সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৩ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নিজের ঘরে প্রথম ঈদ তাদের

বার নিজের ঘরে প্রথম ঈদ করবেন আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া পরিবারগুলো। এজন্য প্রতিটি পরিবার খুবই আনন্দিত উচ্ছ্বসিত। তবে এসব পরিবারের মধ্যে কেউই কোরবানি দিবে না। তারা রুটি সেমাই রান্না করে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানান।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজে’লার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে ৭০টি ও ঘাগটিয়া গ্রামে নির্মিত ৭৬টি আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, নিজের ঘরে প্রথম ঈদ পালনের আনন্দে ভাসছে প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাওয়া পরিবারগুলো।শি’শুরা ছুটাছুটি করছে ঘরে ঘরে। আবার অনেকেই নিজের কাজ করছেন। নারীরা নিজ নিজ ঘর গোছাতে ব্যস্ত।

কথা হয় শি’শু সখিনার সাথে। সখিনা বলে, এখানে এসে আমা’র ভালো লাগছে। জায়গাটি খুব সুন্দর। অন্যদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। সবার সঙ্গে মিলে মিশে খেলাধুলা করতে পারি। আমাদের লেখা পড়া করার জন্য স্কুল নাই এখানে একটি স্কুল ও ম’সজিদ হলে আরও ভাল হত।

আব্দুল মতিন (৭০)বলেন, আমাদের কোরবানি দেয়ার তৌফিক নাই। এজন্য কোরবানি দিব না। তবুও আম’রা খুশি। খাই আর না খাই নিজের একটা ঘর পাইছি। এইটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। এবার ঈদটা নিজের ঘরেই পালন করতে পারমু। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আম’রা কৃতজ্ঞ।

শিরিন বেগম (৫৫) বলেন, অন্যের বাড়িতে থাকতাম, কোনো স্বাধীনতা ছিল না। ছে’লে মে’য়েরা প্রা’ণ খুলে হাসতে পারতো না, খেলতে পারতো না। নিজের কোনো জমি জমা নাই, ঘরও ছিল না। যখন তখন মালিক ঘর ছেড়ে দিতে বলতো। মালিকের মন যোগীয়ে থাকতে হত। মনে বড় ক’ষ্ট ছিল,চিন্তায় থাকতাম একটা নিজের বাড়ি নিয়ে। এখন আর কোন চিন্তা নাই ঘর পাইছি এই বার নিজের ঘরেই ঈদ করমু।

হোসনা বেগম বলেন, এখন নিজের একটি ঘর হইছে। কেউ আর চোখ রাঙাতে পারব না। শেখ হাসিনা ঘর দিয়া আম’রার বাপ-মা’র কা’ম করছে। তারে সামনে পাইলে পায়ে হাত ধরে সালাম করতাম। ঘর পাইয়া আরও বেশি দিন বাচার ইচ্ছা করতাছে। আমা’র ছে’লে মে’য়েদেরও কোন চিন্তা নাই। এই বার নিজের ঘরে প্রথম ঈদ পালনের আনন্দে এভাবে বলছিলেন হোসনা বেগম।

আব্দুল মন্নাফ(৮০)বলেন, ঘর পেয়ে অনেক শান্তি লাগতেছে। আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি থাকছি। এই বাড়ি থেকে হেই বাড়ি গেছি। মালিকের মন জোগায়া থাকতে না পারলে বাইর কই’রা দিছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে ঘর দিয়েছেন। আমাদের মা-বাপ যা করতে পারে নাই শেখ হাসিনা আমাদের জন্য তা করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কা’মনা করেন। জায়গাটি তাদের খুব পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাশে শিমুল বাগান আর যাদুকা’টা নদী পাশেই বাঁশ বাগান আর গাছ গাছালি ঘেরা মনোরম পরিবেশে এখানে ৭০ভ‚মিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘর দেয়া হয়েছে। আব্দুল মন্নাফ(৮০), হোসনা বেগমেই নয় শিরিন বেগম, আয়েশা বেগম, রাবেয়া বেগম,সাফিয়া খাতুনসহ ঘর পাওয়া প্রত্যেকটি পরিবারের রয়েছে এমন দুঃখ দুর্দশার করুণ কাহিনী। ঘর পেয়ে ফেলে আসা সব দুঃখ দুর্দশার করুণ কাহিনী ভুলে আনন্দে আছে সবাই।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজে’লার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে হতদরিদ্র, ভ‚মিহীন ও গৃহহীনদের দু’র্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ (‘ক’ শ্রেণি) পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় উপজে’লার প্রথম ধাপে ৭০টি একেকটি সেমি-পাকা দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘরে,একটি রান্নাঘর ও শৌচাগার রয়েছে। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১হাজার টাকা। চলতি বছরের ২৩জানুয়ারি এবং বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৭৬টি ঘর ১লাখ ৯০হাজার টাকা ব্যয়ে ২০জুন উপকারভোগীদের কাছে এই ঘর গুলো প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর তাদের হাতে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেন তাহিরপুর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. রায়হান কবির।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 74
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    74
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: