সর্বশেষ আপডেট : ১৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মৌলভীবাজারে সা’পের উপদ্রপ’ নেই বিষের চিকিৎসা,আসতে হয় সিলেটে!

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট পাহাড় আর বনজঙ্গলে ঘেরা। এ বিভাগের জে’লা মৌলভীবাজারে সা’পের উপদ্রপ খুব বেশি। কিন্তু নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা। এখানে সা’পের কা’মড়ের রোগীকে চিকিৎসা নিতে কয়েক ঘণ্টার সড়ক পাড়ি দিয়ে আসতে হয় বিভাগীয় শহর সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে।

বিষধর সা’প কা’মড়ালে দ্রুত অ্যান্টিভেনম নেওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকরা পরাম’র্শ দিলেও বন ও চা বাগান অধ্যুষিত এ জে’লায় সেই সুযোগ নেই।

বন্যপ্রা’ণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মক’র্তা শহিদুল ইস’লাম জনান, বাংলাদেশে ২৭টি বিষধর সা’পসহ ৭৯ প্রজাতির সা’পের সন্ধান পাওয়া গেছে; যেগুলোর বেশিভাগের অস্তিত্ব লাউয়াছড়া বনসহ মৌলভীবাজারে রয়েছে।

বছর দশেক আগের এক গবষেণায় ৫২ প্রজাতির সরিসৃপের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব সা’পের মধ্যে লাউয়াছড়া বনে অজগর, কিং কোবরা, দাঁড়াশ, আইড ক্যাট স্নেক, সবুজ বোড়া, লাউডগা, কালনাগিনী, দুধ’রাজ, ঢোঁড়া, হিমালয়ান ঢোঁড়াসহ ৩৯ প্রজাতির সা’পের সন্ধান পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, “অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সা’পের সংখ্যা বেড়েছে। বনকর্মীরা টহলে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন প্রজাতির সা’প দেখতে পান।”

বাংলাদেশ বন্যপ্রা’ণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গলের সহকারী বন সংরকক্ষ শ্যামল কুমা’র মিত্র বলেন, “এ এলাকায় কাউকে বিষাক্ত সা’পে কা’মড় দিলে সিলেট পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে বাঁ’চানো সম্ভব না। মৌলভীবাজারে অ্যান্টিভেনম থাকা খুবই প্রয়োজন।

তিনি জানান, সম্প্রতি সা’পে কা’টা এক ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সেখান থেকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতা’লে নেওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। কিন্তু সিলেটে নেওয়ার পথে তিনি মা’রা যান।

শ্রীমঙ্গলের জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা চৌধুরী জানান, তার বাগানের এক শ্রমিককে বিষধর সা’পেকা’টার পর শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার হাসপাতাল ঘুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই তার মৃ’ত্যু হয়।

শ্রীমঙ্গলে সা’পে কা’টার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান গো’লাম মোহাম্ম’দ শি’বলী বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে। এসব চা বাগানের ঝোপঝাড়ে বিপুল সংখ্যক বিষধর সা’প আছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রা’ণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, গত বছর কুলাউড়ায় সা’পের কা’মড়ে চা শ্রমিকসহ দুই নারী মা’রা যান। প্রায়ই সা’পের কা’মড়ের শিকার হচ্ছে এ জে’লার মানুষ।

তিনি জানান, গত ২৪ জুলাই শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের প্রফুল্ল দেবের আট বছর বয়সী ছে’লে প্রীতম দেবকে বাড়ির পাশে ছড়ার পাড়ে সা’পে কা’মড় দেয়। তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়া হয়। এর আগের দিন শ্রীমঙ্গলের ডুলুছড়া এলাকায় এক দোকান থেকে বিশাল এক দাঁড়াশ সা’প উ’দ্ধার করা হয়।

১৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলের জেরিন চা বাগান থেকে তিনটি জীবিত এবং দুটি মৃ’ত সা’প উ’দ্ধার করা হয়; যার মধ্যে তিনটি বিষধর সা’প ছিল। এরই একটির কা’মড়ে ১৮ জুলাই জেরিন চা বাগানের শ্রমিক সুমন মিয়া মা’রা যান। ৫ জুলাই শ্রীমঙ্গল এম আর খান চা বাগানে স্বল্প বিষাক্ত এক সা’পের কা’মড়ে আ’হত হন চা শ্রমিক অমল বাহাদুর নেপালীর ছে’লে প্রবাসী নেপালী (২৭)। তাকে তিনদিন ধরে হাসপাতা’লে চিকিৎসা নিতে হয়।

১৫ জুলাই জে’লার কমলগঞ্জ উপজে’লার তিলকপুর গ্রামে এক মনিপুরী অধিবাসীর গোয়াল ঘর থকে ১৫টি ডিমসহ বিষধর গোখরো সা’প উ’দ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রা’ণী সেবা ফাউন্ডেশন। এছাড়া, ১১ জুলাই শ্রীমঙ্গল পৌরসভা’র কাঁচা বাজার থেকে বিপন্ন প্রজাতির মৃদু বিষধর আইড ক্যাট স্নেক, ১০ জুন শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে কাঠালবাহী গাড়ি থেকে বিপন্ন প্রজাতীর একটি মৃদু বিষধর আইড ক্যাট স্নেক উ’দ্ধার করা হয়। এছাড়াও চলতি বছরে আরও অসংখ্য সা’প উ’দ্ধার হয়েছে বলে জানান সজল।

সা’পে কা’টা চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় আক্ষেপ করে বাংলাদেশ বন্যপ্রা’ণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, বহুদিন ধরে মৌলভীবাজারে সা’পে কা’টার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হলেও ‘কোনো কাজ হয়নি’। বন-জঙ্গলেই নয় ইঁদুর খেতে বাড়িঘরেও প্রচুর সা’প চলে আসে বলে জানান তিনি।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতা’লের তত্ত্বাধায়ক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক বলেন, সা’পের কা’মড়ে অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা দেওয়ায় ‘বেশ কৌশল রয়েছে’। প্রশিক্ষণ ছড়া এটি দেওয়া সম্ভব না। এর জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আইসিইউ বেড থাকলে ভালো হয়। কারণ অ্যান্টিভেনম প্রদানের সময় বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় (অ্যানাফাইলেকটিক শক) রোগীর মৃ’ত্যু হতে পারে।”

মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক সা’পের উপদ্রবের ব্যাপারে অবগত থাকার কথা উল্লেখ করে জে’লার সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মৌলভীবাজারের জন্য সা’পের অ্যান্টিভেনম বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সা’পের কা’মড়ের চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অ্যান্টিভেনম চিকিৎসার জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আইসিইউ ছাড়াও অ্যান্টিভেনম দেওয়া যাবে। তবে দেওয়ার সময় সমস্যা দেখা দিলে তখন আইসিইউতে স্থা’নান্তর করতে হবে।”

অন্যদিকে, সিভিল সার্জন এ চিকিৎসার নিদের্শনা দিয়েছেন জানিয়ে উপজে’লা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা বলেছেন, এ চিকিৎসা দেওয়ায় তারা এখনও ‘প্রস্তুত নন’।

শ্রীমঙ্গল উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, তাদের হাতে এখনও অ্যান্টিভেনম এসে পৌঁছায়নি। তাছাড়া এটি দেওয়ার জন্য তারা এখনও প্রস্তুত না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: