মানুষকে সতর্ক করা জরুরি। অনেকেই অবশ্য পরীক্ষার সে সুযোগ পাচ্ছেন না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 79
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    79
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: